.ঢাকা, শুক্রবার   ২২ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৮ ১৪২৫,   ১৫ রজব ১৪৪০

ইতিহাসকে হার মানা লড়াকু সৈনিক!

খালিদ মাহমুদ খান

 প্রকাশিত: ১৪:১২ ১২ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৪:১২ ১২ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মুঠো ভরা অজুহাত নিয়েই থেমে আছে মানুষ। হবে না, পারবো না, সম্ভব না এসবের মাঝেই মানুষ হারিয়ে ফেলেছে নিজের সত্তা। কী হতো যদি টমাস আলভা এডিসন এক হাজার বার ব্যর্থ হওয়ার পর হাল ছেড়ে দিতেন, তাহলে হয়তো আমরা কখনো ইলেকট্রিক বাল্বের মুখ দেখতে পেতাম না। কিন্তু তিনি এতবার ব্যর্থ হওয়ার পর একবার শেষ চেষ্টা করেছিলেন আর আজ তারই জন্যই পৃথিবীতে আলোর অভাব নেই।

সমস্ত ইন্টারভিউ থেকে রিজেক্ট হয়ে যাওয়ার পর জ্যাক মা যদি নিজে কখনো তার দ্বারা কিছু হবে না ভেবে হাল ছেড়ে দিতেন, যদি আর নতুন করে কিছু করার চেষ্টা না করতেন তাহলে তিনি কোনোদিনও না হতে পারতেন চায়নার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি, না হতে পারতেন বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রিটেইলার আলিবাবার মালিক। চারিদিক থেকে যতই প্রতিকূলতা আসুক না কেন যদি সামনের লক্ষ্য ঠিক থাকে তাহলে সকলেই যেকোনো সমস্যা উতরে যেতে সক্ষম।

কেমন লাগবে যদি কাউকে তার নিজের পরিশ্রম ও মেধা দ্বারা দাঁড়ানো কোম্পানি থেকে তাকেই তাড়িয়ে দেয়া হয়? অদ্ভুত লাগার মতো হলেও সেটাই হয়েছিল স্টিভ জবস এর ক্ষেত্রে। তার নিজের কোম্পানি অ্যাপল থেকে তাকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছু মানুষ থাকে যারা কখনো থেমে থাকার জন্য জন্মায়নি। আর স্টিভ জবস সেই ধাঁচের মানুষ। নিজের কোম্পানি থেকে বিতাড়িত হওয়াটা ছিলো চরম অপমানের একটি বিষয়।কিন্তু জবস ছিলেন একনিষ্ঠ এবং পরিশ্রমী যিনি কখনো হাল ছেড়ে দিতে শেখেননি। বিতাড়িত হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই তিনি তৈরি করেন পিক্সার এনিমেশন স্টুডিওস। আর যে স্টুডিওটা সংগ্রহ করেছে একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস, গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডস, গ্রামি অ্যাওয়ার্ডসসহ আরো অনেক পুরষ্কার।

দেখতে সুন্দর নয়,উচ্চতায় ছিলেন খাটো কিন্তু স্বপ্ন ছিল একদিন তিনি নায়ক হবেন। বন্ধুবান্ধবরা তার চেহারা নিয়ে যত না ঠাট্টা করতো তার চেয়ে বেশি ঠাট্টা করত তার এই আজব ইচ্ছাকে। বলিউডের কত পরিচালক যে তাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তার হিসেব নেই। কিন্তু তিনি এটা ভাবতেই পারতেন যে সবাই যখন বলছে তখন মনে হয় তিনি সত্যিই ফিল্ম অ্যাক্টর হতে পারবেন না কিন্তু তিনি অন্য সবার মতো ছিলেন না, তিনি হাল ছাড়েননি। আর তাই তার একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা তাকে ২০১২ সালে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার সম্মান এনে দিয়েছে। হ্যাঁ, এটাই নওয়াজউদ্দীন সিদ্দীকির অভিনেতা হয়ে উঠার পেছনের কথা।

মরে গিয়ে কি কখনোই বেঁচে ওঠা যায় না। কিন্তু সেটাও সম্ভব করে দেখিয়েছিলেন একজন মানুষ। ইনি হ্যাল এলরড। এই অদম্য ইচ্ছাশক্তির অধিকারী ব্যক্তিটিকে ডাক্তাররা বলেছিলেন তিনি আর কখনো সোজা হয়ে উঠে দাঁড়াতে পারবেন না কিন্তু অদম্য ইচ্ছে থাকলে সেই মানুষটিই আল্ট্রা ম্যারাথন চ্যাম্পিয়ন হয়। এটাই আপ্রাণ চেষ্টার ফলাফল যেটি এসেছে শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার মানসিকতা থেকে।

যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ তম প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন কে আমরা কে ই বা চিনি না। এইনমানুষটির জীবনী পড়লে পাওয়া যায় শুধু পরাজয়ের গল্প, হারানোর গল্প। এমনকি তিনি পরপর আটবার নির্বাচনে হেরেছেন কিন্তু তবুও থেমে থাকেননি চেষ্টা ছাড়েন নি। নয়তো তিনি কখনো যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সফল প্রেসিডেন্ট হতে পারতেন না। তিনি হেরেছেন, ভেঙে পড়েছেন, কিন্তু আবারো উঠে দাড়িয়েছেন। এক মুহুর্তের জন্যও হাল ছাড়েননি।

বয়স যে কোনো বাঁধা হতে পারে না সেটা দেখিয়েছেন বিল গেটস। মাত্র সতেরো বছর বয়সে যখন ছেলেরা তাদের লক্ষ্যই স্থির করতে পারে না শৈশবের আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে থাকে ঠিক সেই বয়সেই তিনি শুরু করেছিলেন তার প্রথম কোম্পানির যাত্রা। এরপর থেকে শুরু হয় উত্থানপতন। তার জীবনে এমনো দিন এসেছে যখন মাইক্রোসফ্ট প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে এমন শঙ্কা নিয়ে তাকে থাকতে হয়েছিলো। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। তারপর এভবেই একদিন তিনি হয়ে গেলেন পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। কথাটা শুনতে অনেক সহজ ও সাদামাটা মনে হলেও কাজটা ছিল নিঃসন্দেহে অনেক দুঃসাধ্য।

ফোর্ড গাড়ির সঙ্গে আমরা কমবেশি সঙ্গে পরিচিত। এই ফোর্ড কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন হেনরী ফোর্ড। যখন তার বয়স ৪০ ততদিনে তিনি দু’বার ব্যর্থ হয়ে গেছেন। এমনো অবস্থায় পড়তে হয়েছে যে কোম্পানির লোন পরিশোধ না করতে পারার জন্য তার কোম্পানি বন্ধই করে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এত কিছুর পরও তিনি আরো একবার শেষ চেষ্টা করেছিলেন আর পেয়েছিলেন শীর্ষ সাফল্য।

 

গুজরাটের মোহসেনা গ্রামের দরিদ্র এক পরিবারের ছেলে যে একদিন বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন সেটা কল্পনা করাও কঠিন। তারপর যখন সেই মানুষটি চা বিক্রি করে নিজের কষ্টের অর্থ দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন তখন কি এইরূপ সাধারণ কোনো মানুষের পক্ষে এমন বৃহৎ একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার চিন্তা করা স্বাভাবিক। অবশ্যই না, কিন্তু ঠিক এই ছোট্ট না কথাটিকেই হ্যাঁ করে দেখিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। প্রবল ইচ্ছাশক্তি, মেধা, পরিশ্রম ও লড়াকু মানসিকতাই তাকে বসিয়েছে এই সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ জায়গায়।

সত্যিকার অর্থে সফলতা আমাদের খুব কাছেই থাকে কিন্তু আমরা সেটার কাছে পৌঁছাতে পারি না কারণ আমরা স্বভাবতই তার আগেই হাল ছেড়ে দেই। তাই হাল ছেড়ে দেয়ার আগে অন্তত আর একবারের জন্য হলেও আমাদের চেষ্টা করে দেখা উচিত। আর এই চেষ্টাই সাধারণ মানুষকে বানিয়েছে অসাধারণ এবং সম্মানিত।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস