ঈদযাত্রায় নৌ-পথের নিরাপত্তায় ১৮ প্রস্তাবনা

ঢাকা, বুধবার   ২৬ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১২ ১৪২৬,   ২১ শাওয়াল ১৪৪০

ঈদযাত্রায় নৌ-পথের নিরাপত্তায় ১৮ প্রস্তাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:০১ ২২ মে ২০১৯   আপডেট: ১৮:০৬ ২২ মে ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন নৌ-পথে ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে ১৮ দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

নৌ-পথে যাতায়াতকারী যাত্রী সাধারণের নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত করা, ভারলোড কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য প্রতিরোধে সমিতিরি পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে।

বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, প্রতিবছর ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের পাশাপাশি যাত্রীও অধিক বহন করা হয়। এতে নৌ-পথের যাত্রীরা নৈরাজ্যের শিকার হয়। 

তিনি বলেন, দুর্যোগপূর্ণ কালবৈশাখির এই সময়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নৌ-পথে ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা না গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। 

সংগঠনের পক্ষ থেকে দেয়া ১৮ দফা প্রস্তাবনাগুলো হলো:

১. যাত্রীবাহী সব প্রকার নৌ-যানে ওভারলোড বা অতিরিক্ত যাত্রীবহন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।
২. সব নৌ-বন্দর, লঞ্চঘাট, খেয়াঘাটে ঘাটভাড়ার নামে ইজারাদারের দৌরাত্ম্য, অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধ করা।
৩. সব নৌ-বন্দর ও লঞ্চঘাটে অজ্ঞানপার্টি, মলমপার্টি, প্রতারকচক্র, কুলিদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা।
৪. প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে, হাওর ও পাহাড়ি জনপদে অবৈধ, অনিবন্ধিত, ফিটনেসবিহীন, ঝুঁকিপূর্ণ নৌ-যান চলাচল নিষিদ্ধ করা।
৫. শিমুলিয়া-কাঠাঁলবাড়ি ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-পথে ফেরি, লঞ্চ ও স্পিডবোডসমূহে অতিরিক্ত যাত্রীবহন নিষিদ্ধ করার পাশাপশি সুশৃঙ্খলভাবে চলাচল নিশ্চিত করা।
৬. সব নৌ-বন্দর ও লঞ্চঘাটে পুলিশ, র‌্যাব, কোস্টগার্ড ও আনসার বাহিনী মোতায়েন করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৭. গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বন্দরসমূহ ও লঞ্চঘাটে সিসিটিভি স্থাপন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৮. নৌ-পথে যাত্রীদের সেহেরি ও ইফতারিতে সাশ্রয়ীমূল্যে মানসম্পন্ন খাবার ও নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা করা।
৯. নৌ-পথে সব প্রকার অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, যাত্রী হয়রানি ও ভাড়া নৈরাজ্য প্রতিরোধে সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর, বিআইডাব্লিউটিএ, ভোক্তা অধিদফতর, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা।
১০. সব লঞ্চ টার্মিনাল ও নৌ-বন্দরের গণশৌচাগার ও অজুখানায় পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থাসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা।
১১. ভাড়া নৈরাজ্য ও টিকিট কালোবাজারি বন্ধ করা। টিকিট দিয়ে ভাড়া আদায় নিশ্চিত করা।
১২. ঈদযাত্রার সময়কালে রাতের বেলায় সব প্রকার বালুবাহী ও পণ্যবাহী লঞ্চ চলাচল নিষিদ্ধ করা।
১৩. সদরঘাট থেকে গুলিস্থান পর্যন্ত রাস্তা ও ফুটপাত যানজট ও দখলমুক্ত করা।
১৪. রাতের বেলায় স্পিডবোড চলাচল বন্ধ রাখা। স্পিডবোডের যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরিধান নিশ্চিত করা।
১৫. লঞ্চের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে বয়া, বাতি ও মার্কিং ব্যবস্থা করা।
১৬. স্পেশাল সার্ভিসের নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য বন্ধ করা।
১৭. প্রতিটি লঞ্চে লাইফ জ্যাকেটসহ যাত্রী অনুপাতে অন্যান্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা।
১৮. প্রতিটি লঞ্চে লাইসেন্সধারী প্রশিক্ষিত ও দক্ষ চালক, সারেং রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা।

প্রসঙ্গত, ঈদকে সামনে রেখে নৌ পথে লঞ্চের বিশেষ সার্ভিস আগামী ৩০ মে থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর