Alexa ‘উগ্রবাদীর হামলা কমলেও বাড়ছে জড়িয়ে পড়ার শঙ্কা’

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ১৬ ১৪২৬,   ০৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

Akash

‘উগ্রবাদীর হামলা কমলেও বাড়ছে জড়িয়ে পড়ার শঙ্কা’

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:১৮ ৯ ডিসেম্বর ২০১৯  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেছেন, উগ্রবাদীদের সন্ত্রাসী হামলা কমে গেলেও বাড়ছে উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়ার শঙ্কা। নারীদের মধ্যে উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়ার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সীরা উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়ছে বেশি। 

সোমবার রাজধানীতে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার বসুন্ধরায় আয়োজিত উগ্রবাদ বিরোধী জাতীয় সন্মেলন-২০১৯ এ এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

স্বাগত বক্তব্যে সিটিটিসি প্রধান বলেন, শুধুমাত্র শক্তি প্রয়োগ করে উগ্রবাদ দমন করা সম্ভব না। আগে উগ্রবাদ দমনে বাংলাদেশে শক্তি প্রয়োগকে প্রাধান্য দেয়া হত। কিন্তু বিগত ১০ বছর ধরে সচেতনতামূলক কার্যক্রমকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উগ্রবাদ মোকাবিলায় হার্ড ও সফট কৌশল অবলম্বণ করা হয়। তবে বাংলাদেশের স্বকীয় কিছু বৈশিষ্ট্য থাকায় অন্য দেশের কৌশল এখানে প্রয়োগ সম্ভব না।

উগ্রবাদ নিয়ে সিটিটিসি’র কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এর আগে উগ্রবাদ বিরোধী ২৬টি অপারেশন পরিচালনা করা হয়েছে। এতে নিহত হয়েছে ৭৫ জন উগ্রবাদী। আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে সহস্রাধিক। উগ্রবাদ বিরোধী কঠোর অবস্থানের কারণে এখন উগ্রবাদী হামলার আশঙ্কা কমে গেছে। তবে বৃদ্ধি পেয়েছে তরুণ প্রজন্ম উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা।

‘শিক্ষিত ও স্বচ্ছল ঘরের সন্তানরা এখন উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়ছে। এমনকি পরিবারের সবাই উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়ছে এমন হারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। জামিনে বের হয়ে আসা উগ্রবাদীরাও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত পরিবার যারা একসময় ইরাকের মত দেশে বসবাস করতো তারাও দেশে ফিরে উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়ছে। লোন (একাকি হামলা) হামলার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। উগ্রবাদীরা শতাধিক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে।’

সিটিটিসি প্রধান বলেন, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে উগ্রবাদ বিরোধী অনেক কার্যক্রম পরিচালিত হলেও সমন্বিত কোনো প্লার্টফর্ম নেই আমাদের। তাই সবাইকে এর বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সিটিটিসি ৮ জন উগ্রবাদীকে অর্থ সাহায্য দিয়ে পুর্নবাসন করেছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে সকালে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- জাতিসংঘের (ইউএনআরসিও) আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সিপ্পো, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাম্বাসেডর আর্রল আর.মিলার, প্রধানমন্ত্রীর আর্ন্তজাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড.গহর রিজভী, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বেসরকারি উন্নয় সহযোগী প্রতিষ্ঠনের কর্মকর্তারা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসসি/এমআরকে