Alexa ইসলামে শিক্ষকের মর্যাদা ও দায়িত্ব 

ঢাকা, রোববার   ২১ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৭ ১৪২৬,   ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪০

ইসলামে শিক্ষকের মর্যাদা ও দায়িত্ব 

মাওলানা ওমর ফারুক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৩:২৪ ১৪ জুন ২০১৯  

শিক্ষা প্রদান অত্যন্ত পবিত্র ও সম্মানের একটি পেশা। প্রতিটি ধর্ম ও সমাজে শিক্ষার অত্যন্ত সম্মান রয়েছে।

সমাজে কল্যাণ ও হিতকর যা কিছু পাওয়া যায় এবং মানব সেবার যে সকল উপাদান বিদ্যমান সেসব কিছু মূলত শিক্ষার-ই ফল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো এগুলোর মূল উৎস। ইসলামের দৃষ্টিতে মানব সমাজের সবচেয়ে সম্মানিত স্তর হলো নবীদের স্তর। 

পয়গম্বরগণ উম্মতের কোন পজিশনে রয়েছেন? আল্লাহ তায়ালা স্থানে স্থানে এ বিষয়টি উল্লেখ করেছেন, তারা হলেন উম্মতের অভিভাবক ও শিক্ষক। তারা শিক্ষা প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে ইসলামি আদর্শে গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তার (আল্লাহর) আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করুন, পরিশুদ্ধ করুন এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দিন।’ এ কারণেই শিক্ষকের সম্মান করা আবশ্যক, যে পরিমান সম্মান পিতা-মাতাকে করা হয়। 

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস সাহাবাদের অর্ন্তগত হাদিসের বর্ণনা করা ও বুঝার ক্ষেত্রে উঁচু স্তরের অধিকারী। এছাড়া কোরআন বুঝা ও তাকবিরের ক্ষেত্রে তার অবস্থান তো বলার অপেক্ষা রাখে না। তাকে উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ মুফাস্সির মানা হয়। কিন্তু তিনি এতবড় সম্মান ও উচ্চ মর্যাদার অধিকারী হওয়া সত্তেও তার অবস্থা এমন ছিলো, হজরত যায়েদ ইবনে সাবেত আনসারীর ঘোড়ার লাগাম হাত দিয়ে ধরে রাখতেন এবং বলতেন আমাদের আহলে ইসলামদের সঙ্গে এমন আচরণ করার আদেশ দেয়া হয়েছে- (মুসতাদরাকে হাকেম (৩/৪২৩)।

খালফ আহমার নামে প্রসিদ্ধ একজন ভাষাবিদ ছিলেন, যার ছাত্র হলেন ইমাম আহমদ বিন হাম্বল। কিন্তু জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং তাকওয়া পরহেজগারিতে ইমাম আহমদ অধিক মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। এতদসত্তেও ইমাম আহমদ তার সমকক্ষ আসনে বসতেন না এবং বলতেন আমি কীভাবে আপনার সমক্ষক আসনে বসতে পারি? কেননা আমাদের উস্তাদের সঙ্গে বিনয় অবলম্বন করতে আদেশ দেয়া হয়েছে। (তাযকিরাতুল ছামে ওয়াল মুতাকাল্লিম ৮৭)। 

ইমাম মালেকের ছাত্রদের মধ্যে একজন হলেন ইমাম শাফেয়ি। বলা হয়ে থাকে, যখন তিনি ইমাম মালেকের সামনে পৃষ্ঠা উল্টাতেন তখন খুবই আস্তে উল্টাতেন যেন তার মনে কষ্টের কারণ না হয়। (প্রাগুক্ত পৃষ্ঠা ৮৮)। স্বয়ং কোরআনে কারিম হজরত মূসা ও খিজির (আ:) এর ঘটনা সবিস্তারে বর্ণনা করেছে। মূসা (আ.) নবুয়তের মসনদে সমাসীন ছিলেন। এতদসত্তেও অত্যন্ত ধৈর্য্য ও সহনশীলতার সঙ্গে খিজির (আ.) এর সকল কথা মেনে নিয়েছেন। বারবার (অক্ষমতার) সীমাবদ্ধতার বিষয়ে ওজর-আপত্তি করেছেন। ইমাম আবু হানিফার প্রসঙ্গে বর্ণিত রয়েছে, তিনি তার উস্তাদ হাম্মাদের বাড়ির দিকে পা দেয়ার বিষয়েও সাবধান থাকতেন। ইমাম আবু হানিফা তার উস্তাদের নামে ছেলের নাম রেখেছেন। বিচারপতি আবু ইউসুফ তার উস্তাদ ইমাম আবু হানিফা (রা.) এর সঙ্গে এমন সম্পর্ক ছিলো যে, যেদিন তার পুত্র ইন্তেকাল করেছে সেদিনও উস্তাদের মজলিসে অনুপস্থিত থাকা পছন্দ করেননি। 

দূর্ভাগ্য বশত: বর্তমানে উস্তাদ-ছাত্রের মাঝে সেই মুহাব্বত ও সম্মান স্পৃহা লক্ষ করা যায় না। ছাত্ররা শিক্ষকদের নিজেদের বিরোধী ও প্রতিপক্ষ মনে করে চলাফেরা-উঠাবসার আদব ও ইজ্জতের লেহাজ করবে দূরের কথা, সামনা সামনি কথা বলা ও শব্দ চয়নে পর্যন্ত সম্মান রক্ষা করে না। আর এটাই তো বাস্তব যে, এমন সম্মান ও মর্যাদাহীন আচরণ করে কী কারো থেকে কোনো গুরুতপূর্ণ কিছু হাসিল করা যেতে পারে? যে ব্যক্তি যে পরিমান উঁচু মর্যাদা ও পজিশনের ধারক হন সে অনুযায়ী তার দায়িত্বও হয়ে থাকে। শিক্ষক পিতার মর্যাদা রাখেন। তাই শিক্ষকের জন্য আবশ্যক হলো, সে তার ছাত্রদেরকে সেই ভালোবাসা ও আদর দিবে যা পিতা তার সন্তানকে দিয়ে থাকে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) নিজের ছাত্রদের প্রসঙ্গে বলতেন, যদি তাদের গায়ে একটা মাছিও বসে তাহলেও আমার কষ্ট হয়। (তাযকিরাতুস ছামে, পৃষ্ঠা ৪৯)। সালফে সালেহীনগণ তাদের ছাত্রদের এই পরিমান মুহাব্বত করতেন যে, তাদের সৃষ্ট সকল সমস্যার সমাধান করতেন। 

ইমাম শাফেয়ি উঁচু স্তরের একজন ফকিহ ও মুহাদ্দিস ছিলেন। তিনি ইলম হাসিলের উদ্দেশ্যে মদিনা শরিফ পৌঁছলেন। অতিশয় দরিদ্র মানুষ ছিলেন। ইমাম মালেক নিজের এই চৌকস ছাত্রকে নিজের মেহমান বানিয়ে নিলেন। যতো দিন তিনি মদিনায় ছিলেন, তার খাওয়া-থাকার সকল ব্যয় ভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে ছিলেন। অতঃপর ইমাম শাফেয়ি অতিরিক্ত ইলম হাসিলের জন্য কুফা গমনের ইচ্ছা করেন। তখন তার বাহনের ব্যবস্থা করেন। পথের যাবতীয় খরচাদীর ব্যবস্থা করেন এবং শহর থেকে বাইরে বের হয়ে অত্যন্ত মুহাব্বতের সাথে বিদায় দেন। ইমাম শাফেয়ি কুফায় আসলেন এবং ইমাম আবু হানিফার বিশিষ্ট ছাত্র ইমাম মুহাম্মদের দরসগাহে ছাত্র হিসাবে শরিক হয়ে যান। এখানেও ইমাম মুহাম্মদ ব্যক্তিগতভাবে ইমাম শাফেয়ির যাবতীয় ব্যয়ভারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পূর্ণ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। ইমাম শাফেয়ি যখন কুফায় পৌঁছেন, তার শরীরে অতি নি¤œমানের পোশাক ছিল। ইমাম মুহাম্মদ তখনই তার জন্য এক জোড়া উন্নতমানের পোশাকের ব্যবস্থা করেন, যার মূল্য এক হাজার দিরহাম ছিলো। এমনকি ইমাম শাফেয়িকে বিদায় দেওয়ার সময় নিজের সকল নগদ অর্থকড়ি একত্রিত করে তিন হাজার দিরহাম ইমাম শাফেয়ির হাতে অর্পণ করেন। (ইবনে আবদুল বার রচিত জামিউ বয়ানিল ইলম, পৃষ্ঠা ২৬৮)।
 
ইমাম আবু ইউসুফের পিতা ধোপার কাজ করতেন। অনেক দুঃখ কষ্টে তার দিন অতিবাহিত হত। দারিদ্রতা ও অক্ষমতার কারণে তার পিতা-মাতা তো ইমাম আবু ইউসুফের পড়া-লেখা করাতে আগ্রহী ছিলেন না। তারা চাইতেন যে, তিনি অর্থ-কড়ি ও জীবিকা উপার্জন করে পরিবারের খরচ নির্বাহে শরিক হবেন। ইমাম আবু হানিফা তার মেধা ও জ্ঞানাজর্নের আগ্রহ দেখে প্রভাবিত ছিলেন। তাই তিনি নিজে তার পরিবারের খরচ নির্বাহের ব্যবস্থা করেন। আজকাল তাদরিস (শিক্ষাদান) এমন একটি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে, যার জন্য কোনো পুঁজি ও দোকানের প্রয়োজন নেই। শিক্ষকগণ হলেন ব্যবসায়ী আর ছাত্ররা হলো গ্রাহক। শিক্ষকগণ স্কুল-কলেজে ইচ্ছাকৃতভাবে দায়সারা গোছের পাঠদান করা এবং প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো ছাত্ররা যেন তাদের নিকট পাইভেট পড়ে এ জন্য উদ্বুদ্ধ করে এবং অল্প সময়ে অধিক মূল্য আদায় করে। কোনো কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমফিল ও পিএইচডি’র জন্যও নজরানা পেশ করতে হয়।

এটি এমন এক লজ্জাজনক বিষয়, ভদ্র মানুষের জন্য এর আলোচনাও কষ্টের। শিক্ষক-ছাত্র এমন একটি পবিত্র বন্ধন যার ভিত্তি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যহীনতার ওপর। যা একজনের সঙ্গে আরেকজনের সীমাহীন মুহাব্বত ও বিনিময়হীন ভালোবাসার দাবিদার। যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ মানবতা, মমত্ববোধ ও দায়িত্ববোধের অনুভূতি সৃষ্টির জন্য ছিলো সেখান থেকেই যদি এমন অসৎ চরিত্র এবং লোভ লালসার শিক্ষা পাওয়া যায়, তাহলে এমন কোন জায়গা আছে, যেখান থেকে মানবতার শিক্ষা পাওয়া যাবে!

হাম্মাদ বিন সালামা নামক একজন প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস ছিলেন। তার এক শিক্ষক চীন দেশে ব্যবসায়িক সফরে যান এবং সেখান থেকে নিজের শিক্ষকের জন্য দামি কিছু উপহার এনে শিক্ষকের নিকট পেশ করেন। শিক্ষক বললেন, যদি এই উপহার গ্রহণ করি তবে ভবিষ্যতে আর তোমাকে পড়াবো না। আর যদি পড়াই তাহলে উপহার গ্রহণ করতে পারি না। (আল কিফায়া লিল খতিব পৃষ্ঠা ১৫৩)। 

দারুল উলুম দেওবন্দের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা কাসেম নানুতবীর অবস্থা এই ছিলো যে, তিনি মাসিক ত্রিশ রুপির বেতনে খেদমত করতেন। ওই সময় কোনো ধনাঢ্য আমিরের পক্ষ থেকে তাকে মাসিক তিন শত ও পাঁচ শত রুপিয়া বেতনে খেদমতের আবেদন জানালে তিনি অক্ষমতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, আল্লাহর কাছে তো এই টাকার হিসাব দেয়াই অনেক কঠিন অতিরিক্ত। পয়সা গ্রহণ করলে এর হিসাব তো আরো কঠিন হয়ে পড়বে। বিষয়টি শুধু টাকা-পয়সার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় বরং সকল প্রকারের কল্যাণকামিতা ও সহমর্মীতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। ইবনে জামআ কতইনা সুন্দর লিখেছেন, তিনি নিজের জন্য যা পছন্দ করতেন ছাত্রদের জন্য তাই পছন্দ করতেন এবং যা কিছু নিজের জন্য অপছন্দ করতেন তা ছাত্রদের জন্যও অপছন্দ করতেন। (তাযকিরাতুছ ছামে পৃষ্ঠা ৪৯)।

ছাত্রদের জন্য শিক্ষকের সীমাহীন মায়া থাকা উচিৎ। পিতা যেমন তার সন্তানের উন্নতি ও সফলতায় খুশি হন এবং তার ব্যর্থতায় মনে কষ্ট পান এমন মায়া একজন শিক্ষকের পক্ষে ছাত্রের জন্যেও থাকা চাই। এ সম্পর্ক ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যহীন ও পবিত্র। যদি শিক্ষক ছাত্রদের সঙ্গে এমন আচরণ ও ব্যবহার করে তাহলে ছাত্রের মধ্যে এমন সম্মান সৃষ্টি না হওয়ার কোনো কারণই নেই। এসব আমরা বিভিন্ন কিতাবেও পড়েছি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই যে, তাদরিসের (শিক্ষকতার) জন্য কোনো ব্যক্তির নির্বাচন তার যোগ্যতার ভিত্তিতে হওয়া উচিৎ। ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা অন্যকিছুর ভিত্তিতে নয়। শিক্ষকতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল একটি কাজ। 

প্রসিদ্ধ বুযুর্গ আবু বকর শিবলি থেকে বর্ণিত আছে যে, ব্যক্তি যদি উপযুক্ত হওয়ার আগে কোনো পদে নিয়োজিত হন, তিনি অসম্মানের মুখোমুখি হন। (তাযকিবাতুছ ছামে ওয়াল মুতাকাল্লিম পৃষ্ঠা ৪৫)। উপযুক্ত হওয়ার আগে অর্থ হলো যে বিষয় পাঠদানের জন্য তার ওপর ন্যস্ত করা হচ্ছে বাস্তবেই তিনি সেই বিষয়ে পারদর্শীতা রাখেন এবং চরিত্রগতভাবেও তিনি এমন যে কারো পক্ষে তার প্রতি আঙ্গুল উত্তোলনের সুযোগ নেই।
 
সঙ্গে সঙ্গে এটাও আবশ্যক যে, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তিনি পর্যাপ্ত চেষ্টা মেহনত করেন। কঠোর মোতালায়ায় অভ্যস্ত হন। এসব বিষয় ব্যতিত ছাত্রদের পক্ষে উপকৃত হওয়া সম্ভব নয়। তিনি পাঠদানের সময় নিয়ে সচেতন এবং ছাত্রদের জন্য সময়কে আমানত গণ্য করেন। কোরআনে কারিম মাপে কম দেয়ার বিষয়ে অনেককে তিরস্কার করেছে। উলামাগণ লিখেছেন যে, মাপে কম দেয়ার মধ্যে এটাও অন্তর্ভূক্ত যেকোনো কর্মচারী সময়ের কোনো অংশ নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে অথবা অপির্ত দায়িত্বের বাইরে কোনো কাজে ব্যয় করেন। ইহাও এক ধরনের চুরি এবং এই সময়ের বিনিময় তার জন্য হালাল নয়। শিক্ষকের জন্য এ বিষয়টিও আবশ্যক যে, তিনি ছাত্রদের ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রতি সংবেদনশীল হবেন এবং তারা যেন আমলি জীবনে তার থেকে উপকৃত হতে পারেন। 

ছাত্রদের অপদস্ত করার মতো আচরণ করা এবং তাদের অপমানিত করা খুবই গর্হিত কাজ এবং ইহা কোনো শিক্ষকের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কাজ নয়। আল্লাহর রাসূল (সা.) এর মুবারক কর্মপদ্ধতি এই ছিলো যে, কাউকে যদি কোনো ভুলের জন্য শাসন করার প্রয়োজন হত তাহলে তিনি তাকে একাকী ডেকে সাবধান করতেন। আর যদি অনেক লোক এই অন্যায় কাজে লিপ্ত থাকত তাহলে সাধারণ মজলিসে কারো নাম উল্লেখ করা ব্যতিত অনির্দিষ্টভাবে সতর্ক করতেন। উদ্দেশ্য ছিলো সংশোধন করা, কারো থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ নয়। 

কোনো কোনো ছাত্র বাহ্যত দুষ্ট হয়। যদি একাকী ডেকে তাকে বুঝানো হয় এবং তার মাথা থেকে মন্দ ও নেতিবাচক কাজগুলো সরিয়ে ইতিবাচক কাজগুলো ঢুকিয়ে দেয়া যায় তাহলে অতি সহজেই সে সংশোধন হয়ে যায় এবং জাতির জন্য একজন মুখলিস কর্তব্যনিষ্ট ব্যক্তিতে পরিণত হয়। শিক্ষকের জন্য জ্ঞানগত যোগ্যতার পাশাপাশি চরিত্রগত উৎকর্ষতাও অতি আবশ্যকীয় একটি গুণ। শিক্ষকের এমন গাম্ভীর্যপূর্ণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী হওয়া উচিৎ যে, তার একটি কঠিন দৃষ্টি ছাত্রদের তটস্ত করে দেয়। 

যদি শিক্ষক নিজে অসৎ চরিত্রের হোন, ছাত্রদের সঙ্গে লাগামহীন কথাবার্তা বলেন, তাদের সামনে অশ্লীল হাসি-তামাশা করেন, তার কর্মকাণ্ডকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখা হয়, তার মুখেও সব সময় অসংলগ্নতা ও বালখিল্যতা প্রকাশ পায়, তাহলে ছাত্ররা তাকে বাধাহীন বন্ধু মনে করতে থাকে। তারা তাকে শিক্ষকের যথার্থ মর্যাদা দেয় না। কারণ, এটি একটি স্বাভাবিক বিষয় যে, মানুষ নিজে যতোই খারাপ হোক না কেন নিজের বড়দের সেসব থেকে মুক্ত দেখতে চান। তাই সমাজ ও জাতি গঠনে শিক্ষকের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি শুধু ছাত্রদের নয় বরং সমাজের সকলের সম্মানের পাত্র। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে