Exim Bank
ঢাকা, মঙ্গলবার ১৯ জুন, ২০১৮
Advertisement

এই পাঁচ গোলকিপারের উপর থাকবে আলাদা নজর

 মেহেদী হাসান শান্ত ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৫৯, ১২ জুন ২০১৮

আপডেট: ২১:৫৯, ১২ জুন ২০১৮

৯৮৯৭ বার পঠিত

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ফুটবলে গোলরক্ষকের পজিশনে থাকাটা সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন দায়িত্ব। মুহূর্তের মাঝেই গোলবারের নিচে দাঁড়ানো খেলোয়ারটি হিরো থেকে জিরো হয়ে যেতে পারেন। আবার উল্টোটা ঘটার দৃষ্টান্তও বিরল কিছু নয়। হাইভোল্টেজ কোনো ম্যাচে একজন গোলকিপারকে যে কতটা স্নায়ুচাপে থাকতে হয়, আমাদের মত দর্শকরাও তা অনুভব করতে পারেন সহজেই। ডিফেন্ডারদের ভুলগুলোও মাঝে মাঝে আড়ালে চলে যায়, যদি গোলকিপার কাঙ্ক্ষিত সেভ না করতে পারেন। গত বিশ্বকাপে এই গুরুত্বপূর্ণ পজিশনে জাদু দেখিয়েছিলেন নয়্যার, নাভাস, ওচোয়ারা। এবার চোখ রাখতে পারেন এই পাঁচজনের দিকে। 

ডেভিড ডি গিয়া
অনেকের মতেই বর্তমানে এই গ্রহের সেরা গোলকিপারটির নাম ডেভিড ডি গিয়া। ২০১৭-১৮ সিজনে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে ১৮ টি ক্লিন শীট সেই সাক্ষ্যই দেয়। আরসেলানের বিপক্ষে এক ম্যাচে ১৪ টি সেভ করে দুনিয়া জুড়ে হুলস্থূল বাজিয়ে দিয়েছিলেন এই রেড ডেভিল নাম্বার ওয়ান। ইকার ক্যাসিয়াসের মত লিজেন্ডের বিদায়ের পর তো এমন কাউকেই খুঁজছিল স্পেন! সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে ৩৪ ম্যাচে ১১৫ টি সেভ, গোলবারের সামনে তার নিজের ভুলে একটি গোলও হজম করতে হয়নি ইউনাইটেডকে। ২০১১ এ ম্যানচেস্টারে আসার পর থেকে গোল খেয়েছেন ২২৪ টি, তবে ৬৫০ টি সেভ , ৯৩ টা ক্লিন শীট, ৮৪ টা ক্যাচ, সবকিছু ধুয়ে মুছে দিয়েছে।

ডি গিয়ার স্পেন জাতীয় দলে অভিষেক হয় ২০১৪ তে, এল সালভাদরের বিপক্ষে। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের দলে থাকলেও ২৩ জন স্প্যানিয়ারডের মধ্যে একমাত্র তারই মাঠে নামা হয় নি। দুঃস্বপ্নের এক বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয় `লা রোহা`রা। এবার নিশ্চয় স্পেন বস হুলেন লোপেতেগির তুরুপের তাস হয়ে থাকবেন ডি গিয়া।

কেইলর নাভাস
যাদের কেউ গণনায় ধরেই নি, সেই কোস্টারিকা ; ইতালি ,উরুগুয়ে , ইংল্যান্ডের মত বাঘা বাঘা দলকে পেছনে ফেলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় গত ব্রাজিল বিশ্বকাপে। পুরো কৃতিত্বটাই দিতে হয় কেইলর নাভাসকে। তার পরপরই ১০ মিলিয়ন ইউরোতে নাভাসকে লেভান্তে থেকে দলে ভেড়ায় রিয়াল মাদ্রিদ। গত চার বছরে তিনটা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ সহও গোটা দশেক ট্রফি জিতেছেন গ্যালাক্টিকোস দের হয়ে। গত মৌসুমে ২৫ ম্যাচে ৬ টা ক্লিন শীট, ম্যাচ প্রতি সেভ ২.৬৪। এই ৩১ বছর বয়সী গোলরক্ষক এবারও হতে পারেন যে কোন দলের জন্য মাথা ব্যাথার কারণ।

ম্যানুয়েল নয়্যার
গত বছরের সেপ্টেম্বরে পায়ের পাতায় ফ্র্যাকচার ধরা পড়ায় পুরো মৌসুমই বসে কাটাতে হয় এই জার্মান গ্রেটকে। তারপরো জার্মান কোচ জোয়াকিম লোর পছন্দের তালিকা থেকে বাদ যান নি নয়্যার, যাচ্ছেন রাশিয়ায় পর পর দুই বার জার্মানিকে নেতৃত্ব দিতে। ৩২ বছর বয়সী এই `সুইপার কীপার` ছন্দে থাকলে কি করতে পারেন, তা গত বিশ্বকাপেই প্রমাণ হয়ে গেছে। শুধু গোলরক্ষক হিসেবেই নয়, মাঝে মাঝেই উপরে উঠে আক্রমণ গড়ে দিতেও নয়্যার এর জুড়ি নেই। একটা পরিসংখ্যান দেই , ২০১৪ বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচে নয়্যার দৌড়েছেন ৩৮.৫ কিলোমিটার, তার দলেরই মিডফিল্ডার মারিও গোটশের থেকেও প্রায় আড়াই কিলোমিটার বেশি।

মার্ক আন্দ্রে টার স্টেগান
এই বার্সেলোনা গোলকিপারের জাদুকরী পারফরমেন্সও মূল একাদশে জায়গা পেতে সাহায্য করবে কিনা , তা সময়ই বলে দেবে। তিনি যে স্বয়ং নয়্যারের প্রতিদ্বন্দ্বী! আর জার্মান বস জোয়াকিম লোর এক নম্বর পছন্দ নয়্যারই। কিন্তু বার্সার হয়ে গত মৌসুমে ৩৭ ম্যাচে ১৯ টা ক্লিন সীট, ৯৮ টা সেভ, লো কে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে বাধ্য করতেই পারে!

থিবো কোরতোয়া
সদ্য শেষ হওয়া মৌসুম চেলসির জন্য জঘন্য কাটলেও দ্য ব্লুজ দের বেলজিয়ান গোলরক্ষক কোরতোয়া আরও একবার প্রমাণ করলেন, কেন তিনি বিশ্বসেরাদের একজন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের এ মৌসুমে তার ৩৫ ম্যাচে ১৫ টা ক্লিন শিট, ৭৬ টা সেভ সেই কথাই বলে। এই ২৬ বছর বয়সীর হাত ধরে তরুণ বেলজিয়াম টিমের প্রথম বার চ্যাম্পিয়ন হওয়াও অসম্ভব কিছু নয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ

সর্বাধিক পঠিত