উদ্যোক্তার অভাবে কর্মসংস্থান সংকট

ঢাকা, সোমবার   ২৪ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১১ ১৪২৬,   ২০ শাওয়াল ১৪৪০

উদ্যোক্তার অভাবে কর্মসংস্থান সংকট

নিকলী (কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৪:২৯ ১৪ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৪:২৯ ১৪ জানুয়ারি ২০১৯

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা সদরসহ সাতটি ইউপিতে ভূমিহীন, ক্ষেতমজুর , বেকার , শিশুশ্রমিকসহ ছিন্নমূল মানুষের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। রাজধানী অথবা জেলা শহরের সঙ্গে নিকলী উপজেলার আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলেও স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও এখানে কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি।

এখানে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার সম্ভবনা থাকলেও উদ্যোক্তা না থাকায় সেটিও হচ্ছে না। কর্মসংস্থানের অভাব এখানে চরম আকার ধারণ করেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রানুযায়ী, উপজেলার শতকরা ৬০ ভাগ লোকই ভূমিহীন ও ক্ষেতমজুর। ফসলের মৌসুম বাদ দিলে তাদের প্রায় সাত মাস কর্মহীন থাকতে হয়। অন্য কাজের কোনো সুযোগ না থাকায় এরা দেশের বিভিন্ন বড়-বড় শহরে গিয়ে রিকশা চালিয়ে জীবিকা অর্জন করেন। 

অপর দিকে শিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত মিলিয়ে বেকারের সংখ্যা প্রায় অর্ধলক্ষাধিক। এদের মধ্যে অনেকেই নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্য হওয়ায় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ফাইফরমাশ খাটে বা স্বার্থন্বেষী মহলের হয়ে কাজ করে। 

শিশুশ্রম নিষিদ্ধ হলেও নিকলী সদরসহ সাতটি ইউনিয়নের বাজার ও গ্রামের ছোট ছোট বাজারগুলোর চায়ের দোকান, রিকশা-ট্যাম্পুর চালক ও হেলপার, ওয়েল্ডিংয়ের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁয়, ইটের ভাটা, জুতা পালিশ, ভুট-বাদাম ও পান-সিগারেট বিক্রয়ের কাজ শিশুরা অহরহ করে যাচ্ছে। অনেকে শিশু জড়িয়ে পড়ছে ভিক্ষাবৃত্তিতেও। 

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ব্যক্তিগতভাবে এসব সমস্যার কথা স্বীকার করলেও সভা-সমাবেশে শুধুই উন্নয়নের কথা বলেন। 

সদর ইউপি সদস্য ও নিকলী উপজেলা সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, কোনো সরকারই নিকলীর নানা সমস্যা নিয়ে সমাধানে পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে এসব সমস্যা এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। নিষিদ্ধ থাকা স্বত্ত্বেও শিশুরা শ্রম বিক্রি করছে তাদের পরিবারের ভরণ-পোষণের জন্যই। 

গবাদিপশু পালন, ছাগল প্রকল্পের ঋণ, কৃষিঋণের টাকা প্রভাব খাটিয়ে এমন সব লোক নিয়ে নিচ্ছে যাদের সঙ্গে এসব প্রকল্পের কোনো সম্পর্ক নেই। 

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী হলে গ্রামের সমস্যাগুলো সমাধানে জনপ্রতিনিধিরা সচেষ্ট হবেন। তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারায় সমস্যাগুলো প্রকট আকার ধারণ করছে। কারণ তারা উদ্যোগ নিলেও দলীয় প্রভাবের বাইরে যেতে পারেন না।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস