Exim Bank Ltd.
ঢাকা, রবিবার ২২ জুলাই, ২০১৮, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫

‘উইমেনচ্যাপ্টার এবং সুপ্রীতি ধরের সাথে সম্পর্কচ্ছিন্ন করলাম’

ডেইলি বাংলাদেশ ডেস্কডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

আমি অফিশিয়ালি অর্থাৎ লিখিত ভাবে উইমেনচ্যাপ্টার এবং সুপ্রীতি ধরের সাথে সম্পর্কচ্ছিন্ন করলাম। তা আপনি জিগাইতে পারেন আমি এমন কোন্‌ হরিদাস পাল আসছি যে সেইটা আবার ফেইসবুকে জানান দিতে হবে? সম্পর্ক নাই তো নাই, সেইটা ঘোষনা দেওয়ার কী? সুপ্রীতি এবং আমার তো প্রিন্সেস ডায়ানা এবং প্রিন্স চার্লসের মত পঞ্চাশ হাজার লোক খাওয়ায়ে বিয়া হয় নাই যে এইটা সানডে টাইমসের আলোচনার বিষয় হইতে পারে।

ঘোষনা (বা বলা ভালো কৈফিয়ত) দিতেছি কারণ কিছুটা হরিদাস পাল তো আমি অবশ্যই, কারণ আমি উইমেনচ্যাপ্টারের একজন প্রাক্তন লেখক।

উইমেনচ্যাপ্টারের নারীবাদ বা তার প্লাটফর্ম বা অন্যান্য কোনো লেখক নিয়া আমার ঝামেলা নাই। কিন্তু সাম্প্রদায়িক কোনো সংগঠন বা যেই সংগঠনের প্রধান ব্যক্তি সাম্প্রদায়িক, তার সাথে সম্পর্ক রাখা আমার জন্য একটু সমস্যাজনক, অন্ততঃ যদি আমি নিজেরে অসাম্প্রদায়িক হিসাবে দেখতে চাই আরকি।

ঘটনার সূত্রপাত উইমেনচ্যাপ্টারের কর্ণধার এবং সম্পাদক সুপ্রীতি ধরের গতকালকের একটা স্ট্যাটাসে। উনি উনার এক বন্ধুর বাড়িতে বেড়াইতে গেছেন। সেই বন্ধুর বাথরুমে বিভিন্ন ধর্মের বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি সাজানো। বাথরুমের মত অপবিত্র (?) এবং নোংরা (?) জায়গায় সেই মূর্তি দেইখা নাস্তিক এবং মুক্তমনা এবং অসাম্প্রদায়িক বইলা নিজেরে প্রচার করা সুপ্রীতির সুপ্ত সংস্কারবোধ ডালপালা ছড়াইয়া জাইগা উঠে এবং উনি উনার বন্ধুরে বাথরুমে কুরান রাখার পরামর্শ দেন এবং ভাবেন নেক্সট টাইম উনার বাসায় গেলে উনি একটা কুরান কিনা নিয়া যাবেন।আমি এবং উইমেনচ্যাপ্টারের আরো কয়েকজন লেখক উনারে বুঝাইতে চাই, দেবদেবীর মূর্তিরে আমরা যতটা না ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থিকা দেখি, তার চাইতে বেশি দেখি নান্দনিক জায়গা থিকা। আধুনিক পৃথিবীর সর্বত্রই মিশরীয়, গ্রিক, রোমান দেবদেবী থিকা শুরু কইরা ভারতীয় উপমহাদেশের দেবদেবীদের ঘর সাজানোর ‘শো-পিস’ হিসাবে ব্যবহার করা হয়, যার সাথে ধর্ম অবমাননার ব্যাপার জড়িত না। এছাড়াও ইসলামের অনুসারীদের কোনো দৃশ্যমান অবতার না থাকায় মানুষের ঘরে নটরাজের মূর্তি রাখার সুযোগ থাকলেও আল্লার মূর্তি রাখার সুযোগ নাই।

দ্বিতীয়তঃ, ঘরে এক ধর্মের মূর্তি রাখলেই ‘সমতা’ আনার জন্য আরেক ধর্মের মূর্তি রাখতে হবে এমন আব্দার হাস্যকর। যিনি ঘরে বুদ্ধমূর্তি রাখছেন তিনি ক্যানো ভিনাসের মূর্তি রাখেন নাই এমন প্রশ্ন শুধু বুদ্ধিহীনরা করতে পারেন।

তৃতীয়তঃ মূর্তির সাথে বইয়ের তুলনাও চলে না। যার বাথরুমে বুক শেলফ আছে, তিনি সেই বুক শেলফে কুরান, বেদ, বাইবেল থিকা শুরু কইরা ভোগ বা প্লেবয় বা মাসুদ রানা বা অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর যা ইচ্ছা রাখতে পারেন। যার বাথরুমে বুক শেলফ নাই তিনি বইটা রাখবেন কোথায়? মূর্তির বগলে নাকি হাগতে বইসা বইটা হাতে ধইরা বইসা থাকবেন বইলা উনার ধারণা? বাথরুমে মূর্তি রাখার প্রধান কারণ বাথরুম ডেকোরেশান। আধুনিক ইন্টেরিয়র ডিজাইন সম্পর্কে যার দুই লাইন পড়ালেখা আছে, তিনিই জানেন, আধুনিক বাথরুম মাত্রই ছবি, গাছপালা, আর্টওয়ার্ক ইত্যাদি দিয়া সাজানো হয়। কেউ যদি ফ্রান্সে ল্যুভ মিউজিয়ামে (এবং মিউজিয়ামের টয়লেটে) গিয়া থাকেন তাইলে জানবেন আমি কী বলতেছি। আপনি মিউজিয়ামে যদি সারাদিন কাটাইতে পারেন, তাইলে এই বাথরুমের ডেকোরেশানের দিকে তাকাইয়া একটানা সাড়ে তিন বছর কাটাইয়া দিতে পারবেন সন্দেহ নাই। ল্যুভের এই টয়লেটের ছাদ এবং দেওয়াল বিভিন্ন দেবদেবীর ম্যুরাল এবং ফ্রেসকো দিয়া ভর্তি। সুতরাং যিনি বাথরুমে মূর্তি রাখছেন তিনি কোন্‌ দুঃখে ধর্মীয় বইয়ের মত অদৃষ্টিনন্দন জিনিস দিয়া বাথরুম সাজাবেন এই প্রশ্ন শুধুমাত্র ইন্টেরিয়ার ডিজাইন সম্পর্কে অজ্ঞ সাম্প্রদায়িক মানুষের মাথা থিকা বাইর হওয়া সম্ভব।

চতুর্থতঃ বাথরুম নিয়া যদি কারও সংস্কারের জায়গা থাকে, (থাকতেই পারে- সেইটা অস্বাভাবিক কিছু না) এবং কেউ যদি ধর্ম পালন না কইরাও বা নাস্তিক হইয়াও ভাবেন ধর্মীয় কোনো কিছু বাথরুমে রাখা উচিত না, তাইলে তিনি বাথরুমে ধর্ম সঙ্ক্রান্ত সব কিছু রাখারই প্রতিবাদ করবেন। তিনি প্রতিহিংসাপরায়ণ হইয়া বলবেন না, “দূর্গামূর্তি যেহেতু রাখা হইছে, তাইলে এখন এইখানে একটা তসবি রাখো দেখি!”

আলোচনা বাথরুম এবং তার ডেকোরেশান পর্যন্ত হইলে এত উত্তেজনার কারণ ছিলো না। আলোচনার এক পর্যায়ে উনি আমি সহ আর যারা এর প্রতিবাদ করতেছিলাম তাদের বললেন আমরা যেহেতু মুসলিম পরিবার থিকা আসছি, তাই আমরা সংকীর্ণমনা এবং অন্যের ধর্মরে অবমাননা করাই আমাদের প্রধান কাজ। এবং যেহেতু আমরা (?) অন্যদের ধর্মরে অবমাননা করি, তাই উনারও ধর্ম অবমাননা জায়েজ হয়।

আমি অন্যান্যদের কথা জানি না, আমি নিজের সম্পর্কেই বলি। আমার নাস্তিক্য নিয়া আমার ধারণা ফেইসবুকবাসী কারো কোনো প্রকার সন্দেহ নাই। আমার কাছে কুরানও যা, বেদও তা, ওল্ড টেস্টামেন্টও তা, এ্যালিস ইন দ্যা ওয়ান্ডারল্যান্ডও তা। আমি কোনো বইরে এক্সট্রা সম্মানও করি না, অসম্মানও করি না। আমার নিজের বাথরুমে যখন যা পড়তেছি তখন সেইরকম বই থাকে, সেইখানে কুরান বা বাইবেল বা গীতা কোনো কিছু রাখতেই আমার সমস্যা নাই। আমার বাথরুমে আমার নিজের ছবি, নিজের আঁকা ছবি, গাছপালা এবং একটা নটরাজের মূর্তিও আছে, কারণ নটরাজ দেখতে ‘হট’! তসবি বা কাবার ছবি যদি নটরাজের মত দেখতে হট হইতো তাইলে তাও রাখতাম সন্দেহ নাই।

কিন্তু কোনো মানুষ যদি অমুক ধর্মের দেবদেবীরে বাথরুমে রাখা হইছে বইলা আরেক ধর্মের বই খাতা টাইনা নিয়া আসতে চান, তাইলে উনি

প্রথমতঃ নিজেরে নাস্তিক বইলা দাবী করতে পারেন না, দ্বিতীয়তঃ উনারে ‘ভারতে বাবরী মসজিদ ভাঙ্গা হইছে, তাই চল বাংলাদেশে নোয়াখালিতে মন্দির ভাঙ্গি!’ বইলা সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়া গুটিবাজ সম্প্রদায়ের লোক বলা ছাড়া উপায় থাকে না।

আমার ধারণা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ফালতু বাক্যদের মধ্য অন্যতম বাক্য হইতেছে, “ধর্ম অবমাননা করা যাবে না!” সত্য হইতেছে- সকল ধর্মের ধার্মিকরাই অন্য ধর্মরে সারাদিন অবজ্ঞা করেন, অন্য ধর্মের ধার্মিকদের নিয়া হাসাহাসি করেন, হিন্দুরা মুসলিমদের আড়ালে “ঐ শালা কাটার বাচ্চা” এবং মুসলিমরা হিন্দুদের আড়ালে “ঐ শালা মালাউন” ইত্যাদি ইত্যাদি বইলা সামনা সামনি এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ভাবে খুব সম্প্রীতি চোদাইয়া পাশাপাশি থাকেন এবং খুব ভালো আছেন এমন ভাব ধরেন। এবং এই লোক দেখানো পাশাপাশি ভালো থাকা নিয়া ঝামেলা করার জন্য রেডি থাকেন নাস্তিক নাম ধারী কিছু সাম্প্রদায়িক ও ধর্মব্যবসায়ী সুবিধাবাজ শ্রেনীর লোকজন। আগে এই তালিকায় ছিলেন আমার প্রিয় ফেইসবুকার পিনাকী, এখন মহামান্য সুপ্রীতিও যোগ হইলেন লাইনে। সত্যিকারের নাস্তিকদের কোনো বিশেষ ধর্মের মানুষের প্রতি আক্রোশ থাকে না, সত্যিকারের নাস্তিকদের ধার্মিক এবং বিশ্বাসী মানুষ নিয়াও সমস্যা থাকে না, সত্যিকারের নাস্তিকদের মধ্যে শুধু সব গুলি ধর্মের ব্যাপারে সমান অপছন্দ থাকে।

তাই সুপ্রীতি, আমার নিজের নাস্তিক্য টিকাইয়া রাখতেই আমি আপনার মত নাস্তিক্যর ভেক ধরা- মনে মনে সংস্কারের নামে হিন্দুত্ববাদ প্র্যাক্টিস করা- সাম্প্রদায়িক মানুষের সাথে সম্পর্ক রাখা সম্ভব না। আপনি নাস্তিক্যর ভেক ধইরা মুসলমানিত্ব প্র্যাকটিস করলেও সম্ভব হইতো না। হিন্দুত্ববাদ বা ইসলাম কোনো ধর্মের ব্যাপারেই আমার আলগা পিরিত নাই। তাই আমার বাথরুমে নটরাজ থাকলেও তার পাশে সমতা দেখানোর জন্য মলাট বাঁধা কুরান বা ওল্ড টেস্টামেন্ট থাকবে না। যদি এই কাজে কোনো বিশ্বাসীর ‘ধর্মানুভূতি’তে আঘাত লাগে, তো তিনি আমার বাসায় আসবেন না। যদি আসেন তো বাথরুমে যাবেন না। হাগা আসলে হাগা আটকায় রাখবেন। এরপর আমার বাসা থিকা বাইর হইয়া পিজি হাসপাতালের নটরাজ-শূণ্য টয়লেটে গিয়া হাগবেন। ওকে?

বিনীত নাদিয়া ‘ধর্মীয় কোষ্ঠকাঠিন্য পরিত্রাতা’ ইসলাম।

সর্বাধিক পঠিত
চার মাসের ‘গর্ভবতী’ বুবলী!
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভিসা সেন্টার এখন ঢাকায়
শাকিবের সঙ্গে বিয়ে, যা বললেন নায়িকা বুবলী
ক্যামেরায় সম্পূর্ণ নগ্ন হয়েছেন এই অভিনেত্রীরা, কারা এরা?
ভেঙে গেলো পূর্ণিমার সংসার, পাল্টা জবাবে যা বললেন নায়িকা
বিদ্যুৎ বিল কমিয়ে নেয়ার কিছু টিপস
মায়ের জিন থেকেই শিশুর বুদ্ধি বিকশিত হয়!
ব্যর্থ হলো মার্কিন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী পরীক্ষা
এইচএসসি'র ফল জানা যাবে যেভাবে
ধর্ষণের কবলে মৌসুমী হামিদ, ধর্ষক গাড়িচালক!
চীনের মধ্যস্থতায় তথ্য আদান-প্রদানে সম্মত পাকিস্তান-আফগানিস্তান
বিশ্বকাপের সব গোল্ডেন বল জয়ীরা
গৌরিকে নিয়ে ভক্তের প্রশ্ন, উত্তর দিলেন শাহরুখ!
যেসব দেশে কোনো নদী নেই
মহান আল্লাহ তাআলা যাদের প্রতি সন্তুষ্ট
আমি বিশ্বের সেরা ক্লাবটিই বেছে নিয়েছি
কাতার বিশ্বকাপ নিয়ে কিছু ভবিষ্যতবাণী!
নিখোঁজের ৩৭ বছর পর ফিরে এসেছিলো যে বিমান
মীর জাফর ও তার সঙ্গীদের শেষ পরিণতি
ভাত খাওয়ার পর যেসব ভুল ডেকে আনছে মৃত্যু
শিরোনাম:
পদোন্নতিতে পেশাগত দক্ষতার ওপর জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী ভারত সরকারের আমন্ত্রণে দিল্লির উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছেন আজ রংপুরে বাসচাপায় অটোরিকশার ৩ যাত্রী নিহত
Error!: SQLSTATE[42000]: Syntax error or access violation: 1064 You have an error in your SQL syntax; check the manual that corresponds to your MariaDB server version for the right syntax to use near 'WHERE news_id=13953' at line 3
Error!: SQLSTATE[23000]: Integrity constraint violation: 1062 Duplicate entry '13953' for key 'news_id'