এই নারী রসায়নবিদের তৈরি সুগন্ধিতে ছিল ওষুধিগুণ

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৬ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১২ ১৪২৭,   ০২ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

এই নারী রসায়নবিদের তৈরি সুগন্ধিতে ছিল ওষুধিগুণ

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৫৩ ১০ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ১৭:০৫ ১০ এপ্রিল ২০২০

ছবি: প্রতীকী

ছবি: প্রতীকী

সভ্যতার ক্রমবিকাশের ধারায় নারী পুরুষের সমান অবদান। শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান সব ক্ষেত্রেই নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীর অবদান অনেক সময় অন্তরালেই থেকে গিয়েছে। বিশেষ করে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে নারীদের অবদান প্রায়শই উপেক্ষিত হয়েছে। 

অবশ্য সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাসবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হয়েছে। নারীদের বহুমাত্রিক অবদান বর্তমানে সবার সম্মুখেই উপস্থাপিত হচ্ছে। রসায়ন চর্চার ইতিহাসে প্রথম দিকে অবদান রেখেছেন এমনই একজন প্রতিভাবান নারী তাপুতি। অনেকে তাকে প্রথম রসায়নবিদ হিসেবেই বিবেচনা করেন।

মেসোপটেমিয়া সভ্যতা বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতা। আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০০ অব্দে টাইগ্রিস এবং ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে এই সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। সভ্যতার বিকাশে তাদের অবদান অনেক। তাপুতি ছিলেন মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে নগর সভ্যতা গড়ে তোলা ব্যাবিলনীয় সভ্যতার সময়কার একজন নারী রসায়নবিদ।

তাপুতি তাপুতি প্রথম সুগন্ধি তৈরি করেছিলেন। প্রত্নতত্ত্ববিদরা খ্রিষ্টপূর্ব ১২০০ অব্দ পূর্বের কিউনিফর্ম লিপিতে লেখা একটি রেকর্ড আবিষ্কার করেছেন যেখানে তাপুতির অবদান সম্পর্কে জনা যায়। প্রাচীন ব্যাবিলনে সুগন্ধি শুধু প্রসাধনী হিসেবেই ব্যবহৃত হত না ওষুধ হিসেবেও ব্যবহৃত হত। এমনকি ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানেও সুগন্ধির ব্যবহার ছিল তখন। তাপুতির একটি দল ছিল যারা রাজকীয় সুগন্ধি তৈরি করত। 

তিনি নিজের পরিবার এবং কর্ম দলের প্রধান ছিলেন। তাপুতি কয়েক হাজার বছর আগেই রসায়নের অগাধ জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। আধুনিক যুগে শুধু প্রসাধনী তৈরিতে বিশেষ কিছু উপাদান ব্যবহার করলেই চলে। তবে তাপুনি শুধু সুগন্ধির জন্যই না বরং তাতে কোন ধরনের ওষুধি উপাদান ব্যবহার করবেন সে বিষয়েও চর্চা করতেন। কারণ তার তৈরি সুগন্ধি ব্যবহৃত হত ওষুধ হিসেবেও।

সুগন্ধি তৈরি করা হচ্ছেতাপুতির ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে খুবই কম জানা যায়। তিনি ব্যাবিলন রাজার সুগন্ধি তৈরিকারকের কর্মচারী ছিলেন। নিজের রসায়ন সম্পর্কিত জ্ঞান কজে লাগিয়ে তিনি পানি, ফুল, তেল এবং কালামাস দ্বারা এক প্রকার রাজকীয় সুগন্ধি মলম তৈরি করেন। তাপুতি বর্ণনা করেছিলেন কীভাবে তরল পদার্থ ফিল্টার এবং বিশুদ্ধ করা যায়। যে প্রক্রিয়া এখনো আধুনিক কেমিকেল ল্যাবে ব্যবহার করা হয়। 

তাপুতির পাশাপাশি আরো একজন নারীর নাম পাওয়া যায় যিনি কেমিকেল সম্পর্কিত জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। তার নামের পুরো অংশ পাওয়া যায়নি শুধু নিনু অংশটুকু পাওয়া গেছে। তিনি সুগন্ধি তৈরির পদ্ধতি লিপিবদ্ধ করেছিলেন। এর থেকে স্পষ্ট হয়, রসায়ন বিজ্ঞান বিকাশের প্রথম পর্যায়ে নারীদেরও ভূমিকা ছিল। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস