Alexa উৎসবের জন্য প্রস্তুত ৩৫ কোটি বই

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৩ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ৯ ১৪২৬,   ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

উৎসবের জন্য প্রস্তুত ৩৫ কোটি বই

সাইফুল ইসলাম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:০৬ ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৫:১২ ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

নতুন বছরের প্রথমদিন এবারো শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হবে নতুন বই। গত দশ বছরের ধারাবাহিকতায় পয়লা জানুয়ারি সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা হবে বই উৎসবের। রেওয়াজ অনুযায়ী রাজধানীর একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা হবে এ বই উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের।

ডিসেম্বরের মধ্যেই উপজেলা থেকে দেশের সব স্কুল-মাদরাসায় নতুন বই পৌঁছে যাবে। এরই মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে বই পৌঁছে যাওয়ায় দুর্গম ও চরাঞ্চলেও বছরের প্রথম দিনেই বই পাবে শিক্ষার্থীরা। আগামী শিক্ষাবর্ষের শুরুতে ৪ কোটি ২৭ লাখ ৭২ হাজার ৭৪৭ জন ছাত্রছাত্রীর হাতে ৩৫ কোটি ৩১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৫৪ কপি বই তুলে দেবে সরকার। শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন বই নববর্ষের অনন্য উপহার।

নতুন বছরের বই শিশুদের হাতে তুলে দিতে এরই মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে সব বই পাঠিয়ে দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এবছর বই ছাপাতে ও প্রেরণ করতে সরকারের পক্ষ থেকে এগারোশ’ কোটি টাকার মতো খরচ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রায় ১৭ হাজার ট্রাক দুইমাসে বইয়ের লটগুলোকে পৌঁছে দিয়েছে স্কুলের কাছাকাছি। এনসিটিবি চেয়াররম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, বইগুলোর পাঠ্যসূচি তৈরি করার সময় শিশুদের স্বপ্নের কথা মাথায় রাখি আমরা।

বইয়ের বর্ণমালার সঙ্গে পরিচিত হয়েই তারা মাথার ভেতরে স্বপ্ন বুনতে শিখবে এবং বেড়ে উঠবে। এজন্য তাদের বইগুলোও সর্বোচ্চ যত্নে ছাপানো হয়। সম্পূর্ণ দেশীয় মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এবার বইগুলো ছাপানো হয়েছে। এরই মধ্যে সারা দেশের উপজেলায় নতুন বই পৌঁছে গেছে। বছরের প্রথম দিনে উৎসব করে এসব বই বিতরণ করা হবে। সারা দেশে বইয়ের কোনো ঘাটতি হবে না।

তিনি বলেন, বিনামূল্যের এ বই কেউ টাকা দিয়ে কিনবেন না। এনসিটিবির নির্ধারিত বইয়ের বাইরে অন্য কোনো বইও কেনার দরকার নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। ছাপা কাজে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জানান, বইয়ের কাগজের মান ভালো। বইগুলো এবারো আকর্ষণীয় ও রঙিন করা হয়েছে।

এনসিটিবি চেয়াররম্যান জানান, ২০২০ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ৩৫ কোটি ৩১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৫৪ কপি বই ছাপা হয়েছে। এরমধ্যে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১০ কোটি ৫৪ লাখ দুই হাজার ৩৭৫ কপি এবং মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৪ কোটি ৭৭ লাখ ৪২ হাজার ১৭৯ কপি বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। এসব বই ছাপতে সরকার যে এগারোশ’ কোটি টাকা খরচ করেছে এরমধ্যে প্রাথমিকে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা এবং মাধ্যমিকসহ অন্যান্য স্তরের বই ছাপাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা। তিনি আরো জানান, এ বছর দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতির বইও ছাপানো হয়েছে।

এছাড়া ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য ছাপানো হয়েছে আলাদা ভাষার বই। এনসিটিবির বিতরণ নিয়ন্ত্রক মো. জিয়াউল হক বলেন, প্রাক-প্রাথমিক ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের ব্রেইল পদ্ধতির শতভাগ বই এরইমধ্যে এলাকায় চলে গেছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের বইগুলোও যথাসময়ে পৌঁছে গেছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৯৭ হাজার ৫৭২টি শিশুর জন্য তিন শ্রেণিতে পাঁচটি ভাষায় দুই লাখ ৩০ হাজার ১০৩ কপি বই ছাপানো হয়েছে।

এবার নিয়ে টানা দশমবারের মতো প্রথম থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে পাবে নতুন পাঠ্যবই। ২০১০ শিক্ষাবর্ষ থেকেই সরকার ধারাবাহিক সাফল্য হিসেবে নতুন বছরের শুরুতেই সারাদেশের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ শুরু করে। ২০২০ সাল পর্যন্ত মোট ৩৩০ কোটির বেশি বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে।

এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, বছরের প্রথম দিনে শিশুদের হাতে বই তুলে দিতে পারার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। মন্ত্রী হিসেবে নয় মানুষ হিসেবে এই আনন্দ আমি অনুভব করি। আমাদের শিশুরা পড়াশোনা করবে, নতুন বইয়ের গন্ধে আলোড়িত ও উজ্জীবিত হবে।  প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, এই একটি কাজ আমরা অধিক আনন্দের সঙ্গে করি। কারণ এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে আমাদের নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যত। শিশুরা নতুন বই হাতে পাওয়ার পর যে নির্মল আনন্দ পায় সেটিই আমাদের অর্জন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস