ইতেকাফ: গুরুত্ব ও মহত্ব
SELECT bn_content_arch.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content_arch.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content_arch.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content_arch INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content_arch.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content_arch.ContentID WHERE bn_content_arch.Deletable=1 AND bn_content_arch.ShowContent=1 AND bn_content_arch.ContentID=40063 LIMIT 1

ঢাকা, শনিবার   ১৫ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ৩১ ১৪২৭,   ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

ইতেকাফ: গুরুত্ব ও মহত্ব

 প্রকাশিত: ১৭:০১ ৬ জুন ২০১৮   আপডেট: ১৩:০২ ৭ জুন ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় রমজান মাসের শেষ দশ দিন অথবা অন্য কোনো দিন পার্থিব কাজকর্ম ও পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ইবাদতের নিয়তে মসজিদ বা ঘরে নামাজের স্থানে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলে।

ইতেকাফ করার মূল উদ্দেশ্য হলো- মসজিদে বসে মহান আল্লাহর আনুগত্য করা। মহান আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ ও সওয়াব অর্জনের আশা করা এবং লাইলাতুল কদর পাওয়ার প্রত্যাশা করা।

প্রতিবছর রমজান মাসের শেষ দশকে রাসূলুল্লাহ (সা.) নিয়মিতভাবে মসজিদে ইতেকাফ করতেন এবং সাহাবায়ে কিরামও ইতেকাফ করতেন। নবী করিম (সা.) ইতেকাফের অনেক বেশি গুরুত্ব দিতেন। এ সময় তিনি উদ্বেল হয়ে যেতেন সর্বদা আমলে থাকতে। কখনো ইতেকাফ ছুটে গেলে পরবর্তীতে আদায় করে নিতেন। ইতেকাফরত অবস্থায় বান্দা নিজেকে মহান আল্লাহর ইবাদতের জন্য দুনিয়ার অন্য সমস্ত কিছু থেকে আলাদা করে নেয়। ঐকান্তিকভাবে মশগুল হয়ে পড়ে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের নিরন্তর সাধনায়। ইতেকাফ ঈমান বৃদ্ধির একটি মুখ্য সুযোগ।

উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.) এর হাদিস সূত্রে জানা যায়, “রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রতি রমজানের শেষ দশ দিন মসজিদে ইতেকাফ করতেন। এ আমল তাঁর ইন্তেকাল পর্যন্ত কায়েম ছিল। নবী করিম (সা.) এর ওফাতের পর তাঁর বিবিগণও এ নিয়ম পালন করেন।’ (বুখারি ও মুসলিম)

হয়রত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, “নবী করিম (সা.) প্রতি রমজান মাসের শেষ ১০ দিন ইতেফাক করতেন। তারপর যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেন, সে বছর ২০ দিন ইতেফাক করেন।” (বুখারি)

রমজান মাসের শেষ দশ দিন ইতেকাফ করা সুন্নত এবং এর ফজিলত অপরিসীম। নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি রমজানের শেষ দশ দিন ইতেকাফ করবে, তার জন্য দুই হজ্ব ও দুই ওমরার সওয়াব রয়েছে।” (বায়হাকি)

ইতেকাফের ফজিলত সম্পর্কে অন্য হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একদিনের ইতেকাফ করল, আল্লাহ পাক তার ও দোজখের মধ্যখানে এমন তিনটি পরিখা তৈরি করে দেবেন, যার একটি থেকে অপরটির দূরত্ব হবে পূর্ব ও পশ্চিমেরও বেশি।” (তিরমিজি ও বায়হাকি)

যে ব্যক্তি ইবাদত মনে করে সওয়াবের নিয়তে ইতেকাফ করে, তার সব সগিরা গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। নবী করিম (সা.) ফরমান, “ইতেকাফকারী ব্যক্তি যাবতীয় পাপ থেকে মুক্ত থাকে আর ইতেকাফে লিপ্ত থাকার জন্য কোনো ব্যক্তি বাইরের কোনো নেক কাজ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকলেও ওই নেক কাজসমূহের পূর্ণ নেকি সে লাভ করবে।” (ইবনে মাজা)

হয়রত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলে করিম (সা.) বলেছেন, “ইতেকাফকারী মূলত গুনাহ থেকে দূরে থাকে এবং তাকে ইতেকাফের বিনিময়ে এত বেশি নেকি দেওয়া হবে যেন সে সব নেকি অর্জনকারী।” (ইবনে মাজা)

ইতেকাফের সর্বনিম্ন সময়সীমা এক রাত বলে হাদিস শরিফে উল্লেখ আছে। তবে ইতেকাফ দীর্ঘ সময় ধরে করা উত্তম, বিশেষত মাহে রমজানের শেষ ১০ দিন ইতেকাফ অবস্থায় থাকায় “লাইলাতুল কদর বা হাজার মাসের শ্রেষ্ঠতম ভাগ্যের রজনী লাভের সৌভাগ্য হতে পারে।

মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে পবিত্র মাহে রমজানে মসজিদে ইতেকাফ করার মাধ্যমে গুনাহের পাপরাশি থেকে বেঁচে থেকে অশেষ নেকি লাভের তাওফীক দান করুন! আমিন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এলকে/আরএজে