Alexa উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল 

ঢাকা, শনিবার   ২৩ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৮ ১৪২৬,   ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল 

আহসানুর রহমান রাজীব, সাতক্ষীরা  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৫৮ ২ নভেম্বর ২০১৯  

ছবি: ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল

ছবি: ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল

উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষদের স্বাস্থ্যসেবায় পরিবর্তন আনতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের সোয়ালিয়াত গ্রামে নির্মীত হয়েছে ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল। জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্যে হাসপাতালটি নির্মিত হয়েছে।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের উদ্যোগে হাসপাতাল ভবনটি নির্মাণ করে আর্কিটেক প্রতিষ্ঠান উরবানা। হাসপাতাল সূত্রানুযায়ী, এক বছরে এই হাসপাতাল থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রায় ২২ হাজার মানুষ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা নিয়েছে। শুধু চিকিৎসার জন্য নয় এই হাসপাতালের দৃষ্টিনন্দন ভবনের নকশা নজর কেড়েছে সবার। অনেকেই শুধু এই হাসপাতালের ভবনের নকশা ও সুন্দর পরিবেশ দেখতে ভিড় করেন।

প্রায় ৪৬ হাজার ৭০০ বর্গফুটের বিশাল এলাকাজুড়ে এই হাসপাতালটি নির্মিত। নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন এই হাসপাতাল ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৩ সালে। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে এই হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, অত্যাধুনিক ল্যাবে ঢাকার মানে সব যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া একশ টাকায় যেকোনো ডাক্তার দেখানো যায়। অনেকের মতে, এ হাসপাতালের মধ্য দিয়ে তাদের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের ফি ৫০০ থেকে হাজার টাকা হওয়ায় অনেকেই তাদের রোগের জন্য ডাক্তার দেখাতে পারেন না। কিন্তু ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল স্থাপন হওয়ায় তারা এখন তাদের রোগের চিকিৎসা নিতে পারছেন। মুন্সিগঞ্জ গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা মহিবুর রহমান বলেন, অনেক সময় টাকার অভাবে ডাক্তার দেখাতে পারি না। এই হাসপাতালটি হওয়ার পর কম খরচে ডাক্তার দেখাতে পারি। এখানে রোগী ভর্তি ও অপারেশনের ব্যবস্থাও আছে।

খুলনা থেকে বেড়াতে আসা হাসিবুর রহমান ও তার স্ত্রী মেহেরিন বলেন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের ছবি দেখি তবে এখানে এসে তার চেয়েও সুন্দর দৃশ্য দেখতে পাচ্ছি। হাসপাতালের পরিবেশ ও সুন্দর নকশা করা ভবন যে কারোরই নজর কাড়ে। 

হাসপাতালের ব্যবস্থাপক মারুফ হোসেন বলেন, হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবার পাশাপাশির রয়েছে অত্যাধুনিক ও সু-পরিসর অপারেশন থিয়েটার, প্যাথোলজি ল্যাব, আল্ট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি ও ডিজিটাল এক্সরে। জেনারেল, ডেন্টাল, চক্ষু, ফিজিওথেরাপিসহ আউটডোর সার্ভিস রয়েছে এখানে। আমরা স্বল্প মূল্যে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছি। 

তিনি আরো বলেন, সিডর ও আইলার পর মূলত উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার দিকে দৃষ্টি দেয় তাদের প্রতিষ্ঠান। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের পর এ অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার দীর্ঘমেয়াদি টেকসই সমাধান করতে স্থানীয় কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করে প্রকল্পগুলো নেয়া হয়েছে। স্থানীয় মানুষ হাসপাতাল নির্মাণে জমি পর্যন্ত লিখে দিয়েছেন। মানসম্মত হাসপাতাল হিসেবে এরইমধ্যে হাসপাতালটি পরিচিতি পেয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস