Alexa এই গাছটির তিন হাজার বছর বেঁচে থাকার রহস্য

ঢাকা, রোববার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ১০ ১৪২৬,   ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

Akash

এই গাছটির তিন হাজার বছর বেঁচে থাকার রহস্য

কানিছ সুলতানা কেয়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:০৫ ১৫ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৪:১৩ ১৫ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

গাছেরও জীবন রয়েছে, এ তথ্য সবারই জানা। গাছ না থাকলে পরিবেশও বাঁচবে না। গাছ ও মানুষের জীবন একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত। তবে মানুষের গড় আয়ুর চেয়েও গাছের আয়ু অনেক বেশি। আপনি জানেন কি? পৃথিবীতে এমনো গাছ রয়েছে যার আয়ু এক হাজার থেকে সর্বোচ্চ তিন হাজার বছর পর্যন্ত। 

গাছটির নাম গিঙ্কগো বাইলোবা। এটিই নাকি পৃথিবীর সবচেয়ে বয়স্ক গাছ। এমনই দাবি করেছেন গবেষকরা। এ গাছ হাজার হাজার বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। সম্প্রতি, একদল উদ্ভিদ বিজ্ঞানীর গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই তথ্য। তারা বলছেন গিঙ্কগো বাইলোবা এখন পর্যন্ত পৃথিবীর সবচেয়ে বয়স্ক ও বড় গাছ। 

নতুন এ গবেষণাটি করেছেন অ্যাবারেস ওয়াইথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞানী হাওয়ার্ড থমাস। তিনি তার গবেষণায় জানিয়েছেন, গিঙ্কগো বাইলোবা প্রজাতির গাছটি মূলত জিনগত কারণেই হাজার বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় এবং এর আয়ুস্কাল এতো দীর্ঘ। 

সবুজ অবস্থায় গাছটি দেখতে এরকমসারাবিশ্ব জুড়ে এই গাছ বিভিন্ন উদ্ভিদ উদ্যানগুলোতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা চীনের হুবাই প্রদেশের আঞ্জলুতে প্রায় ৩৪ টি গিঙ্কগো গাছ বেছে নেন। এছাড়াও জিয়াংসু প্রদেশের কিছু গাছের উপরও এ গবেষণা চালানো হয়। 

চীনের ইয়াংঝু বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞানী লি ওয়াং এবং তার গবেষণাদল আবিষ্কার করেন গিঙ্কগো গাছ শত বছর পরও খুব স্বতঃস্ফূর্তভাবেই বেড়ে উঠছে। এ গাছের পাতার আকার, সালোকসংশ্লেষণ ক্ষমতা এবং গাছের বীজ উৎপাদনের উপর ভিত্তি করে এর বৃদ্ধি হয়। 

গিঙ্কগো গাছের জেনেটিক স্তরে কী ঘটছে তা আবিষ্কার করতে গবেষকরা এর পাতা, ছাল, কাঠ, টিস্যুসহ বিভিন্ন স্তর পরীক্ষা করেন। লি ওয়াং বলেন, মেইডেনহেয়ার নামেও পরিচিত এ গাছ। পুরনো গাছগুলোতে নতুন গাছের মতোই খাদ্য এবং রাসায়নিক তৈরি করার মতো যথেষ্ট হরমোন রয়েছে। গবেষণায় আরো দেখা যায়, তিন থেকে ৬৬৭ বছর পর্যন্ত বয়সী গাছগুলোর এমআইআরএনএ অণুগুলো প্রয়োজন মতো চালু এবং বন্ধ হতে পারে। 

গাছের পাতাবেইজিং ফরেস্ট্রি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞানী জিনসিং লিন এবং গবেষণার একজন লেখক বলেছেন, এটি হাজার হাজার বছর পরেও ক্যাম্বিয়াল কোষগুলোর  বিভাজন হার হ্রাস পেতে থাকলে গাছের বৃদ্ধি হ্রাস পেতে পারে। তবে গিঙ্কগো গাছ বার্ধক্যজনিত কারণে মারা গেলেও বেশিরভাগ গাছ কীটনাশক, খরা বা কেটে ফেলার কারণে মারা যায়।  

যুক্তরাষ্ট্রের ডেন্টনের উত্তর টেক্সাসের একজন লেখক এবং জীববিজ্ঞানী রিচার্ড ডিকসন বলেছেন, এ গাছগুলোতে ফ্ল্যাভোনয়েডস নামক প্রতিরক্ষামূলক অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল যৌগ রয়েছে। যা আশ্চর্যজনকভাবে হাজার হাজার বছর পর্যন্ত এ গাছকে বাঁচিয়ে রাখে। তবে নির্বিচারে বন নিধনসহ নানা কারণে এ গাছ বর্তমানে বিলুপ্তির পথে।

গাছের ফলগিঙ্কগো বাইলোবার উপকারিতা:

এ গাছের পাতায় রয়েছে অনেক স্বাস্থ্যগুণ। বিভিন্ন রোগের দাওয়াই হিসেবে এর কার্যকারিতা চোখে পড়ার মতো। চীনে প্রাচীনকালে চিকিৎসায় এই গাছের ফল ব্যবহার করা হয়েছিল। অ্যাজমার সমস্যায় এটি ম্যাজিকের মত কাজ করে। ‘ইনস্টিটিউট অব ন্যাচারাল প্রোডাক্টস রিসার্চ’ এর তথ্যানুসারে গিঙ্কগো বাইলোবা যেসব রোগ সারায় তা জানানো হলো-

১. আলঝেইমার রোগে যারা আক্রান্ত তাদের চিকিৎসায় এই গাছের পাতা ব্যবহার করা হয়।

২. অতিরিক্ত রাগ নিয়ে যারা দুশ্চিন্তাগ্রস্থ তাদের চিকিৎসায়ও এটি ব্যবহৃত হয়।

এই গাছের পাতা বিভিন্ন রোগের ওষুধ৩. গ্লুকোমা রোগটি দৃষ্টিশক্তি নিভিয়ে দিতে পারে। এ রোগ থেকেও বাঁচায় গিঙ্কগো বাইলোবা গাছটি।

৪. যৌন সক্ষমতা বাড়াতেও এই গাছের পাতা বেশ উপকারী।

৫. গাইনোরিয়ার মত ভয়াবহ রোগও সারায় গিঙ্কগো বাইলোবা গাছের পাতা।

বর্তমানে গিঙ্কগো বাইলোবা গাছের পাতা থেকে প্রস্তুতকৃত ট্যাবলেট, নির্যাস এমনকি শুকনো পাতাও চা হিসেবে খেতে পারেন। অবশ্য প্রাপ্তবয়স্করা এটি ১২০ থেকে ২৪০ মিলিগ্রামের বেশি খাবেন না। এটি ব্যবহারের চার থেকে ছয় সপ্তাহ পরই  এর সুফল টের পাবেন। শিশু, ডায়াবেটিস রোগী, গর্ভবতী নারীরা অবশ্যই এটি ব্যবহার করবেন না।

সূত্র: সাইন্সম্যাগ ও মেডিকেলনিউজটুডে

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস