Alexa এই বিস্ময়কর মহাকাশযানটি সৌরজগত পারি দিচ্ছে

ঢাকা, রোববার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৭ ১৪২৬,   ২২ মুহররম ১৪৪১

Akash

এই বিস্ময়কর মহাকাশযানটি সৌরজগত পারি দিচ্ছে

সিফাত সোহা

 প্রকাশিত: ১৩:২৯ ২০ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৩:২৯ ২০ ডিসেম্বর ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সৌরজগতের প্রান্ত সীমা ছাড়িয়ে মহাকাশযান ভয়েজার ওয়ান এখন অসীমের পথে ছুটে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানী মার্ক সুইসডাক এক সাক্ষাৎকারে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন ২০১২ সালেই সৌরজগত ছেড়ে গেছে নাসার পাঠানো এই নভোযান।  

এই প্রথম মানুষের তৈরি কোন নভোযান এর সৌরজগত ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রমাণ পেয়েছেন তারা। এর আগে ভয়েজার দুই ও মহাকাশের উদ্দেশে মহাকাশে পাড়ি দিয়েছিল। নাসার গবেষকরা চলতি বছরের জুন মাসে জানিয়েছেন মহাকাশের রহস্য এর জাল ভেদ করতে এত দিন সৌর জগতের অভ্যন্তরেই ছিল মহাকাশ বিজ্ঞানীদের তৈরি এই যানটি। সৌরজগতের প্রান্ত সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছে ৩৫ বছর আগের যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা প্রতিস্থান নাসার উৎক্ষেপণ করা নভযান ভয়েজার ওয়ান। ঠিক কবে ভয়েজার ওয়ান সৌরজগতের সীমা ছাড়াবে তা নির্দিষ্ট করে বলতে না পারলেও গভেসক অ্যাড স্টোন ওই সময় জানিয়েছেন সে মহেন্দ্রক্ষন খুব নিকটেই। এখন সৌরজগতের প্রান্তসীমা অবস্থান করছে ভয়েজার ওয়ান।  

'সায়েন্স' সাময়িকীতে প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়েছিল বর্তমানে পৃথিবী থেকে সাড়ে আঠারো বিলিয়ন কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থান করছে নভোযানটি। এর আগে ২০১২ সালে অ্যাড স্টোন জানিয়েছিলেন মহাকাশযানটি সৌরজগতের সীমায় অবস্থান করছেন। সে সময় যানটি সৌরজগতের একটি বিশেষ অঞ্চলের অবস্থান করছিল বলে জানিয়েছিলেন তিনি। সে সময় তিনি বলেছিলেন সূর্য নিস্রিত কনিকা বহিরমুখী না হয়ে বরং পারস্মুখি হচ্ছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায় ভয়েজার ওয়ান নক্ষত্র রাজ্যের মধ্যকার মহাশূন্যের প্রায় কাছাকাছি অবস্থান করছে।  

সাম্প্রতিক গবেষকরা জানিয়েছেন বিশেষ এই অঞ্চলটি পার হয়ে আরেকটি হালকা কনার বিশেষ স্তরে প্রবেশ করতে যাচ্ছে ভয়েজার ওয়ান। এই অঞ্চলটি বিশেষ চুম্বুক স্তরের। গবেষকরা ধারণা করছেন এই বিশেষ স্তরটি হচ্ছে সৌরমণ্ডলের  সবচেয়ে বাহিরের স্তর। তবে এই অঞ্চলের বিস্তৃতি সম্পর্কে কোন ধারণা নেই বিজ্ঞানীদের। ১৯৭৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ভয়েজার ওয়ান পৃথিবী থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। ভয়েজার ওয়ানের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল তখন প্রায় অজানা দুই গ্রহ বৃহস্পতি আর শনি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা। ৪০ বছর ধরে সৌরজগতের অজানা রহস্যের সন্ধান দিয়ে যাচ্ছে মহাকাশ যানটি। 

পৃথিবীর হিসেবে চল্লিশ কেজি ওজন এই ভয়েজার ওয়ান যানটির। ২০১২ সালের ২৫ আগস্ট ভয়েজার ওয়ান সৌরজগতের সীমানা হেলিওপজ অতিক্রম করে। ওখান থেকেই শুরু আমাদের ছায়াপথ আকাশগঙ্গা বা মিল্কিওয়ে আন্তঃকোষীয় এলাকার। পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে অবস্থিত মানব নির্মিত বস্তুর নাম এখন ভয়েজার ওয়ান। সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব যত এই মুহূর্তে তার চেয়ে ১৩৯ গুণ বেশি দূরে অবস্থান করছে। সৌরজগতে বেশ কয়েকটি সীমানা আছে প্রথম সীমানার নাম টার্মিনেশন শক, এখান থেকে সৌর জগতের বায়ুর চাপ হঠাৎ করেই কমতে থাকে। তারপর হেলিওস্ফেয়ার অতিক্রম করে আসে হেলিওপজ এখানে শেষ হয় সৌরজগতের প্রতিরক্ষা গ্রহ যা আমাদের আন্তরখতিয় বিকিরণ থেকে রক্ষা করে। 

নাসার হিসেবে হেলিওপজ অতিক্রম করার পড়ে প্লাজমার ঘনত্ব বেড়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। মহাকাশযানটি সম্প্রতি বেশ কিছু জিনিস আবিষ্কার করেছে। গবেষকরা বলছেন সৌর জগতের মায়া কাটিয়ে ভয়েজার ওয়ান মহাশূন্যে এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে যেখান থেকে পাঠানো তথ্য পৃথিবীতে আসতে সময় লাগে ১৭ ঘণ্টা। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার নভোযান ভয়েজার ওয়ান সৌর জগতের এমন এক অংশে প্রবেশ করেছে যা গবেষকদের কাছেও অজানা। এখানে ভয়েজার ওয়ান এর উপর সূর্যের প্রভাব এর চেয়ে মহাজাগতিক অন্য প্রভাব বেশি কাজ করছেন। 

গবেষকরা ধারণা করছেন এ নভোযানটি ২০৩০ সাল পর্যন্ত সকল তথ্য পাঠাতে সক্ষম হবে এরপর তা অজনা পথে পাড়ি দেবে। ধারণা করা হচ্ছে এসি প্লাস ৭৯৩৮৮ নামক নক্ষত্রের দিকে ছুটতে থাকবে এই নভোযান ভয়েজার ওয়ান। কোন দুর্ঘটনা ছাড়া চল্লিশ হাজার বছর পথ পাড়ি দিয়ে দুই আলোকবর্ষ দূরের এই নক্ষত্র এর দিকে ছুটে যাবে মানুষের তৈরি এই নভোযান। 

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ