.ঢাকা, শনিবার   ২০ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৭ ১৪২৬,   ১৪ শা'বান ১৪৪০

ইসলাম নিয়ে মিয়ানমারের ধর্মমন্ত্রীর কটুক্তি

ডেইলি বাংলাদেশ ডেস্ক

 প্রকাশিত: ১০:২০ ৬ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১১:৩৭ ৬ ডিসেম্বর ২০১৮

মিয়ানমারের ধর্মমন্ত্রী থুরা উ অং কোর

মিয়ানমারের ধর্মমন্ত্রী থুরা উ অং কোর

ইসলাম নিয়ে ধৃষ্টতাপূর্ণ ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে কটুক্তি করেছেন মিয়ানমারের ধর্মমন্ত্রী থুরা উ অং কোর। 

গত ২৭ নভেম্বর মিয়ানমারের ধর্মমন্ত্রী থুরা উ অং কোর এক শেষকৃত্যানুষ্ঠানে ইসলাম ধর্মের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে মন্তব্য করে বলেন, ‘উগ্রবাদী ধর্ম’ বৌদ্ধ ধর্মের জন্য হুমকি। 

ওই অনুষ্ঠানে উ অং কোর আরো বলেন, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা এক বিয়েতে অভ্যস্ত এবং তাদের এক বা দুটি সন্তান রয়েছে। উগ্রপন্থী ধর্ম তিন কিংবা চার বিয়ে আর ১৫ থেকে ২০টি সন্তান ধারণে উৎসাহ দেয়। তিন, চার, পাঁচ দশক পর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দেশে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন সংখ্যালঘু হয়ে পড়বেন।

উ অং কোর এর এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। মিয়ানমারের মন্ত্রীর ওই মন্তব্য যে দেশটির ‘বর্ণবাদী’ নীতির প্রতিফলন সেটিও দেশটির রাষ্ট্রদূতকে জানিয়েছে বাংলাদেশ।

এ ধরনের মন্তব্য মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত হানে, যা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর প্রতিবাদ জানাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মো. খুরশেদ আলমের দফতরে বুধবার বিকেলে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত লুইন ওকে তলব করা হয়। জানা গেছে, তলব করা হলে যেকোনো রাষ্ট্রদূতকে চা দিয়ে আপ্যায়ন করা হলেও লুইন ওকের ক্ষেত্রে চা খেতে দেয়া হয়নি।

মিয়ানমারের ধর্মমন্ত্রীর ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাংলাদেশের পক্ষে রাষ্ট্রদূতকে বলা হয়েছে, ঐতিহাসিকভাবে মিয়ানমারের তুলনায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। তাই রাখাইনে আবাসের জন্য একজন বাংলাদেশিও যায়নি।

মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে আরেকটি অনুষ্ঠানে উ অং কোর বলেন, ৭ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে। এর মাধ্যমে দেশটি অর্থ উপার্জন করছে এবং তাদের রাখাইনে ফিরতে দিচ্ছে না। রোহিঙ্গা তরুণদের মগজ ধোলাই করা এমন অভিযোগও করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশ জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের উপস্থিতির কারণে বাংলাদেশকে আর্থিক, সামাজিক ও প্রতিবেশগত মূল্য দিতে হচ্ছে। কাজেই বাংলাদেশ প্রত্যাবাসনে বাধা দিচ্ছে এটা একেবারেই মিথ্যা। মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের নীতিগত অবস্থানের কারণে দেশটির সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের লোকজন রাখাইনে ফিরতে চাইছে না।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ