চৌগাছা গুচ্ছ গ্রামের বেহাল দশা

ঢাকা, শুক্রবার   ২৪ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ১০ ১৪২৬,   ১৮ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

চৌগাছা গুচ্ছ গ্রামের বেহাল দশা

 প্রকাশিত: ১৩:৩৫ ৮ নভেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৩:৩৮ ৮ নভেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

যশোরের চৌগাছার ভূমিহীনদের পুনর্বাসন প্রকল্পের গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দারা ভাল নেই। গুচ্ছ গ্রামের ঘরের মেঝে, বেড়া, টিনের চাল ও খুঁটিগুলো ভেঙ্গে পড়ছে। ঘরগুলো বসবাসের অনুপোযোগী হয়ে পড়ায় বাসিন্দারা অন্যত্রে চলে যাচ্ছে।

২০০৭ সালে ভূমিহীন অসহায় পরিবারের পুনর্বাসন করতে সরকারি খাস জমিতে গুচ্ছ গ্রাম তৈরি করা হয়। প্রায় ৩৫০ পরিবারের নামে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুচ্ছ গ্রামে বরাদ্দ দেয়। সংস্কারের অভাবে ঘরগুলো ভেঙ্গে বসসবাসের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।

গুচ্ছ গ্রামগুলোর পরিবারের সদস্যরা ভিক্ষাবৃত্তি, বাড়িতে-বাড়িতে ঝিয়ের কাজ বা পরের ক্ষেতে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালায়।

পাতিবিলা ইউনিয়নের হায়াতপুর গুচ্ছ গ্রামে মোট ৬০টি ভূমিহীন পরিবারকে বরাদ্দ দেয়া হয়। এরমধ্যে ৪০টি পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। বর্তমানে ২০ টি পরিবারের ৮০ জন লোক বসবাস করছেন।

যাত্রাপুর আবাসন প্রকল্পে পুনর্বাসিত ৪০ টি মধ্যে ২০টি পরিবার চলে গেছে। সেখানকার ঘরের মেঝের প্লাস্টারগুলো উঠে গেছে। টিনের চাল পুরাটাই নষ্ট হয়ে গেছে। জংধরে ঝরে পড়ছে দেয়ালের টিন। তাদের বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব, স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটেশন নেই।

শাহাজাদপুর গুচ্ছ গ্রামে পর্যায়ক্রমে পূর্নবসিত ৪০ টির মধ্যে ২০ টি পরিবার অন্যত্র চলে গেছেন। ২০ টি পরিবারের ৬১ জন লোক বসবাস করে। ওই সব গুচ্ছ গ্রামের বসিন্দারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে।

এ বিষয়ে হায়াতপুর আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দা শাহাজান আলী, সরজান বিবি, আব্দুল গফুর, আমজাদ হোসেন, ইকবাল হোসেনসহ অনেকে জানান, ঘরের বেড়া, চাল, মেঝে ও খুঁটিগুলো ভেঙ্গে পড়ছে। সংস্কারের অভাবে জীবনের ঝুঁকি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে আমরা বসবাস করছি। আমাদের সমস্যার কথা বিগত নির্বাহী কর্মকতা নার্গিস পারভিন জানিয়েছিলাম কিন্তু কোন লাভ হয়নি।

এ ব্যাপারে হায়াতপুর আবাসন প্রকল্পের সভাপতি ফারুক হোসেন জানায়, বর্তমান সরকারের ঘোষিত সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের বিভিন্ন কর্মসূচী বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতা, স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা, প্রতিবন্ধি ভাতা, হতদরিদ্রদের ১০ টাকা কেজি দরে রেশন কার্ডও তাদের ভাগ্যে জোটেনি।

এ বিষয়ে ইউএনও মারুফুল আলম জানান, সরকার থাকার জন্য ঘরবাড়ি করে বসবাসের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। বর্তমানে এ প্রকল্পের জন্য সরকার নতুন করে কোন বাজেট দিচ্ছে না। তবে সরকারী অন্যকোন অনুদান থেকে তাদের সমস্যাগুলো সমাধানে ব্যবস্থা নেবো।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসকে

Best Electronics