ইয়াতিমের প্রতি সদ্ব্যবহারকারীর পরিণতি (পর্ব-১)

ঢাকা, বুধবার   ২৬ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১২ ১৪২৬,   ২১ শাওয়াল ১৪৪০

ইয়াতিমের প্রতি সদ্ব্যবহারকারীর পরিণতি (পর্ব-১)

প্রিয়ম হাসান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:০০ ২২ মে ২০১৯   আপডেট: ১৮:০২ ২২ মে ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

ইয়াতিমের প্রতি সদ্ব্যবহারকারী একজন বান্দার জীবনের গল্প তুলে ধরা হলো... 

সালফে সালেহীনের এক বুযুর্গ ছিলেন: প্রথম জীবনে আমি অত্যধিক মদ পান করতাম ও নানা প্রকার পাপ কাজে লিপ্ত ছিলাম। 

এসময় একদিন সৌভাগ্যবশত পথের পাশে এক অসহায় ইয়াতিম বালকের সাক্ষাৎ পেয়ে তাকে বাড়ি নিয়ে এলাম। তাকে আপন ছেলের চেয়েও বেশি আদর-যত্নের সঙ্গে গোসল করিয়ে, ভালো পোশাক পরিয়ে পানাহার করালাম। এভাবে কিছুদিন চলার পর একরাতে আমি স্বপ্নে দেখতে পেলামঃ কিয়ামত হয়ে গেছে। হিসাব-নিকাশের পর অসংখ্য পাপের প্রতিফলস্বরূপ আমাকে দোযখে নিক্ষেপের হুকুম হয়েছে। দোযখের ফেরেস্তারা যখন আমাকে চরম অপদস্থতা আর লাঞ্ছনা সহকারে অসহায় অবস্থায় টানা-হেচড়া করে দোযখে নিক্ষেপের জন্য নিয়ে যাচ্ছিল, এমন সময় দেখি, সেই ইয়াতিম ছেলেটি সামনে এসে পেথ আগলে দাঁড়িয়ে পড়েছে। সে বলল- ওহে রবের ফেরেস্তমন্ডলী! এক ছেড়ে দাও, আমি তার জন্য আল্লাহর সমীপে সুপারিশ জানাবো, কারণ পৃথিবীতে সে আমার সঙ্গে সদয় ব্যবহার করেছে, আমার অনেক উপকার করেছে।

ফেরেস্তগণ বললেন- আমাদের এ ধরণের কোনো নির্দেশ দেয়া হয়নি। এ সময় সহসা একটি অদৃশ্য আওয়াজ এলো, ‘ওহে ফেরেস্তাগণ! একে তোমরা ছেড়ে দাও। সে ইয়াতিমের প্রতি সদ্ব্যবহার করার কারণে উক্ত ইয়াতিমকে আামি তার পক্ষে সুপারিশ করার অধিকার দিয়েছি এবং সুপারিশের ভিত্তিতে তার যাবতীয় পাপ ক্ষমা করে দিয়েছি।’

এ সময় আমি ঘুম থেকে উঠলাম, অতঃপর আমার সমুদয় পাপকার্য ও অভ্যাস থেকে মহান আল্লাহ পাকের দরবারে তওবা করলাম। 

এ জন্যই রাসূল (সা.) এর খাদেম বিশিষ্ট সাহাবী হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, ‘যে ঘরে ইয়াতিমের যত্ন নেয়া  (ভালো ব্যবহার করা) হয়, তা সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ্য ঘর। আর যে ঘরে ইয়াতিমের ওপর নিপীড়ন করা হয়, তা সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট ঘর।  যে লোক কোনো ইয়াতিম অথবা অসহায় বিধবার উপকার সাধন করে, সে আল্লাহর পাকের প্রিয়তম বান্দা।’

বর্ণিত আছে, আল্লাহ পাক হজরত দাউদ (আ.)-কে ওহীর মাধ্যমে বলেছিলেন, ‘হে দাউদ! তুমি ইয়াতিমের জন্য দয়ালু পিতা এবং অসহায় বিধবার জন্য হৃদয়বান স্বামীর মত হয়ে যাও। আর ভালো করে জেনে রাখ, তুমি যেমন বীজ বপন করবে তেমনিই ফসল পাবে।’ অর্থাৎ অপরের সঙ্গে তুমি যেমন আচরণ করবে, তোমার মৃত্যুর পরে তোমার রেখে যাওয়া, ইয়াতিম সন্তান ও বিধবা স্ত্রীর সঙ্গেও তেমনি ব্যবহার করা হবে। 

হজরত দাউদ (আ.) মোনাজাত করে বলেছিলেন, ‘হে পরওয়ারদেগার! যে লোক তোমার সন্তুষ্টি লাভের আশায় ইয়াতিম ও বিধবাকে দেয়, সাহায্য করে তার পুরস্কার কিরুপ?’ আল্লাহ পাক ঘোষণা করলেন, ‘হাশরের দিন যখন আমার আরশের ছায়া ছাড়া অন্য কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন আমি তাকে আরশের ছায়ায় আশ্রয় দেব।’ চলবে...

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে