ইতালিতে দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনা, আতঙ্কে ইউরোপ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০২ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২০ ১৪২৬,   ০৯ শা'বান ১৪৪১

Akash

ইতালিতে দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনা, আতঙ্কে ইউরোপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৪৭ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৪:০৭ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ইউরোপে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে ইতালি

ইউরোপে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে ইতালি

করোনাভাইরাসের মারাত্মক প্রকোপ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আন্তর্জাতিকভাবে নানা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পরও ইতালিতে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৪০০ জনে দাঁড়িয়েছে।

বিবিসি’র তথ্যানুযায়ী, পুরো ইউরোপে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইতালি। এই দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২৫% বৃদ্ধি পেয়েছে।

বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ ইতালিতে নতুনভাবে এই ভাইরাসের সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। 

জানা গেছে, করোনাভাইরাসে ইতালিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে দেশটির উত্তরের শিল্পাঞ্চল শহর মিলানের আশেপাশের এলাকা। যদিও লম্বার্ডি এবং ভেনিসের কাছে ভেনেটো শহরেও ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে মারা গেছেন ১২ জন। আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ৪০০ জন। 

দেশটির সরকার সংক্রমণ ঠেকাতে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও সিনেমা হল বন্ধ ঘোষণা করেছে। সেইসঙ্গে বাতিল করা হয়েছে অসংখ্য অনুষ্ঠান। মোটকথা যেখানে জনসমাগম হওয়ার কথা ছিল, সেসব বাতিল বা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

সংক্রমিত এলাকায় রয়েছে ১১টি শহর। এসব শহরের ৫৫ হাজার মানুষকে কোয়ারেনটাইন করে রাখা হয়েছে।

আশঙ্কা রয়েছে যে এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে ইতালি অর্থনৈতিক মন্দার মুখে পড়তে পারে। কেননা এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ইতালির সব শহরে। রাতের মিলান যেখানে সবচেয়ে জমজমাট থাকে, সেই মিলানই রাত নামতেই হয়ে যায় সুনসান। জনসমাগম হয় এমন এলাকা এড়িয়ে চলছেন শহরটির মানুষ।

এ বিষয়ে মিলানে বিবিসির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শহরের ক্যাফেগুলো জনশূন্য থাকায় এবং অনেক হোটেলের বুকিং বাতিল হয়ে যাওয়ার কারণে এমনটা আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইউরোপের স্বাস্থ্য কমিশনার স্টেলা কিরিয়াকাইডস, রোমে ইতালির স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পরে সাংবাদিকদের বলেন: এই ভাইরাসটি সম্পর্কে এখনো অনেক বিষয় অজানা রয়ে গেছে। বিশেষত এর উৎস এবং এটি কীভাবে ছড়িয়েছে সে বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি। যদিও এটি উদ্বেগজনক একটি পরিস্থিতি, তবে আমাদের অবশ্যই আতঙ্কিত হয়ে হাল ছেড়ে দেয়া ঠিক হবে না।

গত দুদিনে ইউরোপের আরো কয়েকটি দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া গেছে। এগুলো হলো অস্ট্রিয়া, ক্রোয়েশিয়া, গ্রিস, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, জর্জিয়া ও উত্তর মেসিডোনিয়া। এসব দেশে যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে তাদের বেশিরভাগই ইতালি ভ্রমণ করেছিলেন। ফলে ইউরোপে ইতালি ভ্রমণের বিষয়ে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সতর্ক রয়েছে সবগুলো দেশ।

এদিকে, বুধবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, প্রথমবারের মতো ভাইরাসটি চীনের বাইরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভাইরাসের উদ্ভব হয়েছে চীন থেকেই। তবে চাইলে এখনো এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কেননা এই ভাইরাসের সংক্রমণ যে বিশ্বব্যাপী মহামারী আকার নেবে সেটাও অনিবার্য নয়।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্র ধীরে ধীরে চীন থেকে সরে পুরো বিশ্বে এসে দাঁড়িয়েছে, বিশেষত ইউরোপে। এই পরিস্থিতিতে খারাপ সংবাদের মতো মনে হলেও এর ইতিবাচক দিকও রয়েছে। ভাইরাসটিতে আক্রান্তের সংখ্যার দিকে চীনের অবস্থান শীর্ষে হলেও প্রতিদিন নতুন আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসছে।

এটি ইঙ্গিত করে যে, ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে দেশটির লোকজনকে বাড়িতে থাকার যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, জনসমাগমস্থলে না যেতে এবং ভ্রমণে যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, সেই প্রচেষ্টা কাজে এসেছে।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ/টিআরএইচ