ঈদুল ফিতরের আমলসমূহ

ঢাকা, বুধবার   ১৯ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৫ ১৪২৬,   ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

ঈদুল ফিতরের আমলসমূহ

গাজী মো. রুম্মান ওয়াহেদ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৫৭ ৪ জুন ২০১৯  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

বছর ঘুরে মুসলিম উম্মাহর ঘরে ঘরে আবারও সমাগত পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদ মানে খুশি! ঈদ মানে আনন্দ!

ঈদুল ফিতর মুমিন রোজাদার বান্দার জন্য খুশির দিন। সারা মাস যারা রোজা পালন করেছেন, তাদের জন্য আনন্দ ও উৎসবের দিন হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর।

হজরত ওয়াহাব ইবনে মুনাবি্বহ (রা.) ঈদের দিন কাঁদছিলেন। কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, আজ খুশির দিন ওই ব্যক্তির জন্য, যার রোজা কবুল হয়েছে। ঈদুল ফিতর হলো পুরস্কার লাভের দিন। এদিন একদল ফেরেশতা দাঁড়িয়ে যান এবং বলতে থাকেন, হে মুসলিম সম্প্রদায়! তোমরা দয়াময় প্রভুর দিকে ছুটে চলো। তিনি তোমাদের কল্যাণ দান করবেন। তিনি তোমাদের পুরস্কার দেবেন। 

ঈদুল ফিতর কেবল একটি খুশির বা আনন্দ উদযাপনের দিন নয়। ঈদ একটি ইবাদাতের নাম। এ দিনটি আমাদের জন্য এক বিরাট নিয়ামত। এ দিনেও বিশেষ কিছু ইবাদাত বা আমল রয়েছে এবং রয়েছে এসব আমল বা ইবাদাতের বিশেষ প্রতিদান। রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি পাঁচটি রাত জেগে ইবাদাত করবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে। রাতগুলো হলো- (১) জিলহজের রাত, (২) আরাফার রাত, (৩) ঈদুল ফিতরের রাত, (৪) ঈদুল আজহার রাত এবং (৫) মধ্য শাবানের রাত। সুতরাং ঈদুল ফিতরের রাতে ইবাদত করা খুবই পুণ্যময় কাজ এবং এ ব্যাপারে মুমিন বান্দাদের একান্তভাবে সতর্ক থাকা উচিত। 

ঈদুল ফিতরের নামাজ: ঈদুল ফিতর বছরে একবার আসে। এদিনে বিশেষভাবে নামাজ আদায় করার জন্য আদেশ করেছেন প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.)। যেহেতু বছরে মাত্র দুইবার ঈদের নামাজ পড়তে হয়, তাই এই নামাজ আদায় করার ক্ষেত্রে অনেককেই জটিলতা ও দ্বিধা-সংশয় সৃষ্টি হয়। আর এমনটা হওয়াই স্বাভাবিক। এ জন্য ঈদের নামাজের আগে এই নামাজের নিয়ম-কানুন ও আদায় পদ্ধতিটি একটু ভালোভাবে জেনে নেয়া উচিত।

ঈদের নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে অনেকের ধারণা, নামাজের নিয়ত আরবিতে করা জরুরি। এমনটি ঠিক নয়। যেকোনো ভাষায়ই নামাজের নিয়ত করা যায়। নিয়ত মনে মনে করাই যথেষ্ট। ঈদের দিন ইমামের পেছনে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে মনে মনে এই নিয়ত করতে হবে যে, আমি অতিরিক্ত ছয় তাকবিরসহ এই ইমামের পেছনে ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করছি। এরপর উভয় হাত কান বরাবর উঠিয়ে আল্লাহু আকবার বলে হাত বাঁধতে হবে। হাত বাঁধার পর ছানা অর্থাৎ সুবহানাকা আল্লাহুম্মা... শেষ পর্যন্ত পড়তে হবে। এরপর আল্লাহু আকবার বলে হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে। দ্বিতীয়বারও একই নিয়মে তাকবির বলে হাত ছেড়ে দিতে হবে। ইমাম সাহেব তৃতীয়বার তাকবির বলে হাত বেঁধে আউজুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহসহ সূরা ফাতিহা পড়বেন এবং সঙ্গে অন্য যেকোনো সূরা তেলাওয়াত করবেন। এ সময় মুক্তাদিরা নীরবে দাঁড়িয়ে থাকবেন। 

এরপর ইমাম সাহেব নিয়ম মতো রুকু-সিজদা সেরে দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়াবেন। মুক্তাদিরা ইমাম সাহেবকে অনুসরণ করবেন। দ্বিতীয় রাকাতে ইমাম সাহেব প্রথমে সূরা ফাতিহা পাঠ করবেন এবং সঙ্গে অন্য সূরা পড়বেন। এরপর আগের মতো তিন বার তাকবির বলতে হবে। প্রতি তাকবিরের সময়ই উভয় হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে। চতুর্থ তাকবির বলে হাত না উঠিয়েই রুকুতে চলে যেতে হবে। এরপর অন্যান্য নামাজের নিয়মেই নামাজ শেষ করে সালাম ফেরাতে হবে। 

আরো যে সব আমল রয়েছে: ঈদের দিন ভোর বেলা ফজর নামাজ জামাতে আদায় করার মাধ্যমে দিনটি শুরু করা উচিত। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যদি তারা এশা ও ফজর নামাজের মধ্যে কী আছে, তা জানতে পারত, তবে হামাগুঁড়ি দিয়ে হলেও এ দুটি নামাজের জামাতে শামিল হতো। (বুখারি ও মুসলিম) গোসল করার মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন ও সুগন্ধি ব্যবহার করা। ইবনে উমার (রা.) থেকে বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত, তিনি ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে যাওয়ার আগে গোসল করতেন। ইবনে উমার (রা.) থেকে সহিহ সনদে আরো বর্ণিত, তিনি দুই ঈদের দিনে সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করতেন। (বায়হাকি) 

ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য যাওয়া: পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া সুন্নত। হাদিসে এসেছে, হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সুন্নত হলো ইদগাহে পায়ে হেঁটে যাওয়া। ঈদগাহে এক পথে গিয়ে অন্য পথে ফিরে আসা সুন্নত। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) ঈদের দিনে পথ বিপরীত করতেন। (সহিহ বুখারি) অর্থাৎ যে পথে ঈদগাহে যেতেন সে পথে ফিরে না এসে অন্য পথে আসতেন। এটা এ জন্য যে, যাতে উভয় পথের লোকদের সালাম দেয়া ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা যায়। (যাদুল-মায়াদ) 

ঈদের চাঁদ দেখার পর থেকে তাকবির পাঠ করা: তাকবির পাঠ করার মাধ্যমে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব  প্রকাশ করা হয়। তাকবির হলো- আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার। লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার। ওয়া লিল্লাহিল হামদ।

বাক্যটি উচ্চস্বরে পড়া। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন ঘর থেকে বের হয়ে ঈদগাহে পৌঁছা পর্যন্ত তাকবির পাঠ করতেন।’ (মুসতাদরাক: ১১০৬)

যখন নামাজ শেষ হয়ে যেত তখন আর তাকবির পাঠ করতেন না। বিশেষভাবে ঈদগাহের উদ্দেশ্যে যখন বের হবে ও ঈদগাহে সালাতের অপেক্ষায় যখন থাকবে তখন গুরুত্বসহকারে তাকবির পাঠ করতে হবে।

ঈদে শুভেচ্ছা বিনিময় করা: ঈদ উপলক্ষে পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানানো শরিয়ত অনুমোদিত একটি বিষয়। 

ঈদের সালাতের আগে খাবার গ্রহণ করা: ঈদুল ফিতরের দিনে ঈদের সালাত আদায়ের আগে খাবার গ্রহণ করা এবং ঈদুল আজহার দিন ঈদের সালাতের আগে কিছু না খেয়ে সালাত আদায়ের পর কোরবানির গোশত খাওয়া সুন্নত। 

ঈদের সালাত আদায় ও খুতবা শ্রবণ করা। আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ খবর নেয়া। ফিতরাহ আদায় করা।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে