Alexa ঈদ সিনেমার একাল-সেকাল

ঢাকা, শুক্রবার   ২৩ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৮ ১৪২৬,   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

ঈদ সিনেমার একাল-সেকাল

 প্রকাশিত: ১১:৫৫ ৭ জুন ২০১৮   আপডেট: ১২:০৫ ৭ জুন ২০১৮

ছবি সংগৃহীত

ছবি সংগৃহীত

ঈদ আর চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে এক যোগসূত্রতা। এই উৎসব আসলেই সরগরম হয়ে উঠে কাকরাইল পাড়া। নতুন নতুন ছবি মুক্তির জন্য চলে জোর প্রস্তুতি।

অনেক আগের কথা, নায়ক ফারুক তখন সিনেমায় নাম লেখাননি। পাকিস্তানি সেই আমলের ঈদের ছবি নিয়ে গল্প বলছিলেন এই অভিনেতা। তিনি বলেন, ওই সময় ঈদে মুক্তি পাওয়া লাহোরে নির্মিত উর্দু ছবি দেখতে দল বেঁধে রূপমহল, তাজমহল, মুকুল (আজাদ), মানসী (নিশাত), শাবিস্তান, লায়ন, স্টার, মুন বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে ছুটতাম। স্থানীয় যুবকদের নিকট সাবিহা-সন্তোষ, মোহাম্মদ আলী-জেবা, ওয়াহিদ মুরাদ-রানী প্রমুখ পাকিস্তানি তারকারা ছিল বেশ জনপ্রিয়।

ঈদ মূলত তারকাবহুল ছবি। রোজার কয়েকমাস আগ থেকেই জল্পনা শুরু হয় ঈদে কি সিনেমা, কোন তারকার সিনেমা আসছে এই নিয়ে। এর আগে ঈদের ছবি ‘লড়াকু’ নিয়েই চলচ্চিত্রে এসেছিলেন হিট নায়ক রুবেল। এমনকি চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহ, চিত্র নায়ক রিয়াজ, চিত্রনায়িকা মৌসুমি, সোনিয়াদেরও আগমন ঘটেছে ঈদের সিনেমা দিয়ে।

তাছাড়া একসময় ঈদের ছবির মাঝে নিয়মিত থাকতেন রাজ্জাক, জসিম, আলমগীর, সোহেল রানা, রুবেল, মান্না ও ইলিয়াস কাঞ্চন।

পরিচালকদের মধ্যে দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, শহিদুল ইসলাম খোকন, শিবলি সাদিক, মোতালেব হোসেন, মনোয়ার খোকন, মমতাজুর রহমান আকবর, দেওয়ান নজরুল, সোহানুর রহমান সোহান, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, আমজাদ হোসেন, এ জে মিন্টু’র মতো বাঘা বাঘা সব পরিচালকদের ছবি নিয়মিত থাকতো এই ধরণের উৎসবে।

নবীন প্রবীণ সেরা পরিচালকদের দারুন সব ছবি দেখার জন্য প্রতিটি সিনেমা হলে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় লেগেই থাকতো ওই সময়। ওই সময় ব্ল্যাকে টিকেট কিনতে হতো সাধারণ দর্শকদের। তাদের কাছ থেকে ১০ গুন বেশি দিয়ে টিকিট কিনত সিনেমাপ্রেমিরা।

তাছাড়া ঈদে সম্ভাব্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলো নিয়ে বাংলাদেশ বেতারে প্রচার হত দারুণ সব অনুষ্ঠান। ছবি দেখার আগে মানুষের গান মুখস্থ করাতো এই মাধ্যম। প্রতি ছবির আলাদা আলাদা বিজ্ঞাপনধর্মী বিশেষ অনুষ্ঠানমালা থাকতো ১০ মিনিটের। বিটিভিতে হতো ঈদের সিনেমা নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান।

এদিকে ওই সময় হলগুলো নতুন করে সাজানো হতো, মাইকিং চলতো ঈদের আগের দিন পর্যন্ত।

কিন্তু আজো ঈদ আসে। তবে সেদিনের মতো কোন উৎসব এখন আর চোখে পড়ে না। এফডিসি বা চলচ্চিত্র পাড়াতেও এখন তেমন কোন পোস্টার দেখা যায় না। গেল কয়েকবছর ধরে শাকিব খানের বদৌলতে তাও কিছু মানুষ এখনো হলমুখী হয়ে আছে।

আজ আর নেই ওই ধরণের পরিচালকরা, যারা দর্শকদের কথা মাথায় রেখে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতেন এক সময়।

সে সময় সিনেমা হলের অবস্থা আরো খারাপ ছিল, আরো নাজুক ছিল। কিন্তু সেইসব প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকরা হলে ঈদের ছবি দেখতে ভিড় জমাতেন।

কিন্তু এই সময়ে বাণিজ্যিক ছবির প্রযোজক পরিচালকেরা সারাদেশে ঈদের জন্য ৪/৫টি ছবি দিতে হিমশিম খায়।

তাছাড়া রয়েছে টেলিভিশনে সিনেমা প্রিমিয়ার। ‘টেলিফিল্ম’ নামের এক আজব সিনেমা হাউস নিজেদের টিভি চ্যানেলে ৭ দিনে ৭ টি নতুন ছবি মুক্তি দেয়। যা এই চলচ্চিত্রের শিল্পের সঙ্গে নির্মম এক তামাশা ছাড়া কিছুই নয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআই

Best Electronics
Best Electronics