উত্তাল পদ্মা দিচ্ছে বন্যার পূর্বাভাস

ঢাকা, শনিবার   ২৫ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ১০ ১৪২৬,   ১৯ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

ফারাক্কা দিবস আজ 

উত্তাল পদ্মা দিচ্ছে বন্যার পূর্বাভাস

আমিনুল ইসলাম জুয়েল, পাবনা  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৫৩ ১৬ মে ২০১৯   আপডেট: ১২:৫৯ ১৬ মে ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ফারাক্কা দিবস আজ। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির ২২ বছর পূর্তি। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলকে মরুকরণ থেকে রক্ষায় ১৯৯৬ সালের ১৬মে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি হয়। সে সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী দেব গৌড় ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই চুক্তি সই করেন। 

চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ৩৫ হাজার কিউসেক পানি দেয়ার কথা ভারতের। কিন্তু চুক্তির পর দু'একবার বাদে বেশিরভাগ সময়ই কম পানি পেয়েছে বাংলাদেশ। পানি সংকটে চাষাবাদসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মরুময়তা দেখা দেয়। পদ্মার শাখা-উপশাখা নদীগুলোর অবস্থা দাঁড়ায় মরণদশায়। 

এর বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কমিশনের (জেআরসি) পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল। তাদের দাবি, চুক্তি অনুযায়ী এ বছর বেশি পানি পাচ্ছে বাংলাদেশ। 

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা বলছেন, এই পানি বৃদ্ধি পাবনাসহ উত্তর জনপদে আগাম বন্যার পূর্বাভাস দিচ্ছে। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ১৪ মে পর্যন্ত ৬.৫৮ মিটার পরিমাপ করা হয়েছে, যা এই সময়ে এর আগে কখনো দেখা যায়নি। 

ভারতের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী বছরের এই সময়ে পদ্মায় পানির প্রবাহ থাকার কথা সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার এবং সর্বনিম্ন ১৫ হাজার কিউসেক। অথচ এখন পদ্মায় পানির প্রবাহ রয়েছে প্রায় ৮০ হাজার কিউসেক। ১৪ মে বুধবার ৭৯ হাজার কিউসেক পানি পাওয়া গেছে। যা সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি পানি প্রবাহের রেকর্ড। 

পাউবোর পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী ও উত্তরাঞ্চল পানি বিভাগের পরিমাপক কে এম জহুরুল হক বলেন, এ বছরই প্রথম খরা মৌসুমে পদ্মায় প্রায় দ্বিগুণের বেশি পরিমাণ পানি পাওয়া যাচ্ছে। ২০১৬ সালে পদ্মায় এই সময়ে পানি পাওয়া গিয়েছিল ১৫ হাজার ৩০০ কিউসেক, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে পানির প্রবাহ মোটামুটি স্বাভাবিক ছিল কিন্তু এ বছর পানি প্রবাহ দ্বিগুণ। 

দেশের বৃহত্তম ভেড়ামারা গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের আওতায় ৪ লাখ ৮৮ হাজার একর জমিতে সেচ সরবরাহ করার কথা থাকলেও পানির অভাবে ২০১৮সালে মাত্র ১ লাখ ১৬ হাজার একর জমিতে সেচ সরবরাহ করা হয়। পানি বাড়ার কারণে এ বছর এই প্রকল্প সচল আছে এবং স্বাভাবিকভাবেই চলছে বলে জানিয়েছেন পাউবো কর্মকর্তারা।

নদী গবেষক ও বিশ্লেষক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ বছর ব্যতিক্রম হলেও বেশিরভাগ সময়ই চুক্তি অনুযায়ী পানি পাওয়া যায়নি। শুকনো মৌসুমে ঈশ্বরদীর পাকশী হার্ডিঞ্জ সেতুর উজান ও ভাটিতে পদ্মার পানির স্তর নেমে যাওয়ায় এই অঞ্চলে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এক সময়ের প্রমত্তা পদ্মা পরিণত হয়েছে ছোট নদীতে। শুকিয়ে গেছে এই অঞ্চলের সুতা নদী, কমলা নদী, ইছামতী ছাড়াও আরও অন্তত ১৭টি নদীর। তিনি বলেন, পদ্মা ও এই অঞ্চলের মানুষকে বাঁচাতে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি পর্যালোচনা করতে হবে। 

পরিবেশবিদ ও সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শাহনেওয়াজ সালাম বলেন, পানি স্বল্পতার কারণে মরুকরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে পদ্মা সংশ্নিষ্ট এলাকা। বিশেষ করে রাজশাহী অঞ্চল ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্রও এখন হুমকির মুখে। এসব থেকে রক্ষা পেতে নতুন করে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি হওয়া দরকার।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস

Best Electronics