Alexa এই মন্দিরের ওপর দিয়ে বিমান এমনকি পাখিও উড়তে পারে না

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১২ নভেম্বর ২০১৯,   কার্তিক ২৭ ১৪২৬,   ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

এই মন্দিরের ওপর দিয়ে বিমান এমনকি পাখিও উড়তে পারে না

জান্নাতুল মাওয়া সুইটি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:২১ ১৯ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৩:২৬ ১৯ অক্টোবর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

পুরী মানেই তীর্থ স্থান। উত্তাল সমুদ্র, নীলজল। পুরী মানেই গজা ও ক্ষীরের বাহার ৷ আর অবশ্যই পুরী মানে জগন্নাথ মন্দির, জগন্নাথ দেব দর্শন৷ উড়িষ্যার পুরী শহরের জগন্নাথ মন্দির, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হিন্দু মন্দির। দর্শণীয় স্থান পুরীতে অনেকেই হয়ত গিয়ে থাকবেন! 

তবে এই মন্দিরের নেপথ্যে রয়েছে অনেক ইতিহাস ৷ এই মন্দিরের রয়েছে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যও৷ এটি বিশ্বের এমন একটি মন্দির যার নির্মাণ কলা আজও বৈজ্ঞানিকদের অবাক করে। এবার তবে জেনে নিন এই মন্দিরটির সঙ্গে জুড়ে থাকা সেসব আশ্চর্য ঘটনার বিষয়ে, যার ব্যাখ্যা আজও বিজ্ঞানীরা দিতে পারেননি।

মন্দিরের চূড়ায় লাগানো পতাকা

জগন্নাথ মন্দিরের চূড়ায় লাগানো ঝান্ডাটিকে দেখুন, এটি দেখতে হয়তো একটি সাধারণ ঝাণ্ডার মতোই। তবে এর আশ্চর্যের কথা শুনলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন। এটি পৃথিবীর একমাত্র ঝান্ডা বা পতাকা যেটি বাতাসের বিপরীত দিকে ওরে, অনেক বিজ্ঞনী এই আশ্চর্য ঘটনার ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা করেছে কিন্তু এর ব্যাখ্যা আজও কেউ দিতে পারেননি। আরেকটি মজার বিষয় হলো, পতাকাটি  প্রতিদিনই বদলানো হয়।মন্দিরের চূড়াপ্রতিদিন সকালে লাগানো হয় ও সন্ধ্যা বেলায় খুলে নেয়া হয়। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, সুবিশাল মন্দিরের চূড়ায় পতাকা বদল করতে কোনো যন্ত্র বা মেশিনের সাহায্য নেয়া হয় না। কোনো রকম সাপোর্ট বা অবলম্বন ছাড়াই খালি হাতে মন্দিরের দেয়াল বেয়ে উঠে পতাকা পরিবর্তন করা হয়। ঝড়, বৃষ্টি, রোদ বা যেকোনো প্রাকৃতিক কারণেও হোক এই নিয়মের কোনো পরিবর্তন নেই। একদিন এই নিয়মের ব্যতিক্রম হলে, পরবর্তী ১৮ বছর মন্দিরের পূজা বন্ধ থাকবে বলে জানা যায়।

এই ঝান্ডাটি এতটাই উঁচুতে অবস্থিত যে, এটিকে শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে দেখতে পাওয়া যায়। সাধারণত বেশিরভাগ মন্দিরের চূড়াতেই আমরা পাখিদের বসে থাকতে দেখা যায়। তবে আপনি জানলে অবাক হবেন, পুরীর এই মন্দিরের চূড়ায় বা এর আশেপাশে কোনো পাখিকে উড়তে দেখা যায় না। প্রায় বিগত হাজার বছর ধরে আজ পর্যন্ত কেউই এই মন্দিরের চূড়ায় কোনো পাখিকে বসতে দেখেনি।

চক্র রহস্য

এই মন্দিরে ওপর দিয়ে কোনো বিমান আজো পর্যন্ত যেতে পারেনি। বিমান এই অঞ্চলের উপর দিয়ে অবশ্যই যায়। তবে কখনোই সেটি এই মন্দিরের ওপর দিয়ে যেতে পারে না। এমনটি কেন ঘটে? আজো কেউ জানে না, কেন এই মন্দিরের ওপর দিয়ে যাওয়া বিমানের রাস্তা, নিজে থেকে পরিবর্তন হয়ে যায়। 

মন্দিরের চক্রমন্দিরটি প্রায় ৪ লাখ বর্গফুট এলাকাজুড়ে বিস্তৃত, আর এর উচ্চতা ২১৪ ফুট। এই মন্দিরের কাছে দাঁড়িয়ে এর চূড়া দেখতে পাওয়া কখনোই সম্ভব নয়। এমনকি এই মন্দিরের ছায়াও দিনের কোনো সময়ই, কোনো দিকেই পড়তে দেখা যায় না। মন্দিরের চূড়ায় লাগানো সুদর্শন চক্রটি অষ্ট ধাতুর তৈরি এবং শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে আপনি এই চক্রটিকে দেখতে পাবেন। আরো আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, ওপরের এই বিশেষ শক্তি ঝড়, বৃষ্টি এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়েও মন্দিরকে স্থির রাখতে সাহায্য করে। অথচ কি সেই অলৌকিক শক্তি? যা আজও সবার অগোচরে থেকে গেছে।

জগন্নাথ মন্দির

হিন্দুদের একটি পবিত্র স্থান এবং চার ধামের সবচেয়ে পুরনো ধাম হলো এই জগন্নাথ ধাম। যার উল্লেখ স্কন্দ পুরাণ, নারদ পুরাণ, পদ্মপুরাণ এবং ব্রম্ভ পুরানো পাওয়া যায়। রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন স্বপ্নাদেশ পালনার্থে প্রাথমিকভাবে মন্দিরটি নির্মাণের পর, জগন্নাথ মন্দিরটি দ্বাদশ শতাব্দীতে পুনঃনির্মাণ করেন গঙ্গা রাজবংশের রাজা অনন্তবর্মণ চোদাগঙ্গা। তবে মন্দিরটির কাজ সমাপ্ত করেন তার বংশধর অঙ্গভিমা দেব। যদিও মন্দিরের নির্মাতাদের নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। 

ঐতিহাসিক এই জগন্নাথ মন্দির ১০৭৮ সালে তৈরি হয়। ১১৭৪ সালে তা মেরামতের পর আজকের জগন্নাথ মন্দিরর রূপ ধারণ করে। প্রতি বছর আষাঢ় মাসে, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তদের সমাগম ঘটে মন্দিরটিতে। এই মন্দিরটির নির্মাণ শুরু হয়, ১২ শতাব্দীতে কলিঙ্গের রাজা অনন্ত বর্মন চোর গঙ্গা দেবের সময়কালে। এর নির্মাণকার্য সম্পন্ন হয়, উড়িষ্যার শাসক আনাঙ্গাভীমা দেবের শাসনকালে।

জগন্নাথ মন্দির১০ দশমিক ৭ একর জমিতে ২০ ফুট প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত জগন্নাথ মন্দির। ভোগমন্দির, নটমন্দির, জগমোহনা এবং দেউল নামে চারটি বিশেষ কক্ষ আছে মন্দিরে। ভোগমন্দিরে খাওয়া দাওয়া হয়, নটমন্দিরে আছে নাচ-গানের ব্যবস্থা, জগমোহনায় ভক্তরা পূজাপাঠ করেন এবং দেউলে পূজনীয় বিগ্রহগুলো স্থাপিত। প্রধান মন্দিরের কাঠামো মাটি থেকে কিছুটা উঁচুতে নির্মিত এবং দু’টি আয়তাকার দেয়াল দ্বারা আবৃত। 

বহিঃপ্রাঙ্গণকে মেঘনাদ প্রাচীর বলা হয় (২০০মিটার/১৯২ মিটার) এবং অভ্যন্তরীণ ঘাঁটিটি কুর্মাবেদ নামে পরিচিত (১২৬ মিটার/৯৫ মিটার)। মন্দিরে চারটি প্রবেশদ্বার রয়েছে- সিংহ, হষ্ব, খঞ্জ এবং হস্তী দ্বার। জগন্নাথ মন্দিরের আশেপাশে প্রায় ত্রিশটি ছোট-বড় মন্দির লক্ষ্য করা যায়। মন্দিরের দেউলে রয়েছে জগন্নাথ, জগন্নাথের দাদা বলরাম এবং বোন সুভদ্রাদেবীর সুসজ্জিত মূর্তি। তাদের বিগ্রহের পাশাপাশি সুদর্শন, শ্রীদেবী, ভূদেবী এবং মাধব দেবতাও ভক্তদের দ্বারা আরাধিত।

রান্নাঘরের রহস্য

এবার এই মন্দিরের যে চমৎকারটির ব্যাপারে বলতে চলেছি তা সত্যি আপনাকে অবাক করবে। এই মন্দিরে প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষের জন্য রান্না করা হয়। হাজার বছর ধরে চলে আসা এই পরম্পরা অনুসারে, এই রান্না মাটির বাসনেই করতে হয়। এই মহাপ্রসাদ বানানোর জন্য প্রতিদিন প্রায় ৮০০ জন মানুষ একসঙ্গে কাজ করে। সাতটি হাঁড়িকে একের পর এক রেখে, রান্না করা হয়। তবে অবাক করা বিষয়টি হলো, সবচেয়ে উপরের হাঁড়ির রান্না সর্বপ্রথম সম্পন্ন হয়।

মন্দিরের রান্নাঘরযেখানে বেশি আগুনের তাপ সবথেকে নিচের হাঁড়িতে বেশি লাগে, সেখানে উপরে হাঁড়িতে সবার আগে কি করে রান্না সম্পন্ন হতে পারে? আর এ ব্যাখ্যা আজও কেউ দিতে পারেনি। একবার ভেবে দেখুন ১০ থেকে ২০ ফুট উঁচু দেওয়ালে, সোজাসুজি ওঠার কথা ভাবলেই ভয় লাগে! তবে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে চূড়ায় লাগানো ঝান্ডাটি যিনি বদলান তিনি প্রতিদিন ২১৪ ফুট উঁচু দেয়ালে ওঠেন তাও আবার উল্টো দিক করে। হাজার বছর ধরে চলে আসা এই প্রথা অনুসারে, উল্টো দিকে মুখ করেই এই মন্দিরে চূড়ায় উঠতে হয়।

বাতাসের উল্টো গতিবেগ

সাধারণত দিনের বেলায়, বাতাস সমুদ্রের দিক থেকে ডাঙ্গার দিকে প্রবাহিত হয় এবং সন্ধ্যেবেলায় ডাঙ্গার দিক থেকে সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত হয়। কিন্তু জগন্নাথ পুরীতে ঠিক এর উল্টোটা ঘটে। সারা বিশ্বে আর কোথাও আপনি এই অদ্ভুত দৃশ্যটি দেখতে পাবেন না। এর পেছনে কি কারণ লুকিয়ে রয়েছে তার জবাব আজকের বিজ্ঞানও দিতে পারেনি। 

সিংহদুয়ার রহস্য

সিংহদুয়ারজগন্নাথ মন্দির সমুদ্রের খুব কাছে অবস্থিত, এজন্য সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ মন্দির প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে আপনি শুনতে পাবেন। এদিকে মন্দিরের এই সিংহদুয়ার সবচেয়ে রহস্যময় একটি দরজা। যখন আপনি এই সিংহদুয়ার মধ্যে প্রবেশ করবেন তখন আপনি সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ আর শুনতে পাবেন না। আবার আপনি যখনই এই দরজাটিকে পার করে মন্দিরে প্রবেশ করবেন, আপনি পুনরায় সমুদ্রের গর্জন শুনতে পাবেন। ভালো করে খেয়াল করলে দেখা যাবে, পুরীতে যেখানে মন্দির রয়েছে সেখানে কোথাও নদীর চিহ্নমাত্র নেই। আবার পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রান্না ঘরে নাকি গঙ্গা নদীর গোপন প্রবাহ রয়েছে।

রাথযাত্রায় বৃষ্টি

একটি রহস্য আরো রয়েছে, এখানে প্রতিবছর আষাঢ় মাসে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার উৎসব পালন করা হয়। আর সেদিন এখানে বৃষ্টি অবশ্যই হয়। হাজার বছর ধরে চলে আসা এই প্রথায়, কেউ কখনো দেখেনি যে এই রথ যাত্রার অনুষ্ঠানের দিন বৃষ্টি হয়নি। এই সমস্ত ঘটনাগুলোকে চমৎকার বলা হোক বা অন্য কিছু, তবে জগন্নাথ মন্দিরের এই চমৎকার আজো সব মানুষের কাছে একটি রহস্য। 

রথযাত্রানবকলেবর 

সাধারণত কোনো মন্দিরের বিগ্রহ পাথর বা ধাতু দিয়ে তৈরি করা হয়। পুরীর মন্দিরে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা তিনজনের বিগ্রহই কাঠের তৈরি। প্রত্যেক ১২ বছর পর একটি গোপন রীতি মেনে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রাকে নতুন শরীর দেয়া হয়। অর্থাৎ নতুন রূপে তৈরি করা হয়। যাকে বলা হয় পুনর্জন্ম তথা নবকলেবর। বিশেষজ্ঞরা বলেন, মন্দিরের মুখ্য পুরোহিত সপ্নাদেশ পান যে গাছের কাঠ দিয়ে নবকলেবর হবে তা কোথায় পাওয়া যাবে। সেই গাছের কিছু বিশেষত্ব থাকতে হবে। গাছটি নিম গাছ হবে কিন্তু তাতে চন্দনের গন্ধ থাকবে। গাছে শঙ্খ, চক্র, গদা, পদ্মর চিহ্ন থাকবে। সেই গাছে যেন কোনোদিনও কোনো পাখি না বসে, পশু না চড়ে। আর গাছটি সাপেরা ঘিরে রাখবে। 

মন্দিরের রূপ 

এখনকার জগন্নাথ মন্দিরটির সঙ্গে প্রথম তৈরি হওয়া পুরী মন্দিরের অনেক তফাৎ। শুধু মূল মন্দিরটা তৈরি করেছিলেন ইন্দ্রদুম্ন। পরে তৎকালীন সম্রাট ও শাসকদের নেতৃত্বে ক্রমে মেঘানন্দ পাচেরি, মুখশালা, নটমণ্ডপ প্রভৃতি আরও বহু সম্পদ যুক্ত করা হয়েছে।

মন্দিরের সৌন্দর্যমন্দিরের রত্ন ভান্ডার

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের মধ্যে এক গোপন অংশ রয়েছে, যেখানে বছরের পর বছর ধরে জমে যাওয়া দেবতাদের সমস্ত গহনা ও মূল্যবান দ্রব্য রাখা হয়। কিন্তু অনেক মূল্যবান দ্রব্য সামগ্রী থাকলেও এর পাহারাদার একটু অদ্ভুত। এ বিশেষ কক্ষের রক্ষণাবেক্ষণে পাহারার কাজে যারা নিয়োজিত, তারা হলো কয়েকটি অদ্ভুত আকারের বিষধর সাপ এবং পবিত্র আত্মা। মন্দিরের গোপন কক্ষে সাতটি ঘর আছে। সেই ঘরগুলোই হল রত্ন ভাণ্ডার। ৩৪ বছর আগে মাত্র তিনটি ঘরের তালা খুলতে সক্ষম হয়েছিলেন কর্মকর্তারা। 

বাকি ঘরগুলোতে কী আছে, তা আজো রহস্যই রয়ে গিয়েছে। শ্রীজগন্নাথের ‘ব্রহ্মবস্তু’র মতোই রত্ন ভাণ্ডারের রহস্য অধরাই রয়ে গিয়েছে। যে কক্ষগুলো খোলা সম্ভব হয়েছিলো, সেখান থেকে উদ্ধার হয় ১৮০ রকমের মণিমুক্তো খচিত স্বর্ণের গহনা। যার মধ্যে আছে মুক্তো, প্রবালের মতো অত্যন্ত দামী পাথর। এছাড়া, ১৪৬ রকমের রৌপ্য অলংকার। তবে, এই সবই ‘ভিতর রত্নভাণ্ডার’-এর কথা। ‘বাহার ভাণ্ডার’-এর চিত্র কিছুটা অন্যরকম। পুরী শ্রীজগন্নাথ মন্দির আইন, ১৯৫২ অনুযায়ী রেকর্ড জানার অধিকারে ১৯৭৮ সালে তালিকা তৈরি হয়। 

জগন্নাথ, দাদা বলরাম এবং বোন সুভদ্রাদেবীর সুসজ্জিত মূর্তিসেই তালিকা অনুযায়ী, বাহার ভাণ্ডারে ১৫০ রকমের স্বর্ণালঙ্কার আছে। যার মধ্যে তিনটি স্বর্ণহার আছে। যার এক একটির ওজন প্রায় দেড় কেজি।  শ্রীজগন্নাথ এবং বলভদ্রের স্বর্ণ শ্রীভুজ ও শ্রীপায়রের ওজন যথাক্রমে সাড়ে ৯ কেজি এবং সাড়ে ৮ কেজি। জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রার স্বর্ণ মুকুটের ওজন ৭ কেজি, ৫ কেজি এবং ৩ কেজি। ১৯৭৮ সালের ১৩ থেকে ২৩ মে’র মধ্যে পুরী মন্দির প্রশাসনের তৈরি হিসেব অনুযায়ী, মণিমুক্তো খচিত ১২০ কেজি ৮৩১ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার, ২২০ কেজি ১৫৩ গ্রাম রূপার গহনা, রূপার বাসনপত্র সহ বিভিন্ন দামী বস্তু রত্নভাণ্ডারে পাওয়া গিয়েছে। 

জানা গেছে, রত্নভাণ্ডারের তিনটি চাবি। একটি থাকে মন্দিরের প্রশাসনের অফিসে, দ্বিতীয়টি থাকে পুরীর গজপতি মহারাজার কাছে আর তৃতীয়টি থাকে সরকারি ট্রেজারিতে। ১৯৮৫ সালে ভেতরের প্রকোষ্ঠ খোলার চেষ্টা হয়েছিল। জনশ্রুতি রয়েছে, ভেতরের ঘর থেকে কালনাগের হিস হিস শব্দ শুনে আর কারোরই দরজা খোলার সাহস হয়নি কারো। মনে করা হয়, ওই নাগই এই রত্নভাণ্ডার আগলে রেখেছে।

জগন্নাথ মন্দিরের রাতের রূপপ্রতি বিজয়াদশমী, কার্তিক পূর্ণিমা, পৌষ পূর্ণিমা এবং মাঘী পূর্ণিমার দিন শ্রীক্ষেত্রে ভক্তদের সামনে রাজবেশে দর্শন দেন মহাপ্রভু। তার সেই সজ্জা দেখে ভক্তরা ধন্য ধন্য করেন। যেসব গহনায় জগন্নাথদেবকে সাজানো হয় সেগুলো হলো- শ্রীচরণে শ্রীপায়র, হাতে শ্রীভুজ, কর্ণে কীরিটি, ওড়না, সূর্যচন্দ্র, কানা, আড়াকানি, ঘাগরা, মালি, কদম্বমালি, ইত্যাদি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস