.ঢাকা, শুক্রবার   ১৯ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৫ ১৪২৬,   ১৩ শা'বান ১৪৪০

ইটভাটার যানবাহন গিলছে গ্রামীণ সড়ক!

ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ০৯:৫৫ ৯ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৭:৩৭ ৯ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

যশোরের ঝিকরগাছায় ইটভাটার যানবাহনে গিলছে গ্রামীণ রাস্তাঘাট। গোটা উপজেলার রাস্তাঘাট ইটভাটার যানবাহনের কারণে সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। ভাটার ফিটনেসবিহীন যানবাহনের কালোধোঁয়া ও ফসলী জমির উর্বরমাটি পুড়িয়ে ইট তৈরিতে পরিবেশও হুমকির মুখে পড়ছে।

সরেজমিনে দেখাগেছে, উপজেলার অধিকাংশ ইটভাটা পরিবেশ অধিদফতরের নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ইটভাটা জনবসতি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ফসলী জমি ও এলজিইডির সড়কের পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে। 

প্রতিটি ইটভাটার রয়েছে অনন্ত ৫০ টি করে বিভিন্ন প্রকার যানবাহন। অভিযোগ উঠেছে এসব যানবাহনের একদিকে যেমন ফিটনেস নেই, অপরদিকে চালকরা অদক্ষ। ফলে ইটভাটার যানবাহনে শুধু সড়কই নষ্ট হচ্ছে না দুর্ঘটনার আশংকায় থাকেন সংশ্লিষ্ঠ এলাকাবাসী।

উপজেলার বল্লা-উলাশী, শিওরদাহ-গদখালী, শিওরদাহ-দিঘড়ি, বাঁকড়া-হাড়িখালী, বাঁকড়া-বাগআঁচড়া, বেনেয়ালী-শিমুলিয়া, বোধখানা-মধুখালী, বায়সা-নাভারণ ও ঝিকরগাছা-ছুটিপুর সড়কের মহম্মদপুর এলাকার ছোটবড় সব সড়ক ইটভাটার যানবহনের দখলে। এজন্য শুষ্ক মৌসুমে ধুলোয় আচ্ছন্ন আর বর্ষাকালে এসব পাকা সড়ক হয় হাটুকাদা। 

উপজেলার বল্লা গ্রামের গৃহবধূ রেহেনা খাতুন বলেন, ভাটার ট্রাকের জন্যে মনে হয় সড়কের পাশের বাড়িঘর ফেলে অন্যত্র চলে যায়। 

বায়সা চাদপুর দাখিল মাদরাসার শিক্ষক হারুন অর-রশীদ বলেন, ভাটার যানবাহনের কারণে রাস্তায় চলাচল করা কষ্ট হচ্ছে। এসব যানবাহনের চালকরা অদক্ষ ও অশালীন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। 

নন্দীডুমুরিয়া গ্রামের জিয়াদ আলী বলেন, ইটভাটার কারণে ফসলী জমি কমে যাচ্ছে। প্রতিবছর ভাটার পরিধি বাড়ছে, পুড়ে ইট হচ্ছে উর্বরজমির মাটি। উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার শ্যামল কুমার বসু অভিযোগ করেন, ইটভাটার যানবাহনের কারণে উপজেলার সকল গ্রামীণ সড়কগুলো বেহাল অবস্থা। যানবাহন উঠা-নামানোর জন্য ইচ্ছে মতো সড়কের পাড় কাটা হচ্ছে। 

মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার আগেই রাস্তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রীতিমতো সংস্কারের পরও তা স্বাভাবিক রাখা যাচ্ছে না। এবিষয় ইউএনও জাহিদুল ইসলাম বলেন, জনভোগান্তি হয় এমন কাজ করতে দেওয়া হবে না। নির্র্বাচনের কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান কিছুদিন বন্ধ রাখা হয়েছিলো। দুই একদিনের ভেতরে আবারো অভিযান চালানো হবে। অবশ্যই ইটভাটা মালিকদেরকে আইনের ভেতরে থেকেই কাজ করতে হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে