Exim Bank
ঢাকা, মঙ্গলবার ১৯ জুন, ২০১৮
Advertisement

ঈদ কেনাকাটায় সরগরম ফ্যাশন হাউস

 এস আলম তুহিন, মাগুরা  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৫৫, ১৩ জুন ২০১৮

আপডেট: ১৫:০৫, ১৪ জুন ২০১৮

৫৬ বার পঠিত

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মাগুরায় ঈদের বাজার জমে উঠেছে। শহরের বিপনি বিতানগুলো সেজেছে নানা সাজে।

অনেক মার্কেটে ক্রেতা আকর্ষণে বাহারি রঙ-বেরঙের আলোকসজ্জা করা হয়েছে। 

শহরের বেবী প্লাজা, নুর জাহান প্লাজা, সুপার মার্কেট, কাজী টাওয়ার মার্কেট,মরিয়ম প্লাজা, খান প্লাজা, জমজম মার্কেট, আল-আমিন মার্কেট, জুতাপট্টিতে ক্রেতাদের পছন্দ অনুযায়ী নানা রঙের পশরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানীরা।

ঈদ কেনাকাটায় সরগরম হয়ে উঠেছে ফ্যাশান হাউজ, বিপনীবিতান আর কসমেটিকস্ কর্ণার। কেনাকাটায় শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতী ও নারীদের ব্যস্ততা বেড়েছে।  

শহরের হাজী কমপ্লেক্সে দোয়েল ফেব্রিক্স অ্যান্ড টেইলার্স সত্বাধিকারী আলাউদ্দিন হোসেন জানান, পনের রোজার পর থেকে দোকানে খুব ভিড়। আমরা ক্রেতাদের পছন্দের কথা মাথায় রেখে প্রতিবারই নিত্য-নতুন আধুনিক ডিজাইনের থ্রি-পিস সংগ্রহে রাখি।এর মধ্যেলেটেষ্ট থ্রি-পিস ফ্লোর টাচ। এ থ্রি-পিসটিতে  অ্যামব্রয়ডারি ও হাতের কারুকাজ  থাকায় তরুণীদের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে। ফ্লোর টাচ থ্রি-পিস ঈদ বাজারে ৪-৫ হাজার টাকার  মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া ফোর পিচ ২-৩ হাজার, দো পাট্টা ফোর পিস ১০০০-১৫০০ টাকায় বিক্রি  হচ্ছে। তাছাড়া পাকিস্তানী লাকা কালেকশন, ডিকে ফ্যাশান, পিচ লোন, স্টাইল, জামদানি থ্রি-পিসও মেয়েদের খুবই পছন্দ। পাশাপাশি সুতিলোন থ্রি-পিচ, অরগান্ডি, সারা থ্রি-পিস, চায়না থ্রি-পিসের কদর অনেক বেশি। এসব থ্রি-পিচ ৭৫০-২০০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে এবার অন্যবারের তুলনায় বিক্রি কম। আলাউদ্দিন হোসেন বলেন, ঘন ঘন বৃষ্টি হওয়াতে দোকানে ক্রেতা কম আসছেন। চাহিদার তুলনায় ভাল পোশাক থাকলেও ক্রেতা  কম।

পোশাক তৈরি করতে আসা শ্রাবণী নামের এক তরুণী জানান, এবারের ঈদে আমার পছন্দের তালিকায় রয়েছে ফ্লোর টাচ থ্রি-পিস। এ থ্রি-পিচের কারুকাজ ভালো হওয়াতে এটি আমার খুবই পছন্দ। 

সুপার মার্কেটের লিখন ফ্যাশানের সৈয়দ ফজলুল ইকবাল প্রিন্স জানান, প্রতি বারই আমি ঈদ কালেকশনে নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক রাখি। এবার ঈদে সবচেয়ে আকর্ষণীয় পোশাকের মধ্যে  রয়েছে শামুক স্লিক। এটাতে হাতের কারুকাজ সুন্দর থাকায় শিশু থেকে শুরু করে তরুণীদের মাঝে  ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তাছাড়া লং ফ্রক, চায়না ফ্রক, ফ্লোর টাচ পোশাক ভাল চলছে।

ছেলেদের জন্যও আয়োজনের কমতি নেই পোশাক বাজারে। 

শহরের বিভিন্ন ফ্যাশান হাউজ,শপিং মল এবং ছেলেদের ছোট বড় রেডিমেড পোশাকের মার্কেটের গিয়ে দেখা গেছে নতুন কাট ও ডিজাইনের দেশি-বিদেশি নানা ধরনের শার্ট ও টি-শার্টের কালেকশন। বাহারি রঙের টি- শার্টের পাশাপাশি ক্যাজুয়াল ব্র্যান্ডেড প্রিন্টের শার্টের কদর রয়েছে।

বেবী প্লাজা শপিং মলের নিউ মডেল গার্মেন্টসের সত্বাধিকারী মাসুদ পারভেজ জানান, এবার ঈদে তরুণরা জিন্স প্যান্ট আর বাহারি রঙের পাঞ্জাবি কিনছেন বেশি। পাশাপাশি আমার দোকানে ছোট শিশুদের নানা ধরনের বাহারি পোশাকের আয়োজন রয়েছে। এবার বেশি গরম পড়েছে তাই শিশুদের দেশি সূতির পোশাকের চাহিদা বেশি। 

মাসুদ পারভেজ জানান, ছেলেদের জিন্সের প্যান্ট   দেশি ১০০০-১৫০০ টাকা, চায়না থাই ১৬০০-২৫০০টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। টি-শার্ট পাওয়া যাচ্ছে ২০০-১৫০০ টাকা পর্যন্ত।

ঈদে পুরুষের অপরিহার্য অনুষঙ্গ পাঞ্জাবি।  বিপনি-বিতানগুলো সাজানো হয়েছে দেশি- বিদেশি সব পাঞ্জাবী দিয়ে।  চিরাচরিত  সাদা, কালোসহ নীল, বেগুনী, জলপাই, হলুদ, ছাইসহ হালকা রঙে  নতুনত্ব আনা হয়েছে।

বেবি প্লাজাসহ শহরের সুপার মার্কেটের  বিভিন্ন  ব্যবসায়ী জানান, এবার সাদার পাশাপাশি সূতি,প্রিন্ট স্ট্রাইফসহ বিভিন্ন রঙের পাঞ্জাবি ক্রেতারা  কিনছেন। কেউ কেউ আবার হাতের তৈরি  পাঞ্জাবিও কিনছেন।

পোশাক কিনতে আসা গৃহিনী আলাপি খাতুন  জানান, শিশুদের পোশাকের এবার খুব দাম । পছন্দমত ভাল পোশাক পাচ্ছি না। অনেক ঘুরে একটি সূতি পোশাক কিনেছি ।

এবারের ঈদে কিশোরি, তরুণী, নববধূসহ নারী পছন্দের তালিকায় রয়েছে শাড়ি। ব্যবসায়ীরা জানান, বয়সী নারীরা শাড়ির দোকানে ভিড় করছেন। এবার ঈদে দেশি শাড়ির ব্যাপক চাহিদা হয়েছে।

ঢাকেশ্বরী বস্ত্রালয়ের সত্বাধিকারী তাপস অধিকারি জানান, ঈদে বরাবরই দেশি শাড়ির চাহিদা  রয়েছে। এবার জজেট, নেটের জর্জেট শাড়ি ৩-৫ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া ঢাকার জামদানি, টাঙ্গাইল ও তাঁতের শাড়ি ও অনেকে কিনছেন।

বেবী প্লাজা মার্কেটের শিকদার বস্ত্রালয়ের উজ্জল শিকদার জানান, ঈদ সামনে আমরা  নিত্য নতুন ডিজাইনের জর্জেট, কাতান, রাজশাহী সিল্ক, জামদানী, ট্ঈাইল শাড়ি এনেছি।

শাড়ি কিনতে আসা হাসপাতাল পাড়ার হাসি খাতুন  জানান,দেশি জামদানী শাড়ী কিনেছি।

পোশাকের পাশাপাশি নতুন জুতা, সেন্ডেল দোকানেও  উপচে পড়া ভিড়। শিশু তরুণ-তরুণী, নারী-পুরষ  তাদের পছন্দের সু  কিনতে সবাই ব্যস্ত। পাদুকা ব্যবসায়ীরা জানান, দেশি সু’র পাশাপাশি শিশু  বা”চাদের চায়না সু’র কদর বেশি। 

পাশাপাশি ঈদের পছন্দের পোশাক কিনতে শহরের ফুটপাতগুলোতেও নিম্ন আয়ের মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মেয়েদের লেহেঙ্গা, ফ্রক, শার্ট, প্যান্ট, বেবি ড্রেস, পাঞ্জাবিসহ বিভিন্ন পোশাক পাওয়া যাচ্চের থানার সামনের দোকানগুলোতে।

শহরতলীর আবালপুর গ্রামের অটোচালক তৈয়ব আলী  জানান, আমরা নিম্ন আয়ের মানুষ। সারাদিন কষ্ট করে অল্প টাকা রোজগার করি। ঈদে ছেলে-মেয়েদের পোশাক কিনতে এসেছি। অন্যবারের তুলনায় এবার পোশাকের দাম অনেক বেশি হওয়ায় হিমসিম খাচ্ছি। নিজের পোশাকটি না কিনতে  পারলেও ছেলেমেয়েদের কিছু পোশাক কিনেছি।

অন্যদিকে, ঈদকে সামনে রেখে শহরের পুটপাতগুলোতে নিম্ন আয়ের মানুষ চুড়ি-মালার দোকানের পশরা বসিয়েছে। সেখানে শিশুদের ক্লিপ,  নানা রঙের চুড়ি,ফিতা, মালা, চেনসহ নানা উপকরণ পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিদিন তরুণী-মহিলা এসব দোকান থেকে বিভিন্ন জিনিস কিনছেন। 

ঈদে বিভিন্ন মার্কেটে ও বিপনিবিতানের  সামনে  পুলিশ প্রশাসনের নিরাপত্তা ছিল চোখে পড়ার  মতো। ক্রেতাদের বাড়তি নিরাপত্তা দিতে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছে পুলিশ।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ

সর্বাধিক পঠিত