ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর ইসলামি আইনশাস্ত্রে অবদান

ঢাকা, বুধবার   ২২ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৭ ১৪২৬,   ১৬ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর ইসলামি আইনশাস্ত্রে অবদান

হাবীবুল্লাহ সিরাজ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:১৯ ১৪ মার্চ ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ইসলামী আইন বা ফিকহশাস্ত্রের শীর্ষ ইমাম হিসেবে দুনিয়াজুড়ে ইমাম আযম আবু হানিফা (রহ.) এর বিশেষ খ্যাতি ও পরিচিতি থাকলেও তিনি ছিলেন একজন বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ, ইসলামী ইনকিলাব ও বিপ্লবের অন্যতম পথিকৃৎ। 

সেই সঙ্গে তিনি ছিলেন একজন শ্রেষ্ঠ হাদীস বিশারদ ও বড় মাপের মুহাদ্দিস। সফল অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী হিসেবে তার কোনো তুলনাই হয় না। তিনি ছিলেন মহা সমাজ সংস্কারক ও একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজ সেবক। সুযোগ্য ছাত্র ও সচেতন, সুদৃঢ় মনোবলসম্পন্ন মানুষ গড়ার শ্রেষ্ঠ প্রশিক্ষক। সর্বোপরি তিনি ছিলেন তৎকালীন সকল আলেম-ওলামা ইসলামী চিন্তাবিদদের মাঝে শীর্ষে।

সর্ব বিষয়ে অপরিসীম ও অতুলনীয় যোগ্যতাসম্পন্ন জ্ঞান-গরিমার অধিকারী ও সমাজ সংস্কারে বিরাট অবদান রাখা সত্তেও ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-কে যুগে যুগে সঙ্কীর্ণ দৃষ্টিতে দেখা হয়েছে। একজন সফল ফিকহ বা ইসলমী আইনশাস্ত্রবিদ হিসেবেই তার পরিচয় আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি। এর মূল কারণ হচ্ছে তার জীবনচরিত্র ও বহুমুখী কর্মধারার যথাযথ পর্যালোচনা, গবেষণা ও অধ্যয়নের অভাব। খোদা প্রদত্ত এমন অসাধারণ বৈশিষ্ট্য, গুণাবলী এবং তুখোড় প্রতিভা সচরাচর অন্য কারো মাঝে পরিলক্ষিত হয়নি, যা ইমাম আযম আবু হানিফা (রহ.) এর ক্ষেত্রে হয়েছে। নিজে বিশাল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করিয়ে ইমাম আবু হানিফ (রহ.) একজন সফল ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদ হিসেবে দৃষ্টান্তমূলক অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছেন। 

বাস্তব ক্ষেত্রে ইসলামী অর্থনীতির সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তিনি বিশ্ববাসীকে অঙ্গুলী নির্দেশ করে ইসলামী অর্থনীতির শ্রেষ্ঠত্বকে প্রমাণ করে গেছেন। সেই সঙ্গে তিনি একথাও প্রমাণ করোছেন যে, ইসলামী অর্থব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। মানব জাতির কল্যাণ ও মুক্তি একমাত্র ইসলামী অর্থ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই সম্ভব। দারিদ্রতা বিমোচনে ইসলামী অর্থ ব্যবস্থাই যে শ্রেষ্ঠ ইমাম আবু হানিফা (রহ.) তা প্রমাণ করেছেন। তিনি যেমন একজন সফল অর্থনীতিবিদ ছিলেন ঠিক তেমনি  ছিলেন একজন সফল রাজনীতিবিদও। ইসলামী আন্দোলনমুখী সকল নেতা-কর্মীদের জন্য তার জীবনের প্রতিটি দিক অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়। 

আমি তা মনে করি, খালেছ ও নির্মল ইসলাম প্রতিষ্ঠার মহান ব্রত নিয়ে যে সব ওলামায়ে কেরাম রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদের সামনে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর রাজনৈতিক চিন্তাধারা এবং তার ইনকিলাবী ও বৈপ্লবিক কর্মসূচির পূর্ণচিত্র একেবারে আয়নার মত পরিষ্কার থাকা এক অপরিহার্য বিষয়। শুধু তারাই বা কেন? বৈপ্লবিক চিন্তাধারা নিয়ে সংগ্রামরত প্রতিটি মানুষের জন্যই এই মহামনীষীর বিপ্লবী জীবনধারা অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়।

ইসলাম প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয় আমাদের অন্তরকেও নাড়া দিয়ে যায়। উদ্দীপনা সৃষ্টি করে এর বাস্তব নমুনা সমাজের প্রতিটি ক্ষেএে রূপায়িত করার এবং আমরাও স্বপ্ন দেখি একটি বাস্তবমূখী আদর্শবাদী ও সম্ভাবনাময়ী আন্দোলনের। আমরা যারাই এমন একটি সফল আন্দোলনের কথা চিন্তা করি, আমাদের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর জীবন চরিত্রের বিশেষত তার রাজনৈতিক জীবনের বাস্তবতা সামনে রেখে পদক্ষেপ নেয়া একান্ত জরুরি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। আমাদের সকলেরই উচিত তার জীবন ও কর্মধারার উপর গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা, পর্যালোচনা-গবেষণা অব্যাহত রাখা। ভবিষ্যত কর্মসূচি ও কর্মপন্থা নির্ণয়ে এ মাহামনীষীর জীবনের বাস্তবতা ইসলামী আন্দোলনের প্রতিটি নেতা-কর্মীদের জন্য একটি গাইড বুক হিসেবে কাজ করবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বস।

কেন ইমাম আবু হানিফা (রহ.) সাবার শীর্ষে?
এখনে একটি প্রশ্ন জাগা অসম্ভব নয় যে, ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর স্থান অন্যান্য ইমাম বা তৎকালীন সকল আলেম-ওলমা, মুহাদ্দিস ও ফুকাহায়ে কেরামের শীর্ষে কেন? কোনো যোগ্যতাবলে তার এই শীর্ষ আসনটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?

এর কারণ হলো, ইসলামী ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে বিশ্ব বুকে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর আবির্ভাব। প্রসিদ্ধ চার মাযহাবের চার ইমামের মাঝে তার বৈশিষ্ট্যের বিশেষ একটি দিক হচ্ছে, তিনি ছিলেন তাবেয়ী। স্বচক্ষে সাহাবায়ে কেরামকে দর্শনের সৌভাগ্য হয়েছিল তার। এছাড়া অন্য তিন ইমামের মধ্যে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ছিলেন বয়স, যুগ, যোগ্যতা ইত্যাদির ক্ষেত্রে সকলের অগ্রগামী। প্রত্যক্ষভাবে অন্যান্য ইমামগণ তার ফয়েযপ্রাপ্ত ছিলেন।

বর্তমানে বিশ্ব বুকে যে চারটি মাযহাব প্রচলিত রয়েছে এবং প্রসিদ্ধি লাভ করেছে সেই চার মাযহাবের প্রবর্তক বা ইমাম হলেন-
১.ইমাম আবু হানিফা (রহ.)
২.ইমাম মালেক (রহ.)
৩.ইমাম শাফেয়ী (রহ.)
৪.ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.)

তাদের চারজনের মাঝে শুধুমাত্র ইমাম মালেক (রহ.)-ই ছিলেন আবু হানিফা (রহ.) এর সমসাময়িক। তিনি ইমাম আবু হানিফ (রহ.) থেকে ১৫ বছরের ছোট ছিলেন। কোনো কোনো ঐতিহাসিকের মতে ইমাম মালেক (রহ.) ছিলেন ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর শাগরিদ। আর তা হতেও পারে, কেন না তার বয়স ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর বয়সের চেয়ে কম ছিল। ইমাম শাফেয়ী (রহ.) ছাত্র ছিলেন ইমাম মালেক (রহ.) এর বয়সের চেয়ে কম ছিল। ইমাম শাফেয়ী (রহ.) ছাত্র ছিলেন ইমাম মালেক (রহ.) এবং ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) এর, এতে কোনো সন্দেহ সংশয় নেই। আর ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) ছাত্র ছিলেন ইমাম শাফেয়ী (রহ.) এর।

উপর্যুক্ত বর্ণনার প্রেক্ষিতে প্রত্যেকের শিক্ষার ধারা ইমাম আবু হানিফা (রহ.) পর্যন্ত পৌঁছে। যা তার শ্রেষ্ঠত্ব ও শীর্ষ আসনে সমাসীন হওয়ার প্রমাণ। আর বয়সের দিক থেকে ইমাম শাফেয়ী (রহ.) ৭০ বছরের ছোট ছিলেন ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর বয়স থেকে। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) ছিলেন ৮৪ বছরের ছোট। তাহলে সেক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ইমাম আবু হানিফ (রহ.) অন্য সকলের শীর্ষে। যেহেতু ইমাম আবু হানিফ (রহ.) ছিলেন খেলাফতে রাশেদার স্বর্ণালী যুগের খুব কছের লোক। আর একথাও সন্দেহতীতভাবে সত্য যে, ইসলামী আদর্শ রাষ্ট্রের সার্বিক দিকগুলো খুবই বিশ্বস্তসূত্রে তার নিকট পৌঁছেছিল, তাই ইসলমী কল্যাণ রাষ্ট্র তথা খেলাফতে রাশেদার পূর্ণাঙ্গ আইডিয়া সর্ম্পকে ওয়াকিফহাল ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর জন্য তার যুগের শাসকবর্গের ক্রটি-বিচ্যুতি ধরিয়ে দেয়া যত সহজ ছিল, অন্য ইমামের জন্য তা ছিল খুবই কঠিন ব্যাপার।

ইমাম আবু হানিফার বিরুদ্ধে অপবাদ:
এতদাসত্তেও অনেকেই ইমাম আবু হানিফা (রহ.) সর্ম্পকে চুঁ-চেরা করছেন। উত্থাপন করছেন তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপবাদ-অভিযোগ। ভাষার মারপ্যাচে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-কে আক্রমন করতে চেষ্টা করছেন বিভিন্নজন। অবশ্য তাদের এই অভিযোগ ও অপবাদ ইমাম আবু হানিফ (রহ.) এর মত মহান ব্যক্তিত্বের সঠিক ও প্রকৃত না থাকার কারণে, একথা নির্দ্বিধায়ই বলা যায়। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর উপর যুগে যুগে উত্থাপিত এই সব অমূলক অভিযোগের খণ্ডন করেছেন হানাফী মাযহাবের ওলামায়ে কেরাম ও তার ভক্ত অনুসারীরা। এ পর্যন্ত ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তার মাঝে সবচেয়ে মারাত্নক  মৌলিক অভিযোগ হলো তিনটি।

এক. ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ছিলেন কালীলুল হাদীস অর্থাৎ তিনি হাদিস খুব কম গ্রহণ করেছেন।

দুই. তিনি ছিলেন  কিয়াস নির্ভর অর্থাৎ নিজের রায় ও অভিমত অনুযায়ী তিনি মাসায়েলের সমস্যার সমাধান বের করার চেষ্টা করেছেন।

তিন. হাদীস ও কোরআন থেকে তিনি কিয়াসকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। মৌলিক এবং মারাত্নক এই তিনটি অভিযোগ ছাড়া আরো অসংখ্য অভিযোগ ছুড়ে মারা হয়েছে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর বিরুদ্ধে। অজ্ঞতাবশত শত্রুতামূলক যে কারণেই হোক, তাদের এইসব ভিত্তিহীন অভিযোগের যুক্তিযুক্ত খণ্ডন সত্তেও দুঃখজনকভাবেই তাদের পক্ষ থেকে কটাক্ষ করা হয়েছে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর মহান ব্যক্তিত্বের উপর। বার বার অপপ্রয়াস চালানো হয়েছে তাকে খাটো করে দেখানোর। চেষ্টা করা হয়েছে তার প্রবর্তিত নীতিমালার অসারতা প্রমাণের। অথচ যুগের চাহিদানুসারে তার এই মহান খেদমতকে আগে বাড়ানো, সর্বত্র এর চর্চা ও প্রচলন ঘটানো এবং প্রচার ও প্রসার করা ছিল এক অপরিহার্য কাজ।

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর কার্যক্রমের পটভূমি:
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) তার এই বৈপ্লবিক কার্যক্রমের সূচনা করেন তৎকালীন খলীফা মানসুরের বিরুদ্ধে দুঃসাহসী প্রোগ্রাম ঘোষণার মাধ্যমে। ১২০ হিজরী থেকে তিনি পূর্ণদ্যোমে এই ইনকিলাবী কর্মসূচির বাস্তবায়নের কাজে হাত দেন। বনু উমায়ের শাসনামলে সূচিত তার এই কাজ পূর্ণতায় আসে আব্বাসিয়া শাসনামলে। ১৫০ হিজরী পর্যন্ত অর্থাৎ মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত সর্ব মোট ৩০ বছর তার কার্যক্রম চালু ছিল। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ইনকিলাবী কর্মসূচির সংক্ষিপ্ত আলোচনা নিম্নে প্রদত্ত হলো।

ইসলামী আইন বা আহকাম সঙ্কলন:
ইসলামী আইন বা আহকাম সংকলনে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর অবদান অবিস্মসণীয়। সকল মুসলমানই তার এই অবদানকে চির কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে থাকে। ইসলামী আহকাম সংকলনে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর অবদান দুই ভাগে বিভক্ত করা যেতে পারে।

ক. আকায়েদ সঙ্কলন:  সর্বপ্রথম ইমাম আবু হানিফা (রহ.) আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আকীদা তথা বিশ্বাসের পূর্ণ ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করে ফিকহুল আকবর গ্রন্থ পুস্তকাকারে লিপিবদ্ধ করেন। এ গ্রন্থে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের সকল ইসলামী আকীদা ও বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফিকহুল আকবরের উল্লেখিত আকীদা ও বিশ্বাসগুলোর সূত্র ধরেই ইমাম তাহাবী (রাহ.) তার আকীদাতুত তাহাবী গ্রন্থ রচনা করেন। আকীদাতুত তাহাবী এমন একটি সর্বজন স্বীকৃত গ্রন্থ, যে গ্রন্থ সর্ম্পকে দ্বিমত পোষণ করেন এমন লোকের সংখ্যা নেই বললেই চলে। এমনকি যাসা নিজেদেরকে পাক্কা আহলে হাদীসের অনুসারী হিসেবে দাবি করেন, তারাও এই অমূল্য গ্রন্থকে নিজেদের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করতে দ্বিধা করেননি। বর্তমানে সৌদী আরবের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ তথা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই কিতাবটি পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

খ. হাদীস সঙ্কল: হাদীস সংঙ্কলনে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর ঐতিহাসিক অবদানকে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। চল্লিশ হাজার হাদীসের বিশাল ভাণ্ডার থেকে যাচাই-বাচাই করে তিনি যে মূল্যবান গ্রন্থটি রচনা করেন তার নাম হল কিতাবুল আছার।

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর আইন সংসদ:
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) প্রথমেই ইসলামী আইনের মৌলিক নীতি ও ধারাগুলোকে একত্রিত করেন। তিনি তার এই কাজকে এককভাবে সম্পাদন করেননি বরং ব্যাপক ভিত্তিতেই সম্পাদিত করেছেন। প্রথমে তিনি বিশেষ বিশেষ তালীম-তরবীয়ত এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সুযোগ্য ছাত্র গড়ে তোলেন। তাদের মধ্য থেকে প্রখর মেধা ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন চল্লিশজনকে নিয়ে একটি আইন সংসদ বা মজলিসে শূরা গঠন করেন। ইতিহাসের ইসলামী আইন সংকলনের জন্য এ জাতীয় সংসদের কোনো নজীর ইতিপূর্বে ছিল না। এখানে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর ঐতিহাসিক আইন সংসদ সম্পর্কে কিছু গুরুত্ব ও বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

আইন সঙ্কলন পদ্ধতি:
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর এই আইন সংসদে ইসলামী বিধি-বিধান এবং তার সকল পরিপার্শ্বিক বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা পর্যালোচনা হত। এখানে প্রত্যেকের নিজস্ব এবং স্বতস্ত্র অভিমত ব্যক্ত করার পূর্ণ অধিকার ছিল। সকলেই নিজ নিজ অভিমত ব্যক্ত করার পর সর্বশেষ অভিমত প্রধান করতেন স্বয়ং ইমাম আবু হানিফা (রহ.)। একেকটি বিষয় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা চলত। এক দিন, দুই দিন, তিন দিন এমনকি জটিল কোনো বিষয় হলে এক মাস, দুই মাস ও বিতর্ক অব্যাহত থাকত। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছার পর যদি এ ব্যাপারে কারো ভিন্ন মত থাকত, তবে তা সঙ্গে সঙ্গে উল্লেখ করে লিপিবদ্ধ করে নেয়া হত।

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর সঙ্কলিত মাসআলার সংখ্যা:
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) তার এই সংসদের মাধ্যমে সর্বমোট আইন সংকলন করেন ৮৩ হাজার। কারো কারো অভিমত অনুযায়ী এর সংখ্যা হলো সর্বমোট পাঁচ লাখ। এই আইন সংসদে সংকলিত সকল বিধি-বিধান এবং মাসআলা মাসায়েলগুলোকে গ্রন্থাকারে যিনি লিপিবদ্ধ করেন, তিনি হলেন ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর সুযোগ্য শাগরিদ ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে

Best Electronics