Alexa ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ৭ ১৪২৬,   ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১

Akash

ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব

মাওলানা ওমর ফারুক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৩৩ ২৫ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ২১:৪৩ ২৫ জানুয়ারি ২০২০

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

জ্ঞান অর্জন করা পবিত্র কোরআনুল কারিমের প্রথম নির্দেশ। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘পড় তোমার প্রভুর নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। মানুষকে সৃষ্টি করেছেন জমাট বাধা রক্ত থেকে। পড় তোমার প্রতিপালক যিনি মহা মহিমান্বিত। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।’ (সূরা: আল-আলাক-১-৫)।

প্রিয় নবী হজরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিসে ঘোষণা করেন, ‘প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর জ্ঞান অর্জন করা ফরজ।’ (আল হাদিস)।

আরো পড়ুন>>> নামাজে মনোযোগ ধরে রাখার বিশেষ কিছু উপায় 

ইসলাম একটি পরিপূর্ণ ও গতিশীল জীবন ব্যবস্থার নাম। ইসলামের অনুসারী জাতি মুসলিম। মুসলিম জাতির সমস্ত কর্মকাণ্ড ইসলামের নীতিতে পরিচালিত করা ফরজ। কিন্তু দুঃখের বিষয় হললো নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদি ফজিলত পূর্ণ নীতিগুলোই আমরা কেবল ইসলাম থেকে নিয়েছি। আর বাকী নীতিগুলো নিয়েছি মানুষের তৈরি করা মতবাদ থেকে। যার প্রধান কারণ হল ইসলাম সম্পর্কে যথার্থ জ্ঞানের অধিকারী না হওয়া। ফলশ্রুতিতে মুসলিমদের অধীনে যাদের থাকার কথা তাদের অধীনে মুসলিমরা আজ চরম নির্যাতিত ও অপমানিত। এ অবস্থার পরিবর্তন চাইলে সর্ব প্রথম মুসলিমদের ইসলামী জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে উপযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। নিম্নে লিখিতভাবে ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করব।

জগতসমূহের সৃষ্টিকর্তা এবং পালন কর্তা মহান আল্লাহা তায়ালা তার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি আশরাফুল মাখলুকাত ‘মানুষ’ সৃষ্টি করেছেন শুধুই তার ইবাদত বা দাসত্ব করার জন্য। তার এই বিরাট সৃষ্টি অন্য কারো গোলামী করুক দুনিয়ায় অন্য মানুষের দাস হোক এটা তার পছন্দ নয়। আবার প্রতিনিধি হিসেবে আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীতে যে মানুষ পাঠিয়েছেন তারা মূর্খতার অন্ধকারে ঘুরে মরুক। এবং পশুর মতো নফসের খায়েশাতে চলে সদা পেক্ষায় নিকৃষ্ট প্রাণীতে পরিণত হোক এটাও তার মনঃপূত হয়, তাই তিনি শাশ্বত জীবন বিধান দিয়েছেন মানুষের কল্যাণে। আল্লাহর দেয়া এই জীবন বিধানকে যারা বিশ্বাসের সঙ্গে মেনে নিয়েছে তারাই মূলত মুসলিম। আর মহান আল্লাহর বলেন, ‘আল্লাহর দেয়া বিধান অনুসারে যারা ফায়সালা করে না তারাই কাফের।’ (সূরা মায়েদা)।

দুনিয়ার আদালতে যে সব বিচার ফায়সালা হয় কেবল সেই সবের ফায়সালা কোরআনের অনুসারে করার কথা এখানে বলা হয়নি। বরং প্রত্যেকটি মানুষ তার জীবনের প্রতিটি কাজের সময় যে ফায়সালা করে সে ফায়সালার কথাই এতে বলা হয়েছে। প্রতিটি কাজের ব্যাপারে প্রশ্ন উঠে যে, এ কাজ করা উচিত কি উচিত নয়? এবং এ কাজ কোন নিয়মে করবে? এ সময়ে মানুষের সামনে সাধারণত দুই প্রকারের নিয়ম এসে উপস্থিত হয়। এক প্রকার নিয়ম আল্লাহর কোরআন ও রাসূলের হাদিসের নিয়ম। আর এক প্রকার নিয়ম উপস্থিত করে, মানুষের নফস, বাপ-দাদা হতে চলে আসা নিয়ম প্রথা অথবা মানব রচিত আইন।

এমতাবস্থায় যে ব্যক্তি আল্লাহর তায়ালার নিয়ম বাদ দিয়ে অন্য পন্থা অবলম্বন করে কাজ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল, প্রকৃতপক্ষে সে কুফরির পথ অবলম্বন করল। যদি সে তার সমস্ত জীবন সম্বন্ধেই এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে নেয় এবং কোনো কাজেই যদি আল্লাহর দেয়া নিয়ম অনুসরণ না করে, তবে সে ব্যক্তি পুরোপুরিভাবে কাফের। যদি সে কিছু কাজে আল্লাহর বিধান মেনে চলে আর কতগুলো নিজের নফসের হুকুম মতে। কিংবা বাপ-দাদার প্রথামত অথবা মানব রচিত আইন অনুযায়ী করে। তবে যতখানি আল্লাহর আইনের বিরুদ্ধাচরণ করবে, সে ঠিক ততখানি কুফুরির মধ্যে লিপ্ত হবে।

বস্তুত কেবলমাত্র আল্লাহ তায়ালার বান্দা হয়ে থাকা এবং নফস বাপ-দাদার প্রথা কিংবা মানব রচিত মতবাদ এক কথায় এর বিপরিতে যাহা কিছু আছে আল্লাহর আদেশের বিপরিতে- তাদের আনুগত্য না করারই নাম হচ্ছে ইসলাম। আল্লাহ ছাড়া আর কারো দাস হবে না আর কারো দাসত্যও কবুল করবে না; মূলত এটাই হচ্ছে মুসলিম ব্যক্তির কাজ।

আল্লাহ বলেন: ‘তোমরা কি আল্লাহর আনুগত্য ছাড়া অন্য কারো আনুগত্য করতে চাও? অথচ আকাশ ও পৃথিবীর প্রত্যেকটি জিনিস ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক তাঁরই আনুগত্য করে যাচ্ছে।’ (আল কোরআন: আলে ইমরান: ৭২)।

আর এই আনুগত্য করার সঠিক মাধ্যম হলো রাসূল মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আনুগত্য করা। ‘তোমরা আল্লাহ এবং তার রাসূলের আনুগত্য কর।’ (সূরা: নিসা, আয়াত: ৫৯)।

যারা আমার রাসূলের হুকুমের বিরোধিতা করছে তাদের ভয় করা উচিত যে, তাদের ওপর বিপদ আসতে পারে। (সূরা: আননুর-৬৩)।

উল্লেখিত আয়াতে কারিমা থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা গেল মানুষ শুধুমাত্র আল্লাহর আনুগত্য করতে হবে। আর এ আনুগত্য তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মারফত যে জ্ঞানের আলো দান করেছে সেই মানদণ্ডে হতে হবে। আবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদর্শিত পথ অবলম্বন না করলে বিপদের আশংকা আছে।

সুতরাং মানুষকে দুনিয়ার জীবনে চলতে গেলে অবশ্যই দু’টি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রথম হচ্ছে যে, মাখলুক মানুষের খেদমতে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন তা থেকে সঠিক কাজ আদায় করে নেবো। যেমন আল্লাহ তায়ালা মানুষকে হাত দিয়েছেন তার খেদমতে করার জন্য। এই হাতের সঠিক ব্যবহারের দায়িত্ব তার নিজের। সে ইচ্ছে করলে হাত দিয়ে ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করতে পারে আবার ইচ্ছা করলে ময়লা আবর্জনা ছিটিয়ে দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে। দ্বিতীয় হচ্ছে এ সব মাখলুককে কাজে লাগাতে গিয়ে যথার্থ নিয়মে আল্লাহর বিধানের প্রতি লক্ষ রাখতে হবে। কারণ মানুষ যদি জানতে না পারে যে দুনিয়ার হাকিকত কী এবং তা হতে কী ধরনের ফায়দা নেয়া যায়, তাহলে সে দুনিয়ার কোনো বস্তুকে নিজের লাভের জন্য ব্যবহার করতে পারবে না। তাছাড়া মানুষ আল্লাহর পছন্দনীয় কাজ এবং অপছন্দনীয় কাজ সম্মন্ধে সঠিক জ্ঞানী না হলে আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুযায়ী জীবন যাপন করা সম্ভব নয়।

সঙ্গত কারণে মানুষকে সৃষ্টি করার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ তায়ালা এমন তিনটি জিনিস সৃষ্টি করেছেন। যদ্ধারা মানুষ উপরোল্লিখিত বিষয়গুলোর জ্ঞান অর্জন করতে পারে।

১। মানুষের পঞ্চ ইন্দ্রিয়: হাত, পা, নাক, কান, চোখ, জিহ্বা। 
২। বিবেক।
৩। ওহী।

অনেক বিষয়ের জ্ঞান মানুষ পঞ্চ ইন্দ্রিয় দ্বারা অর্জন করতে পারে। আবার অনেক বিষয়ের জ্ঞান মানুষ বিবেক দিয়ে অর্জন করতে পারে। পঞ্চ  ইন্দ্রিয়  বিবেক দ্বারা যে সমস্ত জিনিসের এলেম অর্জন করা যায় না ওহীর মাধ্যমে সে সব বিষয়ের জ্ঞান অর্জন করা যায়।

অতএব, বুঝা গেলো, এলেম অর্জনের ক্ষেত্রে ওহীই সর্বোত্তম মাধ্যম। আল্লাহ তায়ালা তাঁর রাসূলের মারফতে যে জ্ঞানের আলো দান করেছেন মূলত সেটাই ওহী।

আর একটা বিষয় হচ্ছে আল্লাহর আনুগত্য করা। প্রশ্ন হলো কোন মানুষ আল্লাহর আনুগত্য করতে বাধ্য।  আসল কথা এই যে, আল্লাহ তায়ালা মানুষের কাছে তার আনুগত্য দাবী করেন তাঁর নিজের স্বার্থের জন্য নয় বরং মানুষের কল্যাণের জন্য। আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার রাজা বাদশার মতো নন। যারা শুধু নিজের স্বার্থের জন্য লোকদের ওপর তাদের হুকুম চালায়। আল্লাহ তায়ালার কোনো স্বার্থ নেই। তিনি সর্ব প্রকার স্বার্থের নিচতা হতে পবিত্র। তাঁর কোনো কিছুরই প্রয়োজন নেই। দুনিয়ার সব কিছুই তার। সমস্ত ধন সম্পদের তিনিই একমাত্র মালিক। মানুষের দুনিয়ার জীবনে সুখ-শান্তি আর পরকালীন জীবনের মুক্তি একমাত্র তাঁরই হাতে। তাই মানুষ নিজের স্বার্থেই আল্লাহ তায়ালার আনুগত্য করা প্রয়োজন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মারফতে আল্লাহ তায়ালা যে জ্ঞানের আলো পাঠিয়েছেন তা হচ্ছে মূলত ওহীর জ্ঞান। আল্লাহ তায়ালা সব কিছুই অবগত আছেন। মানুষ ও নিখিল জাহানের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালা। প্রত্যেকটি জিনিসের প্রকৃতি তিনি জানেন এবং বুঝেন। একমাত্র তিনিই বলে দিতে পারেন যে, কোন জিনিসে মানুষের আসল ক্ষতি হতে পারে। কোন কাজ করা উচিত আর কোন কাজ করা উচিত নয়। তা একমাত্র তিনিই বলে দিতে পারেন। এছাড়া আল্লাহ তায়ালা ন্যায় বিচারক, তিনি কখনোই কারো ওপর অবিচার করেন না। কাজেই তার সব পরামর্শ নিশ্চই নিরপেক্ষ, ন্যায় ও ফলপ্রসু হবে। তাঁর আদেশ অনুযায়ী চললে মানুষের নিজের ওপর বা অন্য কারো ওপর কোনো জুলুম হবার আশংকা নেই। 

তবে মনে রাখতে হবে, আল্লাহ তায়ালার কাছে থেকে যে আলো পাওয়া যায় তা থেকে কল্যাণ লাভ করা দু’টি জিনিসের ওপর একান্তভাবে নির্ভর করে। প্রথমত আল্লাহ তায়ালা এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি প্রকৃত ঈমান আনতে হবে। দ্বিতীয়ত- ঈমান আনার পর জীবনের প্রত্যেকটি কাজে আল্লাহর সেই বিধান মেনে চলতে হবে।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে খুব সহজেই বুঝা যায় যে, আল্লাহ তায়ালা আশরাফুল মাখলুকাত ‘মানুষ’কে সৃষ্টি করেছেন। মানুষ দুনিয়ার জীবনে কতোটুকু আল্লাহর দাসত্ব বা গোলামী করেছে তার পরীক্ষা নেয়ার জন্য। আর এ পরীক্ষার সফলতা লাভের জন্য যা কিছু প্রয়োজন সব কিছুই সৃষ্টি করেছেন মানুষের খেদমতে।

কিন্তু আল্লাহ তায়ালা নিজে মানুষের সামনে এসে হুকুম দেন না। তাঁর যা কিছু হুকুম আহকাম দেয়ার ছিল তার সব তাঁর রাসূলের মারফত পাঠিয়েছেন। আমাদের সেই প্রিয় নবী হজরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায় চৌদ্দশত বছর পূর্বে দুনিয়া থেকে চলে গেছেন। তার কাছে আল্লাহ তায়ালা যা কিছু হুকুম আহকাম দিয়েছিলেন তা সব এখন পবিত্র কোরআন ও হাদিসের মধ্যে নিহিত আছে।

কিন্তু কোরআন শরিফ এমন কোনো জিনিস নয় যা নিজেই মানুষের সামনে এসে মানুষকে আল্লাহর কথা বলতে ও হুকুম দান করতে পারে। এবং মানুষকে আল্লাহ তায়ালার নিষিদ্ধ পথ হতে বিরত রাখতে পারে। অতি সহজেই বুঝা যাচ্ছে যে, মানুষ নিজেই নিজের প্রয়োজনে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের শিক্ষা লাভ করতে হবে।

যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ নিজ প্রচেষ্টায় শুধু মাত্র দুনিয়া ও আখেরাতে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কোরআন ও হাদিসের জ্ঞান অর্জন করতে না পারবে ততক্ষণ পর্যন্ত সে সঠিকভাবে আল্লাহ তায়ালার আনুগত্য বা দাসত্ব করতে পারবে না। আর সঠিকভাবে যদি মানুষ আল্লাহ তায়ালা ইবাদত বা দাসত্ব করতে না পারে তাহলে শেষ বিচারের দিনে কোনো অবস্থাতেই সে উত্তীর্ণ হতে পারবে না। ফলে আল্লাহর শাস্তি তার জন্য বরাদ্ধ হয়ে যাবে। কতই না নিকৃষ্ট সে জীবন।

আর যারা উত্তীর্ণ হবে তারা পাবে চির সুখের জান্নাত। কতই না উৎকৃষ্ট সে জীবন। এ জীবন কখনো পাওয়া যাবে না। অন্ধকারে সাঁতার কেটে এ জীবনের সন্ধান পাওয়া যাবে না। শুধুমাত্র কোরআন-হাদিসের জ্ঞানের আলোতে চলে এর সন্ধান করতে হবে।

তাইতো প্রিয় নবী হজরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যথার্তই বলেছিছেন, ‘প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর জ্ঞান অর্জন করা ফরজ।’ (আল হাদিস)।

বিদায় হজ্জের ভাষণের মানবতার সেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন- আজ আমি তোমাদের জন্য দু’টি জিনিস রেখে যাচ্ছি। যদি তোমরা এ দু’টিকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরে রাখ কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। 
(১) কিতাবুল্লাহ     
(২) সুন্নতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে