Alexa উপকূলে সম্ভাবনাময় কেওড়া চাষ

ঢাকা, বুধবার   ১৬ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ২ ১৪২৬,   ১৭ সফর ১৪৪১

Akash

উপকূলে সম্ভাবনাময় কেওড়া চাষ

ইমরান হোসাইন, পাথরঘাটা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:০০ ২০ আগস্ট ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বরগুনার পাথরঘাটায় বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর সঙ্গে সাগরের মোহনায় গড়ে উঠছে হরিণঘাটা ও লালদিয়া বন। বনের পূর্ব প্রান্তে সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি নজর কাড়ে সবুজ কেওড়া গাছ।

এ বনাঞ্চলের সবচেয়ে উঁচু গাছ কেওড়া। এ গাছ প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূলীয় এলাকার রক্ষাকবচ হিসেবে পরিচিত। সম্ভাবনাময় এ ফল রফতানি করে রাজস্ব আয় বাড়ানো সম্ভব।

কেওড়া উপকূলীয় অঞ্চলের অতি পরিচিত ফল। সুন্দরবনের সহজলভ্য কেওড়া ফল স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। সবুজ রঙের ফলের উপরের অংশের স্বাদ টক। এতে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ থাকে। কেওড়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, কোলেস্টেরল ও চর্বি কমায়।

অনেকটা ডুমুরের মতো, কাঁচাও খাওয়া যায়। এছাড়া কেওড়ার চাটনি, টক আর ডাল উপকূলীয় মানুষের পছন্দের খাবারের মধ্যে অন্যতম। উপকূলের অনেক পরিবারে চুলো জ্বলে কেওড়া বিক্রি করে পাওয়া অর্থে।

সুন্দরবনে উৎপন্ন মধুর একটা বড় অংশ আসে কেওড়া ফুল থেকে। এ গাছটি হয়ে উঠতে পারে লবণাক্ত ও কর্দমাক্ত জমির বিশেষ ফসল। এ গাছ উপকূলীয় মাটির ক্ষয় রোধ করে, উর্বরতা বাড়ায়।

লালদিয়া কেওড়া বন

কেওড়া ফল রফতানির ব্যবস্থা করা হলে রাজস্ব আয় যেমন বাড়বে, তেমনি কর্মসংস্থান হবে উপকূলের হাজারো নিম্নবিত্ত মানুষের। সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর পাড়ের অনেক মানুষ কেওড়াকে সম্ভাবনাময় ফল হিসেবে দেখছেন। অনেক দরিদ্র পরিবার এ ফল আহরণ ও বিক্রি করে সচ্ছল হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পাথরঘাটা থেকে প্রচুর কেওড়া ফল বিক্রি হয়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সেলের এক গবেষণায় দেখা গেছে, কেওড়া ফলে রয়েছে ১২% শর্করা, ৪% আমিষ, ১.৫% ফ্যাট, ভিটামিন সি। কেওড়া ফল পলিফেনল, ফ্লাভানয়েড, অ্যান্থোসায়ানিন, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, আনস্যাচুরেটেড ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিডে পরিপূর্ণ। এ ফল শরীর ও মনকে সতেজ রাখার সঙ্গে সঙ্গে রোগ প্রতিরোধেও কার্যকর। চায়ের মত এ ফলটিতে ক্যাটেকিনসহ বিভিন্ন ধরনের পলিফেনল রয়েছে।

বন বিভাগের পাথরঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, জোয়ার-ভাটা হয় এমন চরভরাটি জমিতে বাণিজ্যিকভাবে কেওড়া চাষ করা হলে পরিবেশ ও বন্যপ্রাণি সংরক্ষণের পাশাপাশি জ্বালানি কাঠ-ফল বিক্রি ও রফতানি করা সম্ভব। এতে সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর পাড়ের মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনীতির উন্নয়ন হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর