এই শহরের সব বসতবাড়ি আঁকাবাঁকা হওয়ার রহস্য কী?

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০২ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৯ ১৪২৭,   ০৯ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

এই শহরের সব বসতবাড়ি আঁকাবাঁকা হওয়ার রহস্য কী?

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:৩৯ ২২ মে ২০২০  

ছবি: ল্যাভেনহ্যাম শহরের বাড়িগুলো এমনই আঁকাবাঁকা

ছবি: ল্যাভেনহ্যাম শহরের বাড়িগুলো এমনই আঁকাবাঁকা

অপূর্ব নির্মাণ শৈলীর জন্য অনেক স্থাপত্যই বিশ্বব্যাপী পরিচিত। প্রাচীনকাল, মধ্যযুগ কিংবা আধুনিক সময়ের অসংখ্য নিদর্শন পাওয়া যাবে এক্ষেত্রে। রাজপ্রাসাদ থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণের বসত বাড়িও নির্মিত হয় দৃষ্টিনন্দন নির্মাণ শৈলী অনুসরণ করে।

তবে আঁকাবাঁকা গড়নের বসত বাড়ির কথা শুনলে হয়তো অনেকেই অবাক হবেন। কোনো গল্প কিংবা কল্প কাহিনী নয় বাস্তবেই আঁকাবাঁকা বসত বাড়ির অস্তিত্ব আছে। অনেকের মনে স্বাভাবিকভাবেই এসম্পর্কে কৌতূহল জাগতে পারে। বাস্তবে থাকা অদ্ভুত আঁকারের আঁকাবাঁকা বসত বাড়ি সম্পর্কেই এই লেখা।

লন্ডনের প্রায় ৭০ মাইল উত্তর-পূর্বে অবস্থিত ছোট একটি শহর ল্যাভেনহ্যাম। এই শহরের প্রায় প্রতিটি বাড়ি অর্ধকাঠ নির্মিত এবং আঁকাবাঁকা। দেখে মনে হয় একটি বাড়ি আরেকটি বাড়ির দিকে ঝুঁকে আছে। ল্যাভেনহ্যাম মধ্য যুগের একটি সমৃদ্ধ শহর ছিল। উল বাণিজ্য এবং বস্ত্রশিল্পে কেন্দ্রিক শহরটি গড়ে উঠেছিল। পনেরো এবং ষোল শতকে ল্যাভেনহ্যামে উন্নত মানের উলের প্রাচুর্য ছিল। এই উল থেকে তৈরি ব্রডক্লোথের জন্য শহরটি বিখ্যাত হয়ে ওঠে।

পনেরো শতকের শেষের দিকে ব্রিটেনের সবচেয়ে ধনীদের শহর ছিল ল্যাভেনহ্যাম। ইয়র্ক এবং লিংকনের মতো বড় শহরের থেকেও বেশি কর দিত এই শহরের জনগণ। শহরটির গির্জাগুলো দেখলেও আভিজাত্যের নিদর্শন পাওয়া যায়। এখানে সেন্ট পিটার এবং সেন্ট পলের গির্জা নির্মাণের সময় উন্নত উলের ব্যবহার করা হয়েছিল। এর একটি টাওয়ারের উচ্চতা ১৪১ ফুট।  
 
ল্যাভেনহ্যামের জনগণ প্রায় সব স্থাপত্য এবং অন্যান্য কাজের মাধ্যমে নিজেদের আভিজাত্য প্রকাশ করত। সপ্তম হেনরি ১৪৮৭ সালে ল্যাভেনহ্যাম পরিদর্শনের সময় বেশ কয়েকটি পরিবারকে অতিরিক্ত সম্পদ প্রদর্শনের জন্য জরিমানা করেছিলেন। এ শহরটি খুব দ্রুত গড়ে উঠেছিল। 

এখানকার বেশিরভাগ বাসিন্দা সময় নষ্ট না করে কাঁচা কাঠ দিয়েই বসত বাড়ি তৈরি করত। কাঁচা কাঠ দ্বারা বাড়ি নির্মিত হওয়ায়  কাঠগুলো শুকিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংকুচিত হয়ে আকৃতি নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বাড়িগুলোর আকৃতিও বিভিন্নভাবে আঁকাবাঁকা হয়ে যায়। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো ল্যাভেনহ্যামের জনগণের সমৃদ্ধি দীর্ঘ সময় স্থায়ী ছিলনা। এসময় ইংল্যান্ডে বসতি স্থাপন করা ডাচ্ শরণার্থীরা ল্যাভেনহ্যামের থেকে অল্প দামের নতুন স্টাইলের পোশাক তৈরি করে বাজারজাত শুরু করে।  

প্রতিযোগিতা মূলক বাজারে ল্যাভেনহ্যামের বস্ত্রশিল্প টিকতে ব্যর্থ হয় । এই শহরের বস্ত্রশিল্প বেশিরভাগই বন্ধ হয়ে যায়। ল্যাভেনহ্যামের জনগণের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ হতে থাকে। ফলে কাঠ শুকিয়ে বসত বাড়ির আকৃতি আঁকাবাঁকা হয়ে গেলেও শহরবাসীর নতুন বাড়ি তৈরি করার সামর্থ্য ছিল না। যে কারণে শহরটির বাড়িগুলো বাঁকা অবস্থায়ই থেকে যায়। বর্তমানে এই বাড়িগুলো বসবাসের জন্য ব্যবহৃত হয়না। 
এখন এখানকার কয়েকটি বাড়ি চলচ্চিত্রের স্যুটিং এর জন্য ব্যবহৃত হয়। রংবেরঙের কাঠের তৈরি আঁকাবাঁকা এই বাড়িগুলো জন্য ল্যাভেনহ্যাম পর্যটকদের কাছে বেশ আকর্ষণের জায়গা।  

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস