.ঢাকা, সোমবার   ২২ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৮ ১৪২৬,   ১৬ শা'বান ১৪৪০

উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান

 প্রকাশিত: ১৭:৪৩ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৭:৪৩ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সাফ ফুটবল

সাফ ফুটবল

ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হওয়া মানে এক ধরনের আলাদা উত্তেজনা। সেটা  খেলায় হোক বা অন্য যে কোন ক্ষেত্রে। ঠিক একইরকম অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে এইবারে সাফ সুজুকি কাপ টুর্নামেন্টে।

১৩ বছর পর দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ খ্যাত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান। এখন তাদের সামনে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠার হাতছানি। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ চির প্রতিদ্বন্দ্বি ভারত।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বুধবার টুর্নামেন্টের প্রথম সেমি ফাইনালে খেলবে নেপাল ও মালদ্বীপ। ম্যাচটি শুরু হয়েছে বিকেল চারটায়।আর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দ্বিতীয় সেমি ফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারত ও পাকিস্তান।

পাকিস্তানের চেয়ে ভারত যে কোনো আসরের সাফল্য বিচারে বেশ এগিয়ে। কিন্তু তারপরও সব কথার শেষে ম্যাচটা ভারত-পাকিস্তান বলে কথা। প্রতিবেশি দুই দেশের রাজনৈতিক বৈরিতা থেকে শুরু করে খেলার বাইরের অনেক কিছুই ঢুকে যায় সেখানে। আর একারণেই সাফে দুই দলের লড়াইটি আকর্ষণ ছড়াচ্ছে।

সাফ ফুটবলে রেকর্ড সাত বারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। পাকিস্তান রানার্সআপ হতে পারেনি একবারও। তাদের সেরা সাফল্য ১৯৯৭ আসলে তৃতীয় স্থান অর্জন। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইও পার্থক্যটা বুঝিয়ে দিচ্ছে। সবমিলে দুই দলের ২৩ বারের দেখায় ১৪টিতেই জিতেছে ভারত। ড্র ৬টিতে। পাকিস্তান জিতেছে মাত্র ৩ ম্যাচ।

সাফের ফাইনালে জায়গা করে নিতে পাকিস্তানকে তাই দুর্দান্ত কিছু করা ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু সেটা কতটা সম্ভব তাদের পক্ষে? তিন বছর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ছিল না পাকিস্তান জাতীয় দল।

সেই নিষেধাজ্ঞা শেষে দেশটি প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে এই সাফে। নিজেদের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে নেপালকে তারা ২-১ গোলে হারিয়ে শুরু করে টুর্নামেন্ট। তবে বাংলাদেশের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় দ্বিতীয় ম্যাচে। এরপর ভুটানকে হারিয়ে দলটি জায়গা করে নেয় সেমি ফাইনালে।

ভারত দক্ষিণ এশিয়ার গন্ডিতে অনেক আগেই বের হয়ে আসছে।র‌্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের অবস্থান একশ’র (বর্তমান অবস্থান ৯৬) মধ্যে নিয়ে গেছে দলটি। সাফের আসরে তাই তারা পাঠিয়েছে বয়স ভিত্তিক দলকে। ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলটিকে যে হেলা ফেলার উপায় নেই তা তারা বুঝিয়ে দিয়েছে ইতিমধ্যে। ‘বি’ গ্রুপে শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ যেমন কোনো পরীক্ষাই নিতে পারেনি ইংলিশ কোচ কনস্ট্যানটাইনের দলের। দুটি দলই হেরেছে ২-০ গোলে।

ভারতের তারুণ্যের শক্তি বোঝাতে আরেকটা উদাহরণ টানা যেতেই পারে। দেশটির অনূর্ধ্ব-২০ দল কয়দিন আগে হারিয়েছে আজেন্টিনার অনূর্ধ্ব-২০ দলকে।

পাকিস্তানের ব্রাজিলিয়ান কোচ আন্তেনিও নোগেইরার তুনে বলেন, আমাদের উপর কোনো চাপ নেই। পাকিস্তান ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও আমার কথা হয়েছে। তিনিও কোনো কিছু চাপিয়ে দেননি আমাদের উপর। আমরা ভারতের বিপক্ষে স্বাভাবিক খেলাটা খেলব। ছেলেরা সেমিফাইনাল ম্যাচের জন্য প্রস্তুত।

ঢাকার মাঠেই ২০০৩ সালে ভারতকে হারিয়েছিল পাকিস্তান। নিজেদের ইতিহাসে ভারতের বিপক্ষে যা তাদের দ্বিতীয় জয়। তৃতীয় জয়টি পায় তারা ২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে। প্রথম জয়টি ছিল ১৯৫৯ সালে এএফসি এশিয়ান কাপে।

পাকিস্তান সবশেষ ২০০৫ সালে ঘরের মাঠে সাফের সেমিফাইনালে উঠেছিল। কিন্তু বাংলাদেশের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে তাদের ফাইনালে যাওয়া হয়নি। এবারও তারা বাংলাদেশের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে। তবে দুর্ভাগ্যের কারণে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে যেতে পারেনি। গ্রুপ রানার্স-আপ হয়ে পাকিস্তান ১৩ বছর পর শেষ চারে নাম লিখিয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ, আরএস/সালি