Alexa ইঞ্জুরি ও ফিটনেস সমস্যা প্রভাব পরেছে মাঠে 

ঢাকা, সোমবার   ২২ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৭ ১৪২৬,   ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪০

প্রত্যাশা-প্রাপ্তির বিশ্বকাপ, পর্ব ৪ (ইঞ্জুরি ও ফিটনেস)

ইঞ্জুরি ও ফিটনেস সমস্যা প্রভাব পরেছে মাঠে 

আসাদুজ্জামান লিটন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৩২ ১২ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১৯:৩২ ১২ জুলাই ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

এবারের ক্রিকেট বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশী ক্রিকেটার ও সমর্থক সবারই স্বপ্ন ছিল কমপক্ষে সেমিফাইনাল খেলা। অভিজ্ঞতা, দল সহ বিভিন্ন কারণে এই চাওয়া অমূলক মনে হয়নি কারও কাছেই। তবে বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব শেষে এ মিশন যেনো ব্যর্থতাই চোখে পড়ছে বেশি। ১০ দলের বিশ্বকাপে সেরা চারের লক্ষ্যে থাকা দল টুর্নামেন্ট শেষ করছে অষ্টম স্থানে থেকে, এটি মানতেই যেনো বেশি কষ্ট হচ্ছে সমর্থকদের।

কিন্ত কেনো এমন হতাশাজনক পারফরমেন্স? কি হতে পারে এর পেছনের কারণ? বিশ্বকাপের ঠিক আগে ট্রাইনেশন সিরিজে চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলের কেনো এ অবস্থা? এর উত্তর খোঁজার চেষ্টা শেষে কয়েকটি কারণ পাওয়া গিয়েছে। যার তৃতীয় পর্বে থাকছে ইঞ্জুরি ও ফিটনেস সংক্রান্ত কারণ। 

বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশ দলের মোটামুটি ৮ জন ক্রিকেটার হালকা চোট নিয়ে খেলেছেন। এর ভেতর রয়েছে পঞ্চপান্ডবের প্রত্যেকেই! 

বাংলাদেশ দলের নিউক্লিয়াস বলা হয় পঞ্চপান্ডবকে। কিন্ত নিউক্লিয়াসই পূর্ণ সুস্থ না থাকলে শরীর ঠিকভাবে চলবে কিভাবে? ঠিক এটাই হয়েছে বাংলাদেশের সঙ্গে। মাশরাফীর ব্যাপারে যে কেউই জানেন। এশিয়া কাপে আঙ্গুল ফ্র্যাকচারের পর তামিম ইকবালও পরিপূর্ণ ফিট ছিলেন না। মুশি খেলেছেন পাজরের ব্যথা নিয়ে।

রিয়াদ বিশ্বকাপে ইঞ্জুরির কারণে এক ম্যাচ খেলতেই পারেননি। কাধের ইঞ্জুরিতে বল করেননি এক ম্যাচেও। আর সাকিবও এশিয়া কাপের পর আঙ্গুল পুনর্বাসন শেষে বিশ্বকাপের আগে নিয়মিত ম্যাচ খেলার মাঝে ছিলেন না। 

এছাড়া জুনিয়রদের মাঝে সাইফ, মোসাদ্দেক ও মুস্তাফিজ ছিলেন ইঞ্জুরি আক্রান্ত। সাইফ তো বিশ্বকাপের আগে থেকেই হাত ও পিঠের ব্যথা নিয়ে খেলছেন। লং থ্রোয়িংয়ে সমস্যার কারণে ত্রিশ গজের বাইরেও খুব বেশি ফিল্ডিং করতে দেখা যায়নি তাকে। বিশ্বকাপের আগে আগে হালকা চোটে পড়েন মুস্তাফিজ। মোসাদ্দেকও বিশ্বকাপের আগের বছর পুরোটাই চোখের ইঞ্জুরিতে দলে ছিলেন না। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালের আগে ছিলেন না তেমন ছন্দেও। 

এসব কারণের সঙ্গে ছিল ফিটনেসে কমতি। যা লক্ষ্য করা গিয়েছে দলের অধিকাংশ ক্রিকেটারের মাঝে। 

ক্রিকেট দলীয় খেলা। মাঝে মধ্যে একক নৈপুণ্যে ম্যাচ জেতা গেলেও বড় টুর্নামেন্টে সাফল্যের পূর্বশর্ত দলীয় প্রচেষ্টা। দলের সবাই একসাথে পারফর্ম করলে সেই দলকে আটকানো কঠিন হয়ে পড়ে অন্য দলগুলোর জন্য।

কিন্ত মোটামুটি মূল একাদশের এতোজন চোটের মাঝে থাকায় স্বাভাবিকভাবেই সেটির প্রভাব পড়েছে মাঠে। বড় ইনিংস, দুর্দান্ত স্পেল বা অসাধারণ ফিল্ডিং টুর্নামেন্ট জুড়ে বাংলাদেশের ২-৩ জন ছাড়া কারো কাছ থেকেই দেখা যায়নি। ফলাফল হিসেবে এমন হতাশাজনক পারফরমেন্স। 

ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে খেলোয়াড়দের ইঞ্জুরি ও ফিটনেসের ব্যাপারে সচেতন থাকবে বিসিবি এটাই এখন প্রত্যাশা। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এএল/সালি