ইসলামে ওজুর বিধান ও গুরুত্ব

ঢাকা, সোমবার   ২০ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৬ ১৪২৬,   ১৪ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

ইসলামে ওজুর বিধান ও গুরুত্ব

 প্রকাশিত: ১৮:১৬ ১০ নভেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৮:২৩ ১০ নভেম্বর ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ইসলামে ওজুর বিধান ও গুরুত্ব (পর্ব-১) এর আলোচনায় ইসলামের বিধান অনুযায়ী ওজু কি, এর পরিচয়, কোরআন ও হাদিসে ওজু সম্পর্কে বিভিন্ন আয়াত ও বাণী, ওজুর ফরজ, সুন্নাত ইত্যাদি বিষয়ে তুলে ধরা হয়েছে।

আজকের আলোচনায় ইসলামে ওজুর বিধান অনুযায়ী ওজু মাকরুহ হওয়ার কারণ, ওজু ভঙ্গের কারণ এবং এর মাসাআলা; এছাড়াও ওজু শুরু করার এবং শেষ করার দোয়া ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করা হবে।

পবিত্রতা অর্জনের জন্য ওজু করা হয়। শরীয়তের বিধান মতে পবিত্র পানি দিয়ে শরীরের কতিপয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধোয়াকে ওজু বলে। শরীয়তে ওজুর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। পবিত্র কোরআনে আছে ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীকে ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকে তাহাদিগকেও ভালবাসেন।’ (সূরা: আল বাকারা, আয়াত: ২২২)

ওজু মাকরুহ হওয়ার কারণ:

ওজুর এই ফরজ ও সুন্নাত কাজগুলো সম্পন্ন করার মধ্যে দিয়ে ওজু সহীহভাবে সম্পন্ন হয়। তবে এগুলো কোনোটা বাদ গেলে ওজু মাকরুহ হয়ে যায়। এছাড়াও ওজু মাকরুহ হওয়ার আরো কিছু কারণ রয়েছে। নিচে সেগুলো উল্লেখ করা হলো:

১. ওজুর সুন্নাত সমুহের যেকোনো সুন্নাত ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দিলে ওজু মাকরুহ হবে,
২. প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি ব্যয় করা,
৩. মুখমণ্ডল ধৌত করার সময় সজোরে মুখে পানি নিক্ষেপ করা,
৪. বিনা ওজরে বাম হাত দ্বারা কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়ার এবং ডান হাতে নাক পরিস্কার করা,
৫. অপবিত্র স্থানে ওজু করা,
৬. মসজিদের মধ্যে ওজু করা, তবে কোনো পাত্রের মধ্যে ওজু করা জায়েয,
৭. কফ-কাশী বা নাকের ময়লা ওজুর পানির মধ্যে নিক্ষেপ করা,
৮. বিনা কারণে অন্যের সাহায্য নেওয়া।

ওজু ভাঙ্গার কারণসমূহ:

কোনো ব্যক্তি ওজু করার পর কিছু নির্দিষ্ট কাজ না করলে তার ওজু অবিরত বলবৎ থাকে। ঐ কাজগুলো করার মাধ্যমে ওজু অকার্যকর হয় বা ওজু ভেঙ্গে যায়। ওজু ভঙ্গের ৭টি বিশেষ কারণ রয়েছে। যেগুলো করার কারণে ওজু ভেঙ্গে যায়।

নিচে সেই কারণগুলো উল্লেখ করা হলো:

১. পায়খানা প্রস্রাবের রাস্তা দিয়া কোনো কিছু বের হওয়া,
২. মুখ ভরে বমি হওয়া,
৩. শরীরের কোনো জায়গা হতে রক্ত, পুঁজ বা পানি বের হয়ে গড়িয়ে পড়া,
৪. থুথুর সঙ্গে রক্তের ভাগ সমান বা বেশি হওয়া,
৫. চিৎ বা কাত হয়ে হেলান দিয়ে ঘুম যাওয়া,
৬. পাগল, মাতাল, অচেতন হওয়া, এবং
৭. নামাজে উচ্চস্বরে হাসা।

এই কারণগুলো ছাড়াও আরো কিছু কারণ রয়েছে যেগুলোর কারণে ওজু ভেঙ্গে যায় সেগুলো হলো:

১. কারো নাক দিয়ে কোনো কিছু ঢুকে মুখ দিয়ে বের হলে,
২.পায়খানার রাস্তা দিয়ে বায়ু বা অন্য কিছূ নির্গত হলে,
৩. স্ত্রীকে কাম ভাব সহকারে স্পর্শ করলে ওজু ভঙ্গ হয়ে যায়,
৪.লজ্জা স্থানে বিনা আবরনে হাত পড়লে ওজু ভঙ্গ হয়ে যাবে।

তবে ওজু ভঙ্গের কিছু মাসয়ালা আছে, নিচে উল্লেখ করা হলো:

১. কোনো কিছুর আঘাতে বা মেসওয়াকের কারণে থুথুর সঙ্গে রক্ত দেখা গেলে ওজু যাবেনা। যতক্ষন না রক্ত প্রবাহিত হয়ে মুখ থেকে বের হয়ে আসে,
২. স্ত্রী-স্বামীকে কিংবা স্বামী-স্ত্রীকে স্বাভাবিক ভাবে স্পর্শকরলে (কাম ভাব ব্যতিত) ওজু নষ্ট হয় না,
৩. লজ্জা স্থানে কোনো কাপড়ের ওপর দিয়ে হাত পড়লে বা নজর পড়লে ওজু নষ্ট হয় না,
৪. কারো ওজু ছিল হঠাৎ সন্দেহ হলো যে, ওজু আছে কি নাই। এই অবস্থায় ওজু আছে বলে ধরে নিতে হবে। তবে নতুন করে ওজু করে নেওয়াই উত্তম,
৫. কারো ওজু ছিলনা পরে ওজু করেছে কিনা তা সন্দেহ হলে এই অবস্থায় ওজু করে নিতে হবে,

তায়াম্মুম: ‘অতঃপর পানি না পাও তবে তোমরা পবিত্র মাটিদ্বারা তায়াম্মুম করে নাও অর্থাৎ স্বীয় মুখ মন্ডল ও হস্ত-দ্বয় মাটি দ্বারা মুছে ফেল।’ (সূরা: মায়িদা, আয়াত: ৬)

ওজু শুরু ও শেষ করার দোয়া :

ওজু শুরু করার জন্য একটি দোয়া রয়েছে এবং এ সম্পর্কে একটি হাদীসও আছে। একবার আবু মূসা আশ‘আরী (রা.) বলেন, ‘আমি এমন এক সময় নবী করীম (সা.) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, যখন তিনি ওজু করছিলেন এবং তার জবান মোবারক থেকে এ দোয়া উচ্চারিত হচ্ছিল, ‘হে আল্লাহ! আমার গুনাহ মাফ করে দিন। আমার ঘরের প্রয়োজন মিটিয়ে দিন এবং আমার রিজিকে বরকত দান করুন।’ (আন-নাসায়ী)

আবার ওজু শেষের দোয়া সম্পর্কে হজরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে ওজু সম্পন্নের পর নিম্নলিখিত দোয়া করে, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেয়া হবে। সে যেকোনো দরজা দিয়ে ইচ্ছা বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে।’ (সহীহ মুসলিম ও জামে আত-তিরমিযী)

দোয়াটি নিম্নরুপ: 

‘আশহাদ আল-লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা-শরীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ’আবদুহু ওয়া রাসূলুহু। আল্লাহুম্মাজ’আলনী মিনাত্ তাওয়াবীনা ওয়াজ’আলনী মিনাল মুতাত্বহ্হেরীন।’

অর্থ: ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। তিনি এক, তার কোনো অংশীদার নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হজরত মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। হে আল্লাহ! আমাকে তাওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারী লোকদের মধ্যে শামিল করুন।’ (সহীহ মুসলিম ও জামে আত-তিরমিযী)
 
পরিশেষে বলা যায়, সামগ্রিক পবিত্রতা অর্জন করা এবং খোদা তায়ালার ইবাদতে মসগুল হওয়ায় সকল মুসলমানের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য। মহান আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে হেদায়েতের মাধ্যমে নেক হায়াত দান করুন। আল্লাহুম্মা আমিন।

আরো পড়ুন>>> ইসলামে ওজুর বিধান ও গুরুত্ব (পর্ব-১)

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে

Best Electronics