.ঢাকা, রোববার   ২১ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৭ ১৪২৬,   ১৫ শা'বান ১৪৪০

এই বছরে মহাকাশে যা যা ঘটবে (পর্ব-১)

সিফাত সোহা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:০০ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

মহাকাশ নিয়ে কমবেশি সবার মধ্যে বিস্ময় আর জানার আকাঙ্ক্ষা কাজ করে। আমরা ছোটবেলা থেকে বইয়ে মহাকাশ সংক্রান্ত অনেক তথ্য পড়েছি। আমাদের মহাকাশ সংক্রান্ত জ্ঞানের পরিসীমা ধীরে ধীরে বাড়ছে। কারণ মহাকাশযান পাঠিয়ে বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন তথ্য আবিষ্কার করছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যত আধুনিক হচ্ছে মহাকাশ নিয়ে গবেষণার পরিমাণ ততই বাড়ছে। পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে নভোযান উৎক্ষেপনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অদৃশ্য প্রতিযোগিতা। আমাদের আজকের আলোচনায় থাকছে ২০১৯ সালে মহাকাশে ঘটবে এমন সব বিশেষ বিশেষ ঘটনাগুলোকে নিয়ে। 

২০১৯ সাল পুরো বছর জুড়ে থাকছে অসাধারণ সব ঘটনা প্রবাহ। যা আকাশ প্রেমীদের জন্য বেশ উত্তেজনাকর ব্যাপার। পৃথিবীর মতো বসবাস উপযোগী গ্রহ খুঁজে বের করতে নানা রকম প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে নাসা। সূর্যকে ছুঁতে একটি প্রোবও  পাঠিয়েছে তারা। তাদের ইনসাইট রোবট মঙ্গলগ্রহে অবতরণ করেছে এবং সেখানকার অসাধারণ সব ছবি পাঠাচ্ছে। সেইসঙ্গে পৃথিবীর আকাশে দেখা যাবে এক একটি বিস্ময়কর মহাজাগতিক ঘটনা। কি কি ঘটবে ২০১৯ সালে চলুন জেনে নেয়া যাক।
 
আল্টিমা থিউলি: এই বছরের প্রথম দিনে নাসার নিউ হরাইজন নামক মহাকাশযান একটি বিশাল মাইফলকের জন্ম দিয়েছে। এটি আল্টিমা থিউলি নামক একটি পাথর খণ্ডের কাছে গিয়েছে। যা পৃথিবী থেকে প্রায় চার মিলিয়ন মাইল দূরে এবং যাকে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ধরা হচ্ছে। মহাকাশযানটি ২০১৫ সালে প্লুটোর কাছে গিয়ে থেমে থাকেনি। আরো দূরে যেতে থাকে জানুয়ারী ১ তারিখে আল্টিমা থিউলির কাছে পৌঁছায়। পাথর খণ্ডটি প্রায় একটি শহরের সমান বড়। 
 
কোয়াড্রান্টিডস: জানুয়ারীর কালো আকাশে এক ধরণের উল্কা বৃষ্টির দেখা পাওয়া যায়। যার নাম দেয়া হয় কোয়াড্রান্টিডস। এই বছরের জানুয়ারি ৩ থেকে ৪ তারিখ রাতের আকাশে উল্কা বৃষ্টি উপভোগ করেন হাজার হাজার মানুষ। ঘন্টায় ৫০ থেকে ১০০টি উল্কা দেখা গিয়েছে এসময়। 
 
আংশিক সূর্যগ্রহণ: ৬ জানুয়ারী পৃথিবীর আকাশে আংশিক সূর্যগ্রহন দেখা গিয়েছে। চাঁদ আংশিকভাবে সূর্যকে ঢেকে দেয় এমনটি দেখা গিয়েছিল। চীন, কোরিয়া, জাপান, রাশিয়া, উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মানুষজন আংশিক সূর্য গ্রহণ সরাসরি দেখতে পেরেছেন। 

ক্রু ড্রাগন মহাকাশযান: এলন মাস্ক'র প্রতিষ্ঠান স্পেস এক্স জানুয়ারীর ১৭ তারিখে একটি পরীক্ষামূলক নিক্ষেপের  পরিকল্পনা করে। প্রথমবারের মতো পৃথিবীর কক্ষপথ ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে ক্রু ড্রাগন মহাকাশযান পাঠানো হয়েছে স্পেস এক্স এর মাধ্যমে। তাদের লক্ষ্য নাসার মহাকাশ শাতল ফ্লিটের নির্দিষ্ট স্থান গ্রহণে সাহায্য করা এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যাত্রীদের যাতায়াতের সাহায্য করা । 

পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণঃ ২০ জানুয়ারী তারিখে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার পূর্বাকাশে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ দেখা গেছে। পূর্ণিমার সময় পৃথিবী সূর্যকে ঢেকে ফেলে এই মহাকাশীয় ঘটনা দেখা গেছে।  
 
চন্দ্রযান ২: ভারতের আইএসআরও নামক মহাকাশ সংস্থা ২০০৮ সালে তাদের প্রথম মহাকাশযান চাঁদে পাঠায় । যার নাম ছিল চন্দ্রযান ১। তারই  ধারাবাহিকতায় এই বছরের জানুয়ারি ৩০ তারিখে তারা আবারো চন্দ্র অভিযানে পাঠিয়েছে চন্দ্রযান ২। চাঁদের পৃষ্ঠ অন্বেষণ এই অভিযানের লক্ষ্য। তাই তার একটি অক্ষীয় যান, একটি অবতরণকারী যান এবং ছয় চাকা বিশিষ্ট রোভার পাঠিয়েছে। 

নাসার জুনো মহাকাশযান: ২০১৬ সালে নাসার একটি মহাকাশযান বৃহস্পতি গ্রহে পৌছায়। গ্রহটির অসাধারণ কিছু ছবি পৃথিবীতে এরইমধ্যে পাঠিয়েছে সেটি। নাসা এই অভিযানে বেশকিছু বিস্ময়কর তথ্য আবিষ্কার করতে পেরেছে। যার মধ্যে একটি হলো বৃহস্পতির। সেই অদ্ভুত লাল অংশটি যাকে গ্রেট রেড স্পট বলা যায়। যা কিনা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। আর তথ্য পাবার জন্য নাসা জুনোর ভ্রমণকালে আরো কয়েক বছর বাড়িয়ে দিয়েছে। পুরো গ্রহের কক্ষপথ একবার ঘুরে আস্তে মহাকাশযানটির সময় লাগে ৫৩.৫ দিন যাকে পেরিজভে বলা হয়। ১৮তম পেরিজভে হয়েছে ১২ই ফেব্রুয়ারিতে। এমন পেরিজভ এই বছর আরো ৬ বার হবে বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। 

ইসরাইলের স্প্যারো চন্দ্রযান: ইসরাইলের একটি অলাভজনক বেসরকারি মহাকাশযান ১৩ই ফেব্রুয়ারি চাঁদের উদ্দেশে পৃথিবী থেকে স্পেস এক্স এর ফ্যালকন ৯ রকেট এ চড়ে রওনা দিয়েছে। রওনা দেয়ার দুই মাস পর এটি চাঁদে অবতরণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্পেস আই এল নামক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এটি নিয়ে কাজ করছে এবং যানটি  চাঁদে অবতরণ করার পর প্রথম বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে হিসেবে স্পেস আইএল ইতিহাসে স্থান পাবে। চতুর্থ দেশ হিসেবে চাঁদে অবতরণের খেতাব পাবে ইসরাইল। ইসরাইলের একজন ব্যাবসায়ি এই প্রতিষ্ঠানের জন্য অর্থ ব্যয় করছেন বলে জানা যাচ্ছে। 

সিএসটি -১০০ স্টারলাইনার: স্পেস এক্স যেমন তাদের ক্রু ড্রাগন মহাকাশ যানের মাধ্যমে নাসার মহাকাশ শাটলের স্থান  নিতে চাইছে, সেভাবেই বয়িং একটি স্টারলাইন মহাকাশযান নিক্ষেপের পরিকল্পনা করছে। যা মহাকাশচারী পরিবহনের কাজ করবে। এই বছরের মার্চের দিকে এই যানটি পাঠানো হবে। কিন্তু এটি হবে পরীক্ষামূলক কারণ আপাতত এতে কোনো মানুষ চড়বে না। 

এই বছরে মহাকাশে ঘটে যাওয়া আরো কিছু চমকপ্রদ ঘটনা থাকছে আমাদের দ্বিতীয় পর্বে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ