Alexa এই তিন তরুণী দেখতে একেবারেই পুতুলের মতো

ঢাকা, শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৫ ১৪২৬,   ২০ মুহররম ১৪৪১

Akash

এই তিন তরুণী দেখতে একেবারেই পুতুলের মতো

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:২২ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

পুতুলের প্রতি মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। বিশেষ করে জিনিসটির প্রতি মেয়েদের ঝোঁক বেশি। পুতুল খেলার সময় বা কার্টুন দেখার সময় প্রতিটি শিশু মনই পর্দার পুতুল চরিত্রে নিজেকে ভাবতে পছন্দ করে। ছোটবেলার এই বিনোদন কিছু কিছু মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে। যার ফলে বড় হওয়ার পরও পুতুল হিসেবে নিজেকে দেখার অবসেশন থেকেই যায়। আর এজন্যই কেউ কেউ নিজেদেরকে সঁপে দেয়েছেন ছুরি কাঁচির নিচে। এমন কয়েকজন মেয়ের সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক-

ভ্যালেরিয়া লুকিয়ানোভা

ভ্যালেরিয়া লুকিয়ানোভা

ইউক্রেনের একজন মডেল তিনি। বয়স ৩১ বছর। এই জীবন্ত বার্বি ডল অন্যদের চেয়ে একটু আলাদা। তিনি ১৫ বছর বয়স থেকেই কালো জাদু করেন। ইউক্রেনে ১৯৮৫ সালে জন্ম নেয়া ভ্যালেরিয়া কিশোরী বয়সকালে থেকেই বার্বি পুতুলের সৌন্দর্যের প্রতি এক অদম্য টান অনুভব করতেন। ২০০৭ সালে তিনশ’ জন সুন্দরীকে হারিয়ে ভ্যালেরিয়া ‘মিস ডায়মন্ড ক্রাউন অব দ্য ওয়ার্ল্ড’-এর মুকুটটি জিতে নেন। তখন তিনি মানুষের কাছে বেশি পরিচিতি না পেলেও বছর তিনেক আগে নিজের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে সাড়া ফেলে দেন। ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার পুতুল সদৃশ এ নারীর এই শারীরিক গঠন কি প্রাকৃতিক না কৃত্রিম তা নিয়ে ব্যাপক হইচই পড়ে যায়।

ভ্যালেরিয়া পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন, তার এই পুতুল চেহারা আর দৈহিক গড়ন ঈশ্বর প্রদত্ত। আর বাকিটুকু তিনি মেকআপের সাহায্যে করে নেন। তিনি নিয়মিত যোগব্যায়াম, পরিমিত খাদ্যগ্রহণ ও পরিকল্পনা মাফিক জীবনযাপন করার মাধ্যমেই এমন বারবি পুতুল হতে পেরেছেন। এটি প্রমাণ করতে তিনি ইউটিউবে তার অনেক ভিডিও চিত্র প্রকাশ করেন।

সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ ভ্যালেরিয়ার এসব ভিডিওকে মিথ্যা বললে তিনি রাশিয়ার বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে সরাসরি সাক্ষাৎ দিতে আসেন। ২০১২ ও ২০১৩ সালে রাশিয়া-১ টিভিতে সরাসরি ৪০ মিনিটের অনুষ্ঠানে ও চ্যানেল ওয়ান রাশিয়া টিভির সাক্ষাৎকারে তিনি প্রমাণ করেন, বারবি রূপ নিতে তাকে কৃত্রিমতার আশ্রয় নিতে হয় না। এ অনুষ্ঠানের পর থেকেই ভ্যালেরিয়ার ভক্ত সংখ্যা বেড়ে যায়। তবে ডাক্তারদের মতে তিনি প্রাকৃতিকভাবে এই গঠন পেয়ে থাকলে তিনি অপুষ্টিতে আক্রান্ত।

অ্যাঞ্জেলিকা কেনোভা

অ্যাঞ্জেলিকা কেনোভা

‘হিউম্যান বার্বি’ হিসেবে তার খ্যাতি। তিনি কেবল দেখতেই শুধু জীবন্ত পুতুলের মতোই না বরং তার আচরণ ও জীবনযাপনও ঠিক যেন একটি জ্যান্ত বার্বি ডল। রাশিয়ার মস্কোতে ২৬ বছর বয়সী এই তরুণী এখনো তার বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করেন। কখনো এই নারীর কোনো প্রেমিক ছিল না। তিনি জন্মের পর থেকে তার চোখের কারণে বার্বি হিসাবে পরিচিত হয়েছেন। তাই ছোটবেলা থেকেই সবসময় তাকে বার্বির মত পোশাক পরানো হতো। তার মা নাটালিয়া এখনো মেয়েকে একা ছাড়েন না। সে যেখানেই যায় সঙ্গে তার মা থাকেন। মেয়েকে বার্বির মতো তৈরি করতে মায়ের খাটুনিও অনেক হয়েছে। চূড়ান্ত কঠিন নিয়মে বেঁধে ফেলেন মেয়ের জীবন। যা এখনো শিথিল হয়নি। খানিকটা যান্ত্রিক জীবনই বলা যায়।

বার্বি ফিগার রাখার জন্য তাকে কঠোর ডায়েট ও যোগাসন করতে হয় নিয়মিত। অনেকটা ক্ষোভের সঙ্গেই অ্যাঞ্জেলিকা বলেছেন, ‘আমি বাস্তব জীবনের সঙ্গে মানানসই নই। আমি একটি জীবন্ত পুতুল। আমি এখনো পর্যন্ত একা বাড়ির বাইরে যেতে পারিনি। কোনো পুরুষের সঙ্গে ডেট করতে পারিনি। যৌবনের কোনো আচরণের অভিজ্ঞতা আমার নেই। যখনই বাইরে যাই, মা-বাবা সঙ্গে যান।’

খ্যাতির মোহে পাগল মা-বাবা তার জীবনকে কীভাবে দুর্বিসহ করে তুলেছেন, জানিয়েছেন স্বয়ং অ্যাঞ্জেলিকাই। তিনি বর্তমানে মডেল, শিশু মনোবিজ্ঞানী এবং ব্যালে ড্যান্সার হিসেবে নিজের আত্মপ্রকাশ করেছেন। অ্যাঞ্জেলিকার মা বাবার দাবি অনুযায়ী, তার এই বার্বি রূপ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। কোনো সার্জারি করা হয়নি তার।

ডাকোতা অস্ট্রেঙ্গা

ডাকোতা অস্ট্রেঙ্গা

২১ বছর বয়সী এই তরুণী প্রাকৃতিকভাবে বা সার্জারি করে বার্বি ডল না হলেও তিনি সাহায্য নিয়েছেন মেকআপের। সানফ্রান্সিসকোতে বসবাসকারী এ বাস্তবের বার্বির আসল নাম ‘ডাকোতা অস্ট্রেঙ্গা’। ২১ বছর বয়সী ডাকোতার উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি। চোখের রঙ নীল ও চোখের মণি পুতুলের মতো বড়। একই সঙ্গে তিনি জাপানিজ, ফ্রেঞ্চ, ইংলিশে সমানতালে কথা বলতে পারেন। মডেলিং করছেন অনেক দিন ধরে। বারবি ডলের মতো হুবহু দেখতে হওয়ায় ডাকোতার ভক্তের অভাব নেই। শুধু নিজ দেশেই নয়, সীমানার বাইরে চীন-জাপানেও তার অসংখ্য ভক্ত রয়েছে।

যেখানে ডাকোতারই স্বীকারোক্তি রয়েছে যে নিজের বারবি ডল রূপ আনতে তাকে প্রচুর প্রসাধনী ব্যবহার করতে হয়। কখনো একসঙ্গে ৫০০ গ্রাম প্রসাধনীও ব্যবহার করেছেন বলে তিনি জানান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইউটিউবে ডাকোতা তার প্রসাধনী ব্যবহারের ভিডিও চিত্র তুলে ধরেছেন। কিন্তু অবাক করা বিষয়, তার এমন কিছু অন্ধ ভক্ত রয়েছে যাদের বিশ্বাস ডাকোতার বারবি ডল রূপ একেবারেই জন্মগত।

এ পর্যন্ত সাড়ে ৮ কোটিরও বেশি দর্শক ডাকোতার মেকআপ করার দৃশ্য দেখেছেন। তবুও ডাকোতার বারবি রূপ নিতে যে প্রসাধনীর সাহায্য নিতে হয় তার ভক্তরা তা মানতে নারাজ। বাবা ক্যাথি অস্ট্রেঙ্গা তার মেয়ে ডাকোতা রোজের এই বারবি অবয়ব নিয়ে বেশ গর্বিত।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে