এই রাস্তাগুলোতে গেলে মনে হবে মৃত্যু সন্নিকটে!

ঢাকা, রোববার   ১৯ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪২৬,   ১৪ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

এই রাস্তাগুলোতে গেলে মনে হবে মৃত্যু সন্নিকটে!

অনন্যা চৈ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৫২ ১৪ মে ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীতে অনেক বিপজ্জনক রাস্তা রয়েছে। যে রাস্তায় কখনো ড্রাইভ করলে আপনি নিজের পুরো অতীতই ভুলে যাবেন। এই রাস্তাগুলো এতটাই ভয়ংকর যে, আপনার মনে হবে, মৃত্যু খুব সন্নিকটে। যে কোনো মুহূর্তে আপনি অ্যাক্সিডেন্ট করে মারা যেতে পারেন।

ভাবছেন? এমনও সড়ক হয় নাকি আবার? হুম! পৃথিবীতে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ মানুষ মারা যায় সড়কে। তাই রাস্তার সঙ্গে ভয়াবহতার সম্পর্ক অনেক পুরনো। ডেইলি বাংলাদেশের পাঠকদের জন্য আজকে থাকছে এমনই কিছু রাস্তার কথা, যেগুলো অনেক ভয়ানক ও বিপজ্জনক। রাস্তাগুলো দেখতে এতটাই ভয়ানক যে, দেখেই মনে হবে খুনে প্রকৃতির। এমনই একটি রাস্তা হলো চীনের টংটিয়ান রোড। এই রাস্তাটি বিশ্বের বিস্ময়কর সড়ক হিসেবেও পরিচিত। রাস্তাটি বৃত্তাকারে ঘুরতে ঘুরতে বহু জায়গায় আকস্মিক বাঁক নিয়ে অনেক উপরে উঠে গেছে। চীনের হুনান প্রদেশে এই রাস্তাটি লম্বায় ১১ কিলোমিটার বা ৬.৮ মাইল।

টংটিয়ান রোড কেন এত বিপজ্জনক? এই (টংটিয়ান) রোডটি চীনের তিয়ানমেন পর্বতে অবস্থিত। এটি পাহাড় পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে উঠে গেছে উপরের দিকে। এই রাস্তাটিতে আছে মোট ৯৯টি কঠিন বাঁক। এই বাঁকগুলো এতোই প্রখর যে, যেকোনো সময়ে গাড়ি পাহাড়ের ওপর থেকে ছিটকে পড়ে যেতে পারে। কোথাও কোথাও এই বাঁক পাহাড়ের কিনার ঘেঁষে ১৮০ ডিগ্রি উপরে ওঠে গেছে। তাই একটু অসচেতন হলে হঠাৎ করে গাড়ি উল্টো দিকে চলতে শুরু করবে। এছাড়াও রাস্তাটি পাহাড়ের যে পাদদেশ থেকে উঠেছে ওই জায়গাটি সমুদ্র থেকে ২০০ মিটার উপরে। আর উপরের দিকে এটি সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ১,৩০০ মিটার উঁচুতে। পাহাড়ের ওপর সাপের মতো পেঁচানো এই রাস্তাটি তৈরি করতে সময় লেগেছে প্রায় সাত বছর। পাহাড়ের গা বেয়ে রাস্তাটি এমনভাবে উপরের দিকে উঠে গেছে, দেখে মনে হবে একটি ড্রাগন আকাশের দিকে উড়ে যাচ্ছে। তাহলে একবার ভাবুন কতটা ভয়ংকর হতে পারে এই রাস্তাটি?

এমনই আরো কিছু রাস্তা আছে এই পৃথিবীতে। চলুন দেখা যাক আমাদের আলোচনার তেমনই কিছু ভয়ানক রাস্তার গল্প।

জোজিলা: এই ভয়ংকর রাস্তা জোজিলা ভারতেই অবস্থিত। সেখানকার শ্রীনগর এর ভিতর দিয়ে চলে যাওয়া এ রাস্তাটি কাশ্মীর আর লানাকের সংযোগ স্থাপন করেছে। এককথায় বলা যায় লানাকের সঙ্গে গোটা পৃথিবীর যোগাযোগ হয় এই রাস্তাটির মাধ্যমে। কিন্তু ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে রাস্তাটি পুরাটাই ভারতের উঁচু পাহার জোজলায় অবস্থিত। ভয়ংকর এই রাস্তাটি শীতকালে বন্ধ করে দেয়া হয়। বছরের অন্য সময়ে মরণফাঁদ পাতা এই রাস্তা দিয়েই মানুষ চলাচল করেন।

ইশিমা ওহাশি সেতু (জাপান): ইশিমা ওহাশি সেতু। এই ভয়ংকর সেতুটি জাপানেই অবস্থিত। খাড়া ঢাল বেয়ে সে সেতুর ওপরে উঠতে বা নামতে পাকা চালকের নাকি ঘাম ছুটে যায়, আর জানটাও চলে আসে হাতে।  মূল রাস্তা থেকে ১৪৭ ফুট উচ্চতার খাড়া এই ঢালে উঠতে গিয়ে তিনি মনে করতেই পারেন, এ যেন রাস্তার মধ্যে আচমকা বসিয়ে রাখা একটি রোলার কোস্টার! ‘রোলার কোস্টার সেতু’ হিসেবে পরিচিত জাপানের এই সেতুটি। ১ দশমিক ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটি দেশটির নাকাউমি হ্রদের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে। নাকাউমি হ্রদের দুই প্রান্তের মাতসুই ও সাকাইমিনাটো শহরকে এক করেছে ইশিমা ওহাশি সেতু।

প্রায় ৪৪ মিটার লম্বা এই সেতুতে আসল রোলার কোস্টারের ভীষণ প্যাচ না থাকলেও কিছু মারাত্মক খাড়া ঢাল রয়েছে। এই সেতুর নিচ দিয়ে যাতে বড় বড় জাহাজ যেতে পারে, এই জন্য নাকি অদ্ভুতভাবে খাড়া অবস্থায় সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। যেখানে আপনি ড্রাইভ করতে গেলে নিশ্চিত ধরে নিবেন, আজই মৃত্যু হবে।

আটলান্টিক ওসান রোড: আটলান্টিক ওসান রোডটি নরওয়ের উপকূলীয় এলাকায় উত্তর পাশে অবস্থিত। এর মোট দৈর্ঘ্য ৮ হাজার ২৭৪ কিলোমিটার। এই রাস্তায় চলতে চলতে শুধু একটি কথাই নাকি মনে হয়—সাগরে ভাসছি, নতুবা রাস্তায় চলছি! এর চারপাশে সাগরের নোনা জল আর হঠাৎ চলন্ত গাড়িতে এসে লাগা ঢেউয়ের ঝাপটা এমনই ধন্দে ফেলে নরওয়ের পশ্চিম উপকূলের ‘আটলান্টিক মহাসাগর রাস্তা’। এই পথ পেরোতে ছোট-বড় মোট আটটি সেতু পার হতে হয়। তবে ৮৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের স্টোরসেইসানডে সেতুটির কথা আলাদা করেই বলতে হয়। সেতুতে ওঠার পর নিচের দিকে তাকালে মনে হয়, সামনের সেতুটি হয়তো ভাঙা কিংবা পানিতে ডুবে আছে! এমনই ভ্রমে ফেলা আটলান্টিক রোডের সবচেয়ে দীর্ঘ এই সেতুটি বিশ্বের বিপজ্জনক সেতুগুলোর একটি। কারণ এই রাস্তাটি হঠাৎ করে অনেকটা উঁচুতে উঠে গেছে আবার কোথাও অনেক নিচে নেমে গেছে। এ জন্যই এ রাস্তাটিতে গাড়ি চালানো অন্তত অনুপোযোগী।

গুয়োলিয়াং টানেল:  চীনের তাইহান পর্বতমালার মধ্যে এই রাস্তাটি নির্মিত। এটি পৃথিবীর অন্যতম ভয়ংকর রাস্তাগুলোর একটি। এই রাস্তায় প্রায় ৩০ টির মতো সুড়ঙ্গ জানালা আছে, যেখান থেকে পাহাড়ের রূপবৈচিত্র্য খুব সহজেই লক্ষ্য করা যায়। সুড়ঙ্গগুলো লম্বায় ১.২ কিলোমিটার এবং প্রস্থে ৪ মিটার। ১৯৭৭ সালের মে মাসে এই সুড়ঙ্গগুলো যান চলাচলের জন্যে উন্মুক্ত করা হয়। এটা নির্মাণ করতে সময় লেগেছিল প্রায় পাঁচ বছর। রাস্তার কাজ করার সময় বেশকিছু গ্রামবাসীও নাকি দুর্ঘটনায় মারা যায়। এ রাস্তা ১৫ ফুট উঁচু ১২ ফুট চওড়া আর প্রায় ০.৮১ মাইল দীর্ঘ।  

আজকের তালিকার সর্বশেষে রয়েছে মৃত্যু সড়ক নামে কুখ্যাত বলিভিয়ার সাউথ ইয়াংগাস রোড। প্রতিবছর এখানে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ মানুষ মৃত্যুবরণ করেন! তাই বলিভিয়ার এই রোডকে ‘মৃত্যু সড়ক’ নামেও ডাকা হয়। এই রাস্তা এতই সংকীর্ণ যে মাত্র একটি গাড়ি চলাচল করতে পারে। এই রাস্তাটি লা পাজ এবং করইকো নামক স্থান দুটির সংযোগ সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। রাস্তাটি ভূমি থেকে প্রায় ৩০০০ ফুট উপরে অবস্থিত। রাস্তার একপাশে পাহাড় থাকার কারণে এই রাস্তায় ভূমি ধস ও পাহাড় ধস হয়ে থাকে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই

Best Electronics