ইঞ্জিনে বাচ্চা দিলো শালিক, বড় না হওয়া পর্যন্ত চলবে না ট্রেন

ঢাকা, শনিবার   ১১ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ২৭ ১৪২৭,   ১৯ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

ইঞ্জিনে বাচ্চা দিলো শালিক, বড় না হওয়া পর্যন্ত চলবে না ট্রেন

দিনাজপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৪৫ ১৬ মে ২০২০   আপডেট: ১২:২২ ১৭ মে ২০২০

করোনাভাইরাসের এই সংকটময় সময়ে চারদিকে যখন মৃত্যু নিয়ে শঙ্কা ও উদ্বিগ্নতা ঠিক সেই সময়ে এক স্বস্তির ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশের পার্বতীপুর রেলওয়ে জংশনের লোকোশেডে।

প্রায় দুই মাস ধরে করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ আছে রেল চলাচল। ফলে রেলের ইঞ্জিনগুলো পড়ে আছে বিভিন্ন লোকশেডে। তেমনি রেলওয়ের ৬৫ সিরিজের ০৭ নম্বর ইঞ্জিনিটি রাখা ছিল পার্বতীপুর লোকশেডে। দীর্ঘদিন ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার কারণে ট্রেনের ইঞ্জিনের মধ্যে বাসা বাঁধে এক জোড়া শালিক। এছাড়াও শালিকের ডিম থেকে দুটি বাচ্চা জন্ম নেয়।

বৃহস্পতিবার পার্বতীপুরে পঞ্চগড় অভিমুখী পণ্যবাহী পার্সেল স্পেশাল ট্রেনের ইঞ্জিন পরিবর্তন করার সময় ওই ইঞ্জিনটিকে বাছাই করে চালু করার চেষ্টা করা হয়। এসময় কর্মকর্তাদের চোখ যায় ইঞ্জিনের মধ্যে একটি ফাঁকা জায়গায়। যেখানে মা শালিক তার ছানাগুলোকে বুকের মধ্যে আগলে বসে আছে। মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে উড়ে যায় মা শালিক।

ইঞ্জিন চালু করা হলে পাখির ছানা দুটি মারা যেতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে বিষয়টি জানানো হয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। পরবর্তীতে পার্বতীপুর লোকশেডের ইনচার্জ ছানাগুলো উড়তে শেখা না পর্যন্ত এ ইঞ্জিন চালানো কিংবা কোনো প্রকার মেরামত না করার নির্দেশনা দেন। পরে অন্য একটি ইঞ্জিন দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয় ট্রেনটিকে।

এ প্রসঙ্গে পার্বতীপুর লোকশেডের ইনচার্জ কাফিউল ইসলাম বলেন, পাখির ছানাগুলোর কিচির মিচির আর্তনাদ তার হৃদয়ে আঘাত করে, তারা হয়ত বাঁচার জন্যই কান্নাকাটি করছিল তাই তাদের প্রতি মায়া থেকে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ছানারা বড় হয়ে মুক্ত আকাশে নিরাপদে ডানা মেলবে সেই প্রত্যাশা এই রেল কর্মকর্তার।

বর্তমানে ছানাগুলোর যত্ন নিচ্ছেন তিনি। ছানাগুলোর যাতে সমস্যা না হয় সব সময় খেয়াল রাখছেন কাফিউল। বাচ্চাগুলো যেন কোনো হিংস্রপ্রাণীর শিকার না হয় তাই ইঞ্জিনটিতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচএফ