Alexa উত্তর প্রদেশে বিক্ষোভকারীদের খাবার ও কম্বল ‘কেড়ে’ নিল পুলিশ

ঢাকা, রোববার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ১১ ১৪২৬,   ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৪১

Akash

উত্তর প্রদেশে বিক্ষোভকারীদের খাবার ও কম্বল ‘কেড়ে’ নিল পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৫৩ ২০ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৩:০১ ২০ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন এবং জাতীয় নাগরিক পঞ্জির বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের জোট ভঙ্গ করতে এবার নতুন পথ বেঁছে নিল পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের অবস্থান থেকে তুলতে তাদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে লেপ-কম্বল। শুধু তাই নয়, কেড়ে নিয়েছে থালা-বাসন, খাবারও।

শনিবার রাতে ভারতের লক্ষ্ণৌ শহরে ওল্ড কোয়ার্টারের কাছে ঘণ্টাঘর এলাকায় এমনই দৃশ্য চোখে পড়েছে সংবাদমাধ্যমের । আর সোশ্যাল মিডিয়ায় এরইমধ্যেই সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

মোবাইল ফোনে তোলা ছবিতে দেখা যায়, শুধু খাবারের প্যাকেট বা কম্বলই নয়, রাতে প্রতিবাদীদের বসার জন্য নিয়ে আসা প্লাস্টিকের শিটও সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে হেলমেট পরিহিত পুলিশ।

তবে পুলিশের বিরুদ্ধে আনা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে লক্ষ্ণৌ পুলিশ। রোববার লক্ষ্ণৌ পুলিশের পক্ষ থেকে গুজব না ছড়ানোর জন্য আবেদন জানানো হয়।

শুক্রবার প্রায় ৫০ জন মহিলা লক্ষ্ণৌ শহরের ঘণ্টাঘরের সিঁড়ির কাছে আন্দোলন শুরু করেন। তারা জানিয়েছেন, এ প্রতিবাদ অনির্দিষ্ট কালের জন্য। আইন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিবাদ চলবে। শনিবার ওই প্রতিবাদে আরো মহিলা ও শিশুরা যোগ দেয়।

শনিবার তোলা মোবাইল ফোন ভিডিওতে দেখা যায়, আন্দোলনকারী কয়েকজন নারী পুলিশকে প্রশ্ন করছেন, কেন তাদের কম্বল তুলে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ?

নারী-শিশুদের জন্য খাবার ও কম্বল নিয়ে আসা এক শিখ ব্যক্তি বলেন, কিছু পুলিশ আমাদের থামাতে চাইছে। কিন্তু বাকিরা সমর্থন করছে। এটা সাধারণ মানবিকতা এবং তাই আমরা এখানে।

লক্ষ্ণৌ পুলিশ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘণ্টাঘরের কাছে ওই প্রতিবাদীরা কোনো অনুমতি ছাড়াই তাবু খাটানোর চেষ্টা করছিল। অনেকে সেখানে কম্বল বিতরণ করছিল। ফলে বহু মানুষ জমায়েত হয়েছিল যারা আন্দোলনকারী নয়। তারা কেবল কম্বল নিতে এসেছিল। সে কারণেই ভিড় সরাতে হস্তক্ষেপ করে পুলিশ। আর তাই কম্বলগুলো সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পাশাপাশি, সকলকে গুজব ছড়াতে বারণও করা হয় ওই বিবৃতিতে।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ থেকে ২০১৫ সালের আগে আগত অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই আইন বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানে বর্ণিত দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তির পরিপন্থী। আইনটি পাস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলন চলে আসছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ