ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, সহায়তা বৃদ্ধির দাবি

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৫ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১২ ১৪২৬,   ২১ শাওয়াল ১৪৪০

ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, সহায়তা বৃদ্ধির দাবি

 প্রকাশিত: ১৯:২৫ ৯ অক্টোবর ২০১৮   আপডেট: ১৯:২৫ ৯ অক্টোবর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মা ইলিশ মাছ রক্ষা করতে সরকার ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। এই সিদ্ধান্তে নোয়াখালীর মেঘনা নদী পাড়ের জেলে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে হতাশা। মাছ ধরতে না পেরে পরিবার পরিজন নিয়ে উদ্বিগ্ন জেলেরা। অন্য কোন আয়ের উৎস না থাকায় জেলে পরিবারগুলো সঙ্কটে পড়েছে। 

নিষেধাজ্ঞা চলাকালিন সময়ে সরকার জেলে পরিবারপ্রতি ২০ কেজি করে চাল সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। জেলেরা বলছেন ২২ দিনের জন্য এই সহায়তা খুবই কম। একটি পরিবারে সর্বনিম্ন পাঁচ জন সদস্য থাকলেও দিনে দুই কেজি করে চাল দরকার পড়ে। জেলেদের অনেকেই অর্ধহারে অনাহারে দিনাতিপাত করছে। 

জেলে সুধন দাস দীর্ঘ ৩০ বছর মেঘনায় ইলিশ মাছ ধরছেন। তিনি বলেন, মূলত সরকার যে সময়ে ইলিশ মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দেয় সেই সময়ের আগেই ইলিশ মাছ ডিম ছাড়ে। ডিম ছাড়ার পরে তারা সাগর, নদীতে এলোমেলো ভাবে ঘুরতে থাকে। এই সময় আমাদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ে। কিন্তু আমাদের দেশে নিষেধাজ্ঞার কারণে মাছগুলো বঙ্গপোসাগর ও নদী হয়ে ভারতের দিকে চলে যায়। সেখানকার জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ রাখছেন না। যে মাছগুলো ওই দিকে যাচ্ছে তা আর ফিরো আসার সুযোগ নেই। ফলে আমাদের নদীতে মাছের আকাল দেখা দেয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ জন্য সুধন দাস নিষেধাজ্ঞার সময় পরিবর্তনেরও দাবি জানান।

হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটের জেলে আবদুল হক বলেন, সারা বছর শেষে যখন নদীতে ইলিশ মাছ ধরা পড়া শুরু হয় তখনই সরকার নিষেধাজ্ঞা দেয়। আবার যখন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় তখন আর নদীতে তেমন ইলিশ থাকে না। ফলে ঋণের বোঝা, পরিবার পরিজনের ভবিষ্যৎ নিয়ে মহা সংকটে পড়েছেন জেলেরা। 

সরকারের ২০ কেজি করে চাল সহায়তাও অনেকে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ অনেক জেলের। তাদের দাবি, জেলার সদর, কোম্পানীগঞ্জ, সুবর্ণচর ও হাতিয়া উপজেলার কয়েক হাজার জেলে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলেও অধিকাংশ জেলে তালিকার বাইরে রয়েছেন। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোতালের হোসেন বলেন, আমি একটি অভিযানে আছি। নোয়াখালীর কতজন জেলে তালিকাভূক্ত আছে তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। তবে একটি জেলে পরিবারের জন্য ২২ দিনে বিশ কেজি চাল যথেষ্ট নয় বলে স্বীকার করেন তিনি। বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য তিনি উপর মহলে জানাবেন বলেও জানান।

ডেইলি বাংলাদেশ/ জেএইচ