এই তারকাদের দেখা মিলেছে ঢালিউড সিনেমায়

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৩ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৯ ১৪২৬,   ১৭ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

এই তারকাদের দেখা মিলেছে ঢালিউড সিনেমায়

সৈয়দা সাদিয়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২৩:৩৭ ১৪ মার্চ ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বলিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল বাঙালির তালিকা করলে তিনি থাকবেন সবার ওপরে। এমনকি তার জন্ম বাংলাদেশের বরিশালে, পড়াশোনাও করেছেন সেখানকার জেলা স্কুলে। ২০১০ সালে প্রথম তিনি আমজাদ হোসেনের ছবি ‘গোলাপী এখন বিলাতে’ সিনেমায় কাজ করেন। সে ছবিতে তার সঙ্গে ছিলেন ফেরদৌস, মৌসুমী ও শাবনূর। ভাবছেন এই তিনিটা কে? কার কথা বলছি। তিনি হচ্ছেন বলিউড সুপারস্টার, টালিউড মাস্টারমাইন্ড মিঠুন চক্রবর্তী।

এছাড়াও তিনি যৌথ প্রযোজনার বাংলা সিনেমাতেও কাজ করেন। ১৯৮৫ সালের সিনেমা ‘অন্যায় অবিচার’-এ শক্তি সামন্তের পরিচালনায় তার বিপরীতে ছিলেন ঢালিউডের রোজিনা। আরো ছিলেন কিংবদন্তিতুল্য অভিনেতা উৎপল দত্ত।

শাবানা আজমী

শাবানা আজমী। তিনি হলেন ভিন্নধারায় বলিউডের অন্যতম সেরা অভিনেত্রী। যিনি পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন। এটা তো আর মুখের কথা নয়। ২০০১ সালে এই উজ্জ্বল নক্ষত্রও কাজ করেন ঢালিউডে। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যানারে ছবির নাম ছিল ‘মেঘলা আকাশ’। 
নারী নির্মাতা নার্গিস আক্তারের পরিচালনায় এইডস প্রতিরোধ বিষয়ক সিনেমাটিতে আরো ছিলেন মৌসুমী, শাকিল খান, পূর্ণিমা, অমিত হাসান, রাজীব, শহিদুল আলম সাচ্চু, ফেরদৌসী মজুমদার ও পিযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়।

জয়া বচ্চন

জয়া বচ্চন। তার মূল পরিচয় তিনি স্বয়ং অমিতাভ বচ্চনের স্ত্রী। তবে এই পরিচয়ের বাইরে তিনি একজন ডাকসাইটে অভিনেত্রী। তিনি ঢাকায় সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন। তার অভিনীত সিনেমাটির নাম ‘মেহেরজান’।  নারী নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত এই ছবিটি ২০১১ সালের ২১ জানুয়ারি দেশের ছয়টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়।

আর মুক্তির পরই সিনেমাটা বিতর্কের ঝড় তোলে। জয়া বচ্চনের সঙ্গে সিনেমাটিতে আরো অভিনয় করেছেন পশ্চিমবঙ্গের ভিক্টর ব্যানার্জি, ওমর রহিম, শায়না আমিন, হুমায়ুন ফরীদি, খায়রুল আলম সবুজ ও আজাদ আবুল কালাম।

শক্তি কাপুর

শক্তিমান অভিনেতা শক্তি কাপুর। এর বাইরে তিনি একজন জাঁদরেল ভিলেন, কমেডিয়ান কিংবা চরিত্রাভিনেতা – যেকোনো রূপেই শক্তি কাপুরকে বলিউডের কিংবদন্তি বলাই যায়। ১৯৯৫ সালে ফিল্মফেয়ারে সেরা কমেডিয়ানের পুরস্কার জয় করা শক্তি কাপুর ২০০০ সালে বাংলাদেশ এসে সাঈদুর রহমান সাঈদের পরিচালনায় ‘এরই নাম দোস্তি: টাইস নেবার ডাই’ সিনেমায় কাজ করেন।

২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে ছিলেন রিয়াজ ও শাবনূর।

ভাগ্যশ্রী

আরেক নামীদামী অভিনেত্রী ভাগ্যশ্রী। ১৯৮৯ সালের সিনেমা ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’ সিনেমায় অভিষেকেই বাজিমাৎ করেছিলেন তিনি। সালমান খানের বিপরীতে অভিনয় করে পেয়ে যান নবাগত অভিনেত্রীর ক্যাটাগরিতে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার। বলিউডে এটাই ভাগ্যশ্রীর প্রথম এবং শেষ সাফল্য।

এরপর দ্রুত বিয়ে করে ফেলায় বলিউডে খুব একটা থিঁতু হতে পারেননি তিনি। ২০০২ সালে ঢালিউডের সিনেমা ‘শত্রু ধ্বংস’তে দ্বৈত চরিত্রে দেখা যায় তাকে। দেলোয়ার জাহান ঝন্টু পরিচালিত সিনেমাটিতে আরো ছিলেন নূতন, ইলিয়াস কাঞ্চন, শাকিল খান, গোলাম মুস্তাফা, আনোয়ার হোসেন, আহমেদ শরীফ ও নাছির খান।

আশীষ বিদ্যার্থী

আশীষ বিদ্যার্থীর নাম শুনে হয়ত অনেকের গা কেঁপে উঠবে। কারণ সিনেমায় তিনি খুব কঠিন ভিলেনের রূপে সুপরিচিত। খ্যাতনামা এই ভিলেলেন মা বাঙালি বংশোদ্ভুত রেবা বিদ্যার্থী। হিন্দি, তামিল, কন্নড়, মালায়ালাম, তেলেগু, মারাঠি, পাঞ্জাবি কিংবা বাংলা – ভারত বর্ষে এমন কোনো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি নেই যেখানে কাজ করেননি। বলিউডে কাজে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন এই অভিনেতা।

ঢালিউডেও কাজ করেছেন তিনি। একটা নয়, তিনটি সিনেমায় কাজ করেছেন। যদিও জাজ মাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে ‘অগ্নি ২, ‘অঙ্গার’ কিংবা ‘হিরো ৪২০’ সবগুলোই ছিল যৌথ প্রযোজনার ছবি।

শরদ কাপুর

শরদ কাপুর। তাকে চিনতে কী কষ্ট হচ্ছে? আচ্ছা ‘জোশ’ সিনেমার কথা মনে আছে? শাহরুখ খানের বিপরীতে ভিলেন হিসেবে ‘প্রকাশ’ চরিত্রে কি অভিনয়টাই না করেছিলেন। ওই সময় ফিল্মফেয়ারে সেরা ভিলেন ক্যাটাগরিতে মনোনয়নও পেয়েছিলেন তিনি। এরপরও ‘লক্ষ্য’, ‘এলওসি কারগিল’, প্ল্যান কিংবা সর্বশেষ সালমান খানের সঙ্গে ‘জ্যায় হো’ সিনেমা করেছেন তিনি।

২০০৪ সালে সোহানুর রহমান সোহান নির্মিত ‘স্বামী ছিনতাই’ ছবিতে তিনি কাজ করেন। প্রয়াত নায়ক মান্না ও মৌসুমী, মিশা সওদাগর ছাড়াও সিনেমাটিতে আরো ছিলেন কলকাতার ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। সিনেমাটিতে প্লে-ব্যাক করেছিলেন কুমার শানু, অলকা ইয়াগনিক, অনুরাধা পাডোয়াল, অভিজিৎ, উদিত নারায়ন, সাধনা সরগম, বাবুল সুপ্রিয়, সুনিদি চৌহান, কবিতা কৃষ্ণমূর্তি, এন্ড্র কিশোর ও সাবিনা ইয়াসমিন।

চাঙ্কি পান্ডে

চাঙ্কি পান্ডে। ১৯৯৩ সাল অবধি বলিউডে বেশ দাপটের সাথেই ছিলেন এই অভিনেতা। পাপ কি দুনিয়া (১৯৮৮), খাত্রো কি খিলাড়ি (১৯৮৮), জ্যাহিরিলা (১৯৯০), রুপিয়া দাস কারো, বিশ্বমাতা (১৯৯২), লুটেরা (১৯৯৩) এবং আঁখে’র (১৯৯৩) মত সিনেমা করে লাইম লাইটে ছিলেন তিনি। যদিও এরপর খানদের আগমনের জের ধরে বাজার হারাতে শুরু করেন চাঙ্কি।

সাফল্য ও আর্থিক কারণে তিনি চলে আসেন ঢালিউডে। এখানে তার সবচেয়ে বড় সিনেমা ছিল ‘স্বামী কেন আসামী’। মনোয়ার খোকন পরিচালিত এই সিনেমাটিতে আরো ছিলেন শাবানা, জসিম ও ঋতুপর্ণা। এর সঙ্গীত পরিচালনায় ছিলেন স্বয়ং বাপ্পি লাহিড়ি। পরে তিনি ‘বেশ করেছি প্রেম করেছি’ নামের আরেকটি ঢাকাই সিনেমায় কাজ করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ

Best Electronics