ঢাকা, রোববার   ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ১১ ১৪২৫,   ১৮ জমাদিউস সানি ১৪৪০

ইতি হত্যা মামলায় স্বামীসহ গ্রেফতার তিন

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৬:৪৮ ৬ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৭:৫৩ ৬ ডিসেম্বর ২০১৮

ডেইলি বাংলাদেশ

ডেইলি বাংলাদেশ

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি উপজেলায় কলেজ ছাত্রী কামরুন্নাহার ইতি হত্যার ছয় দিন পর বুধবার রাতে মামলা নিয়েছে পুলিশ। নিহতের বাবা আব্দুল কদ্দুস বাদী হয়ে মধুপুর থানায় চারজনকে আসামি করে এ মামলা দায়ের করেন।

অভিযুক্তরা হলেন- ইতির স্বামী আব্দুল জলিল, শ্বশুড় মেছের আলী, শাশুড়ি জহুরা বেগম ও দেবর জুয়েল হোসেন। 

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বাগুয়া গ্রামের আব্দুল কদ্দুসের মেয়ে কামরুন্নাহার ইতির সঙ্গে মধুপুর উপজেলার ভট্রবাড়ী গ্রামের মেছের আলীর পুত্র আব্দুল জলিলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর যৌতুকের জন্য অত্যাচার শুরু হয়। 

এছাড়াও ইতির দেবর জুয়েল হোসেন নামে যৌন হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। পারিবারিকভাবে একাধিকবার সেটি নিয়ে বৈঠক হয়। স্বামী ও শ্বশুড়-শাশুড়ি যৌতুক দাবি ও দেবরের যৌন নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেলে ইতি স্বামীর কর্মস্থল ঢাকায় গিয়ে থাকার প্রস্তাব দেন। 
৩০ নভেম্বর ইতি ঢাকা যাওয়ার জন্য বাসের টিকেট বুকিং দেয়। কিন্তু রাত সাড়ে দশটার সময় ইতির শ্বশুর বাড়ির লোকজন ফোনে জানান ইতি গাছে দড়ি লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। 

ইতির বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজনরা গিয়ে দেখেন যে ইতিকে জামগাছ তলায় ওড়না দিয়ে ঢেকে শুইয়ে রাখা হয়েছে। গলায় কোনো ফাঁসের দাগ নেই। তবে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ের চিহ্ন রয়েছে। খুনের সুস্পষ্ট আলামত থাকা সত্ত্বেও ময়না তদন্ত রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত মধুপুর থানা পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকার করে। 

পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পুলিশ  বুধবার রাতে খুনের মামলা নেয়। পরে হত্যার অভিযোগে স্বামী, দেবর ও শ্বশুড়-শাশুড়িকে বুধবার রাতেই আটক করে পুলিশ। 

মধুপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, হত্যা মামলায় ইতি হত্যা মামলায় শ্বশুর, শাশুড়ী, স্বামী ও দেবরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

ইতি টাঙ্গাইলের গোপালপুর সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সম্মান দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে  সোমবার গোপালপুর কলেজ প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেন ইতির শিক্ষক ও সহপাঠিরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস