Alexa ইহুদি গণহত্যার মূল নায়ক সবার সামনে যেভাবে ফাঁসি কাষ্ঠে ঝুলেছিলো

ঢাকা, রোববার   ১৮ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৩ ১৪২৬,   ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

ইহুদি গণহত্যার মূল নায়ক সবার সামনে যেভাবে ফাঁসি কাষ্ঠে ঝুলেছিলো

সৌমিক অনয়  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:২৮ ১৬ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১০:৪৪ ১৬ জুলাই ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন অবস্থায় হিটলারে নাৎসি বাহিনী হত্যা করে প্রায় ৬০ লাখ নিরীহ ইহুদী। যা ইতিহাসের সবথেকে বড় গণহত্যা বা হলোকাস্ট নামে পরিচিত। তবে প্রথম দিকে ইহুদিদের নিয়ে নাৎসি বাহিনীর হত্যার পরিকল্পনা ছিল না। তাদেরকে লেবার ক্যাম্পে বন্ধী করে কঠিন সব কাজ করানো হত। কিন্তু নাৎসিদের ইউরোপ দখলের সাথে সাথে ইহুদি বন্দীর পরিমাণ বাড়তে থাকে। ফলে লেবার ক্যাম্পে ইহুদি বন্দীদের জায়গা হচ্ছিল না। এছাড়াও বন্দী হওয়া অনেক ইহুদি কাজ করতে অক্ষম ছিল। তাই এই সমস্যার শেষ সমাধান হয় গণহত্যা। 

এই সিদ্ধান্তের কারিগর বা পরিকল্পনাকারী ছিলেন এডলফ আইখম্যান। তিনি ছিলেন হিটলারের এসএস বাহিনীর প্রধান। তবে যুদ্ধ শেষ হলে নাজী পার্টির অন্যান্য বড় কর্মকর্তাদের মত আইখম্যানের শান্তি হয় নি। তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল। যা ইহুদিদের জন্য ছিল একটি বড় বিপর্যয়। তাই এই নৃশংস হত্যাকারীকে বন্ধী করে শাসনের আওতায় আনে ইসরায়েল গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। তাদের পরিচালিত আইখম্যানকে বন্দী করার এই দুর্ধর্ষ মিশনের নাম অপারেশন ফিনালে। তাহলে দেরি না করে জেনে নেয়া যাক অপারেশন ফিনালে সম্পর্কে।

বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে ইসরায়েল এবং মিত্র বাহিনীর সদস্যরা পুরো ইউরোপ জুড়ে পলাতক নাৎসি বাহিনীর সদস্যদের শাস্তি দেয়ার জন্য গ্রেফতার শুরু করে। তবে নাৎসি বাহিনীর কিছু কিছু বড় অফিসার ইউরোপের বাইরে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এমনই এক অফিসার ছিলেন হলোকাস্ট এর পরিকল্পনাকারী এডলফ আইখম্যান। তিনি ল্যাটিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনায় পালিয়ে গিয়েছিলেন। তৎকালীন আর্জেন্টিনায় ফ্যাসিস্ট সরকার ধন সম্পদের লোভে এবং মনোভাবে মিল থাকার কারণে অনেক পালাতক যুদ্ধাপরাধীদেরকেই আশ্রয় দেয়। আইখম্যান আর্জেন্টিনা গিয়ে রিকার্ডো কেলমেন্ট নামে নতুন জীবন শুরু করে। আইখম্যানের এই পরিচয় ছিল সকলেরই অজানা। কিন্তু আইখম্যানের ছেলে এরিখের বোকামির জন্য তার পরিচয় ইজরায়েলের কাছে ধরা পরে যায়।

এরিখ নিজের অজান্তেই আর্জেন্টিনায় অবস্থিত এক ইহুদি পরিবারের মেয়ের সাথে প্রণয় গড়ে তুলে। ফলে কিছুদিনের মধ্যেই সেই ইহুদি পরিবার এরিখের বাবা এডলফ আইখম্যান সম্পর্কে জেনে যায়। ইজরায়েলের অ্যাম্বাসিতে জানায়। সেখান থেকে এই খবর ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়। তিনি কুটনৈতিক উপায়ে আইখম্যানকে শাস্তির আওতায় আনতে ব্যর্থ হবে জেনে আইখম্যানকে গ্রেফতার করে ইজরাইলে নিয়ে আসার নির্দেশ দেন ইসরায়েল গোয়েন্দা সংস্থাকে। মোসাদ এই অত্যন্ত গোপন মিশনের জন্য তাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কিছু এজেন্টকে নিয়োগ দেয়। এই এজেন্টেদের মধ্যে ছিল পিটার মালকিন এবং নাম না জানা আরো পাঁচ জন।শুরু হয় মিশন ফিনালে।

অপারেশন ফিনালের লক্ষ্য ছিল এডলফ আইখম্যানকে আর্জেন্টিনায় গোপনে গ্রেফতার এবং আইখম্যানের নিজের ইচ্ছায় ইসরায়েলে এনে শাস্তির আওতায় আনা। যা তৎকালীন পরিস্থিতিতে প্রায় অসম্ভব ছিল। কারণ আর্জেন্টাইন ফ্যাসিস্ট সরকার আইখম্যানকে সহায়তা করেছিল এবং ইসরায়েলকে কোনো প্রকার সাহায্যই করেনি। অসম্ভব জেনেও পিটার মালকিন এই মিশনের পরিকল্পনা করেন। তাদের পরিকল্পনা ছিল আর্জেন্টিনার ১৫০ তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ইসরায়েল থেকে একটি প্লেনে আর্জেন্টিনার জন্য উপহার পাঠাবে। সেই প্লেনে করে আগে থেকে গোপনে বন্দী করা আইখম্যানকে লুকিয়ে ইসরায়েলে নিয়ে আসা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী মোসাদের গোয়েন্দারা ১৯৬০ সালে ১৯ মার্চ আর্জেন্টিনা যায়। তারা লাতিন আমেরিকার কিছু দেশের পর্যটক এবং ব্যবসায়ী হিসেবে আর্জেন্টিনায় প্রবেশ করে। 

২১ মার্চ দু’জন এজেন্ট আইখম্যনের বাড়ি পরিদর্শন করেন এবং ছবি মিলিয়ে কনফার্ম করে তিনিই আইখম্যান। এছাড়াও তারা দু’দিনব্যাপি আইখম্যানের প্রতিদিনের রুটিন চেক করে। পরবর্তীতে ১১ মে সন্ধ্যায় কাজ থেকে ফেরার পথে একটি নির্জন জায়গায় এজেন্টরা আইখম্যানকে কিডন্যাপ করে। তারা আগে থেকে ঠিক করা সেইফ হাউজে নিয়ে আসেন তাকে। পরিকল্পনা ছিল সেদিনই তারা প্লেনে করে পালিয়ে যাবেন। কিন্তু পরবর্তী তে জানা যায় যে প্লেন আসতে ১১ দিন দেরি হবে। অপরদিকে আর্জেন্টাইন কর্তৃপক্ষও আইখম্যান এর নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে যায়। ফলে তারাও পুরো আর্জেন্টিনাব্যাপি অভিজান শুরু করে। যা মোসাদের অপারেশনকে আরো কঠিন করে দেয়। 

অত্যন্ত চালাকির সাথে মোসাদ এজেন্টরা ১১ দিন ব্যাপি এডলফ আইখম্যানকে লুকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়। আইখম্যানকে নিজ ইচ্ছায় নিয়ে যাওয়ার স্টেটমেন্ট সাক্ষর করাতেও সক্ষম হয়। ১১ দিন পর অর্থাৎ ৪ এপ্রিল আর্জেন্টাইন কর্তৃপক্ষের চোখে ধুলা দিয়ে প্লেনের ক্রু সেজে সকল এজেন্ট এবং এডলফ আইখম্যানকে অচেতন করে মদ্যপ ক্রু হিসেবে প্লেনে উঠানো হয়। পরবর্তীতে দুই বছর ধরে আইখম্যানের বিচারকার্য চলে। আইখম্যান তার বিরুদ্ধে পরিচালিত ১৫ টি মামলার সব গুলোতেই দোষী প্রমাণিত হয়। এই বিচার পুরো বিশ্বব্যাপী টেলিভিশনে দেখানো হয়। ১৯৬২ সালের ১ জুন আইখম্যানকে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়।

ডেআলি বাংলাদেশ/জেএমএস

Best Electronics
Best Electronics