Alexa উদ্ভট যত নিষেধাজ্ঞা

ঢাকা, সোমবার   ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ১১ ১৪২৬,   ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৪১

Akash

উদ্ভট যত নিষেধাজ্ঞা

 প্রকাশিত: ১৬:৫৬ ৯ অক্টোবর ২০১৮   আপডেট: ১৬:৫৬ ৯ অক্টোবর ২০১৮

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমতাসীনদের নেয়া বিভিন্ন উটকো সিদ্ধান্তের কারণে এসেছে নানা উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। কিছু সিদ্ধান্ত হয়ে এসেছে আশীর্বাদ, আবার কিছু সিদ্ধান্ত এনেছে বিপর্যয়। সরকার প্রধানরা দাবি করেন যে তাদের এই সিদ্ধান্ত জনগণের জন্য মঙ্গল হয়েই আসবে। তবে জনগণ তা মানতে রাজি আছে কি-না, তা নিয়ে তাদের মাথাব্যথা খুব একটা দেখা যায় না। এছাড়াও এমন কিছু সিদ্ধান্ত সরকার প্রধানরা নিয়ে থাকেন, যেগুলো আপাতদৃষ্টিতে বোকার সিদ্ধান্ত ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না। এমনই কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে এই আয়োজন-

কেচাপ:

২০১১ সালে, ফ্রান্সের প্রাথমিক স্কুলগুলোর জন্য একটি আজব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেখানকার ক্যাফেটেরিয়ায় কেচাপের সরবরাহ কমিয়ে দেয়া হবে। হপ্তায় মাত্র একদিন শিক্ষার্থীরা ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের সঙ্গে কেচাপ উপভোগ করতে পারবে। তবে ঐতিহ্যবাহী ফরাসী ডিশগুলোতে কেচাপের ব্যবহার একদমই নিষিদ্ধ করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল, শিক্ষার্থীরা যেন ফরাসী খাবারের প্রকৃত স্বাদ গ্রহণ করতে পারে এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সেগুলো সংরক্ষণ করতে পারে। কেচাপ নিয়ে ফরাসী কর্তৃপক্ষের এতটা সন্ধিহান হওয়ার কারণ অবশ্য জানা যায়নি। তবে কেউ কেউ ধারণা করেন ম্যাকডোনাল্ডসের বিশালত্বে ধীরে ধীরে হারাতে বসেছে ফরাসী খাবারের স্বাদ। তাই সেগুলো টিকিয়ে রাখবার জন্য এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

মুখ ব্যাজার:

কেউ মৃত্যুবরণ করলে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় কিংবা অসুস্থ কাউকে হাসপাতালে দেখতে গেলে মুখ ব্যাজার করা মিলানে নিষিদ্ধ। শহরের নিয়মানুযায়ী সকলকেই হাসিমুখে থাকতে হবে। এই কাজটি করতে যারা ব্যর্থ হবেন, তাদের গুনতে হবে জরিমানা। উনিশ শতকে মিলান যখন অস্ট্রিয়ার শাসনাধীন, তখন এই আইন তৈরি হয়। পরবর্তীতে এটিকে আর বাতিল কিংবা সংশোধন করা হয়নি।

যৌনশিক্ষা:

বর্তমান বিশ্বে প্রাথমিক শিক্ষাবস্থা থেকেই শিশুদের যৌনশিক্ষা দেয়া খুবই প্রয়োজনীয়। তবে উগান্ডা যেন স্রোতের বিপরীতে চলতে পছন্দ করে। যৌনশিক্ষা প্রদান করা পূর্ব আফ্রিকার এই দেশে নিষিদ্ধ এবং তা বেশ কড়াকড়িভাবেই পালন করা হয়। এমনকি হল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতও সরকারের এই সিদ্ধান্তের পক্ষে। যদিও অলাভজনক কিছু প্রতিষ্ঠান সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা শুরু থেকেই করে আসছে। সেন্টার ফর হেলথ হিউম্যান রাইটস এন্ড ডেভেলপমেন্টযৌনশিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে সরকারকে একটি নীতি গ্রহণ করতে বলেছে। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। আদালতে ব্যাপারটির নিষ্পত্তি ঘটতে যাচ্ছে শিগগিরই।

মজা করা:

অন্যসব দেশে যেগুলো সাধারণ প্রথা হিসেবে মানা হয়ে থাকে, উত্তর কোরিয়াতে সেগুলোই নিষিদ্ধ। এদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ হলো, উত্তর কোরিয়াতে মজা করা নিষিদ্ধ। কিম জং উনের শাসন নিয়ে সাধারণ মানুষ তাদের দৈনন্দিন কথাবার্তায় হাসিঠাট্টা করতে পারে না। পরোক্ষাভাবে ব্যাঙ্গাত্মক মজা করাও সেখানে নিষিদ্ধ। “সব কিছুই মার্কিন ষড়যন্ত্র”- বলে জনগণের কাছ থেকে তাদের স্বাভাবিক অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছেন কিম। তবে জনগণেরাও কম যান না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়া উপলক্ষে রাশিয়া এবং চীন ২০১৬ সালে তাদের উদ্যোগে একটি আনন্দানুষ্ঠানের আয়োজন করে। এখানে কিম জং উন যোগদান করেননি।

হলুদ টি-শার্ট:

২০১৫ প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে প্রচার চালানোর সময় মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে জড়ো হয় হলুদ টি-শার্ট পরিহিত বিরোধীরা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠলে জল কামান ও কাঁদুনে গ্যাস দিয়ে তাদেরকে প্রতিহত করা হয়। বিদ্রোহ বাড়তে বাড়তে এমন একটি অবস্থার উদ্ভব হলো যে, হলুদ টিশার্টকে নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হলো সরকার। প্রথমদিকে মালয়েশিয়ার কোর্ট সরকারের পক্ষে থাকলেও ২০১৬ সালে তারা এই নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে দেয়।

পনি টেল:

২০১০ সালে ইরানের সরকার জনগণকে চুল বড় করে পনিটেইল করা নিষিদ্ধ করে। কারণ,এটি পশ্চিমা ফ্যাশনের অনুরূপ। একইসঙ্গে তারা মুসলিম শরিয়া মোতাবেক চুলের ছাঁট রাখা প্রচলন করে, যেটি বেশ ছোট। এখানে একটি প্রশ্ন এসে দাঁড়াচ্ছে। লম্বা চুলের সঙ্গে পশ্চিমা ফ্যাশনের সম্পর্ক কী?

ফ্লিপ ফ্লপ:

কিছু কিছু জায়গায় ফ্লিপ ফ্লপ নিষিদ্ধ করে দেয়াটা বোধহয় ঠিকই আছে। যেমন, অস্ট্রেলিয়ার কানটাস এয়ারলাইন্স তার লাউঞ্জে ফ্লিপ ফ্লপ পরে যাত্রীদের বসতে দেয় না। এসব ক্ষেত্রে তারা পোশাক বিধান মেনে চলে। তবে ইতালির কাপ্রিতে পুরো অঞ্চলেই ফ্লিপ ফ্লপ স্যান্ডাল পরা নিষিদ্ধ! বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন একটি রীতি এটি, যা এখনও সংশোধন হয়নি। এখানকার মানুষ খুবই শান্তিপ্রিয়। ফ্লিপ ফ্লপের শব্দ তাদের শান্তিতে ব্যাঘাত ঘটাবে বলে তাদের বিশ্বাস।

মধ্যরাতের পর নাচন:

প্রায় ৬৭ বছর জাপানে মধ্যরাতের পর নাচ নিষিদ্ধ ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে এই নর্তন বেশ্যাবৃত্তিকে অনেকটাই উস্কে দিয়েছিল। ডান্স ক্লাবগুলোতে হরহামেশাই থাকত রুপোপজীবীদের আনাগোনা। পাবলিক ড্যান্সিংও নিষিদ্ধ ছিল। তবে ভেন্যু যদি লাইসেন্সপ্রাপ্ত থাকত, তাহলে নাচতে আর কোনো মানা ছিল না। তবে আইন কিন্তু সেটিই থাকত। মধ্যরাতের পর নাচা নিষেধ। যুদ্ধের পর জাপানে বিপুল উন্নতি সাধন হলো। আস্তে আস্তে উঠে যেতে লাগল অনেক নিষেধাজ্ঞা। ২০১৫ সালে এই নিষেদ্ধাজ্ঞাও উঠিয়ে দেয়া হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস/এসজেড