নদীগর্ভে সীমানা, উন্নয়ন ব্যাহত

ঢাকা, রোববার   ০৫ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২২ ১৪২৬,   ১১ শা'বান ১৪৪১

Akash

নদীগর্ভে সীমানা, উন্নয়ন ব্যাহত

জামালপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৫:৫৯ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ০৬:০৮ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি ইউপি যমুনার ভাঙনে পাঁচটি ওয়ার্ডের প্রায় সবকটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। 

ইউপির বেশির ভাগ গ্রাম বিলীন হওয়ায় ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের সীমানা পিলার হারিয়ে গেছে। জেগে উঠা চরগুলোতে সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে এক ইউপির সঙ্গে অন্য ইউপি এবং এক ওয়ার্ডের সঙ্গে আরেক ওয়ার্ডের সীমানা নিয়ে চরম জটিলতায় উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। 

জানা যায়, সর্বগ্রাসী যমুনার অব্যাহত ভাঙনে ১ নম্বর কুলকান্দি ইউপির সর্বশান্ত পাঁচ শতাধিক পরিবারের মানুষগুলো সহায় সম্বল হারিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে চিনাডুলি, নোয়ারপাড়া, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা, বগুড়ার সারিয়াকান্দিসহ বিভিন্ন শহর-বন্দরে বিচ্ছিন্নভাবে বসবাস করে অনাহার-অর্ধাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

ভাঙন কবলিত কুলকান্দি ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক বাবু জানান, তার ইউপির ৯টি ওয়ার্ডের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব জিগাতলা, ২ নম্বর ওয়ার্ডের (বেড়কুশা গ্রাম) এক-তৃতীয়াংশ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চাকুরিয়া, চিনাডুলী,  শেখপাড়া ও (হরিণধরা গ্রাম) সম্পূর্ণ, ৪ নম্বর ওয়ার্ডেরে (আটিয়ামারী) সম্পূর্ণ, মাঝিপাড়া, নয়াপাড়া সম্পূর্ণ ৫ নম্বর ওয়ার্ডের (কুলকান্দি) ৮০ ভাগ এলাকাসহ বাজার, কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র, মসজিদ-মন্দির, রাস্তাঘাট, গাছপালা, বাড়িঘর, আবাদি জমি, সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ইউপি ভবন নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। 

নদী ভাঙনে ইউনিউনের স্থলভাগের মানচিত্র বিলীন হয়ে আবার পুনরায় যমুনার বিভিন্ন স্থানে দ্বীপচর জেগে উঠে। এতে সীমানা জটিলতায় উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

ভুট্টু শেখ জানান, এক সময় প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষ বাস করত এ ইউপিতে। পার্শ্ববর্তী ইউপির নদী ভাঙনের ফলে চরম সীমানা জটিলতা দেখা দেয়। ইউপির কয়েকটি গ্রাম আবার চর হিসেবে জেগে উঠলেও সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়নি। 

নোয়ারপাড়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বাদলের দাবি, অধিকাংশ এলাকায় যমুনা নদীর ভাঙনের ফলে সীমানা জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় জনগণের মাঝে চরম দুর্ভোগ চলছে। কে কোন এলাকার বাসিন্দা তাও ঠিক করে বলতে পাররে না। এ জটলা থেকে ইউনিয়নবাসীকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি প্রদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

কুলকান্দি ইউপির বেড়কুশার মজিদ, কামাল, জামাল, হরিণধরার আলী হোসেন, জিগাতলার বেলাল  হোসেনসহ অনেকে জানান, আমরা কোন ইউনিয়নে কিংবা ওয়ার্ডের বাসিন্দা তাও জানি না। কোনো কাজের জন্য মেম্বার বা চেয়ারম্যানের কাছে গেলে তারাও ঠিক করে বলতে পারে না।

এলাকাবাসী উন্নয়নের স্বার্থে অবিলম্বে তাদের স্বাভাবিক কাজ কর্ম পরিচালনা ও সঠিকভাবে বসবাসের জন্য ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডগুলোর সীমানা পুনর্নির্ধারণ ও নদী ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

উপজেলা প্রশাসনের দাবি, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। যত দ্রুত সম্ভব এ সীমানা জটিলতার বিষয়টির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে