ইসলামপুরে ধারের টাকা ফেরত চাওয়ায় কোপালেন চেয়ারম্যান!

ঢাকা, রোববার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১২ ১৪২৭,   ০৯ সফর ১৪৪২

ইসলামপুরে ধারের টাকা ফেরত চাওয়ায় কোপালেন চেয়ারম্যান!

ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২৩:৩৮ ৫ আগস্ট ২০২০  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

জামালপুরের ইসলামপুরে ব্যক্তিগত আক্রোশকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীকে হত্যার উদ্দেশে নিজে কুপিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে ইসলামপুর উপজেলার ১২ নম্বর চরগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান মো. শহিদুল্ল্যাহর বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার, ইসলামপুর উপজেলার ১২ নম্বর চরগোয়ালিনী ইউপির ফারাজী পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া মারাত্মক আহত ওয়াজেদ আলী পেক্কা, তার স্ত্রী ও স্বজনেরা এমন অভিযোগ করেন। 

আহত ওয়াজেদ আলী পেক্কাকে প্রথমে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতের স্ত্রী অরুনা বেগম জানান, তার স্বামী ওয়াজেদ আলী এক সময় সৌদি প্রবাসী ছিলেন। একটি সড়ক দুর্ঘটনায় তার পা ভেঙে যাওয়ায় তিনি দেশে চলে এসেছেন। সৌদিতে থাকা অবস্থায় শহিদুল্ল্যাহ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার জন্য তার স্বামীর কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা ধার নিয়ে ছিলেন। তার অনেকদিন চলে গেলেও সে টাকা তিনি পরিশোধ করছিলেন না। বর্তমানে তার স্বামীর অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ। সেজন্য ধারের টাকা তুলতে গ্রামবাসীর কাছে সহযোগিতা চেয়েছিলেন। এই ঘটনায় চেয়ারম্যান ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন।

ঘটনার দিন ওয়াজেদ আলী পেক্কা বাড়ি যাওয়ার পথে চেয়ারম্যানের বাড়ি আঙ্গিনায় তার স্বামীকে একা পেয়ে চেয়ারম্যান শহিদুল্ল্যাহ, তার ছেলে আসিফ ও বড় ভাই জামিল তাকে হত্যার উদ্দেশে হামলা করে। সে হামলায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া পঙ্গু স্বামীকে এলাকাবাসী উদ্ধার করে প্রথমে জামালপুর হাসপাতালে পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এ ঘটনায় তার স্বামী ছাড়াও তার বড় ভাই তমছের ও ভাতিজা রুবেল আহত হয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাবেক ইউপি সদস্য ময়নাল হোসেন বলেন, ওয়াজেদ আলী পেক্কাকে অন্যায়ভাবে কুপিয়েছেন চেয়ারম্যান ও তার স্বজনেরা। আমরা তার প্রতিবাদ করায় চেয়ারম্যান আমাকে ও আমার ছেলেকেও মারধর করেছে। এই ঘটনায় স্থানীয় জনগণ ক্ষুব্ধ হয়ে চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশ আসলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এ ব্যাপারে চরগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল্ল্যাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে  তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। 

এ ব্যাপারে ইসলামপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে পুলিশ। ঘটনায় আহত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ