Exim Bank
ঢাকা, বুধবার ২০ জুন, ২০১৮
Advertisement

ইচ্ছেরা থেকে যায়

 রায়হান উল্লাহ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫২, ১৩ জুন ২০১৮

৮২ বার পঠিত

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

এমন হয়েছে কি, আপনি ভাবনাদের বাস্তবায়নের জন্য বসে আছেন। ঠিক এই মুহূর্তে সবকিছু বিলিয়ে দেবেন। কিন্তু ঠিক তা করা যাচ্ছে না। সময় মনমতো ধরা দিচ্ছে না। এভাবেই ভাবনাদের বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

এমনি বেলায় আক্ষেপ দুবেলাতেই। আপনি মনোকষ্টে ভুগছেন কেন ভাবনারা ফসল পেল না। অপরপক্ষ না জেনেই উপকার থেকে বঞ্চিত হলো। সর্বোপরি বঞ্চিত হলো সময়। সুখের ঘর করা হলো না। 

এভাবেই ইচ্ছেরা থেকে যায়। উড়ে যায় ভাবনা ছুঁয়ে। ইচ্ছেরা এভাবেই বয়। আমরা সময়কে ধরে এগিয়ে চলি সময়ে। ব্রহ্মাণ্ডে তরঙ্গ থেকে যায়। সময় ধরে রাখে সময়কে। জীবনের পেণ্ডুলামে। 

এই কি সময়ের চিত্র? আশা-নিরাশার মানবীয় বেলা। অনেক অনেক। তার মাঝেই ভাবনারা উড়ে। একজন হাসেম আলী বসে থাকেন রাখালের খাবার নিয়ে লাহুর প্রান্তরে। রাখালকে পাওয়া যায় না। রাখাল এখানে মিথ্যাবাদী। বাঘ এল বলে- খেলায় নয়, পড়শীর ভাবনার খেলায়। খালের সীমানায় সপাং সপাং ‘ডাগ্গা’র গতিরেখায়; চোখের ঝাপাঝাপিতে। বাহান্ন তাস নয়, রাংতায় মোড়া যুগের অসুখের তাসে সুখ নিয়ে।

এদিকে গৃহস্থের ভাবনারা ডালপালা মেলে না। তার ইচ্ছেরা রাগ ঝাড়ে। রাখালও লাপাত্তা। ব্যক্ত হয় না ভাবনারা। ইচ্ছেরা মায়া হয়ে তানপুরায় সুর তোলে। শেষটায় তানপুরার সুর বলে রুটিন কাজ দুজনেই করছেন। মায়াময় সংসারে।

এভাবেই চলছে সময় তিতাস ছুঁয়ে টেমস সীমানায়। বিশ্বময় ইচ্ছেরা উড়ে যাচ্ছে। ফার্মগেটে বোরখা পড়া রমণী ইচ্ছেদের উড়িয়ে দিচ্ছেন। শাহবাগে উপজাতি যুবকটি ইচ্ছেদের ব্যানার বানিয়ে সন্ত্রাসের শিকার হন। বন্দুকের নল খোঁজে মানুষ। রক্তক্ষরণ হয় সময়ের, ইচ্ছেদের। একজন ভালো মানুষ ঘরে ফিরেন না। তার বিভৎস দেহ ইচ্ছেদের সঙ্গে ঘর করে। রাষ্ট্র তাকে পর করে। এভাবেই উড়ে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বিশ্বময়। টেক্সাসের শিশুটির ছিন্ন দেহ ইচ্ছে হয়ে উড়ে। চে’র ইচ্ছে উড়ে বলিভিয়ার জঙ্গলে। ইচ্ছেরা চে হয়ে বয় সময়ে। সালমান খুঁজেন ট্রাম্পকে। ক্ষমতার মোহের ইচ্ছেয়। কিম বলেন ট্রাম্প দুষ্টু। ট্রাম্প দেখেন মেলানিয়ার গতিবিধি। পর্নো তারকা দেখেন ট্রাম্পের ডলার। ডলার ছুঁয়ে মানুষ দেখেন পাকস্থলীর আকার। তবুও রাত নামে নাগরিক খেয়ালে। তুমিময় হয়ে উঠে বোধের সংসার। ইচ্ছেরা তোমার হয়ে উড়ে যায়। লিকুইড ক্রিস্টাল ডিসপ্লেতে হয় ভাবের নাড়াচাড়া। 

নাগরিক সময়ে বিপ্লব সুর তোলে নিউটনের সূত্র হয়ে; নাগরিক শাবলে। কাস্তে হয়ে চলনের মাঠে। কোদাল হয়ে পুবের জমিতে। ধানের চারা হয়ে লাহুরের মাঠে। বীজের ইচ্ছেরা যায় ফসলের মাঠে। কৃষকের গোলায়। গৃহিনীর পাতিলে। রহিমের থালায়। ভাতের মাঝে মা’র আদল খুঁজেন জনৈক শিক্ষক। মাঝে মাঝে সাজে পেয়েও যান। তাকে ইচ্ছে বিলিয়ে সুখ দেন। নিজেও নেন। মা ছুঁয়ে ভাবনারা জনৈকা বৃদ্ধায়। গোগ্রাসে চলে উদরপূর্তি। ধোয়া ইচ্ছে হয়ে উড়ে গরম ভাতে। সাদার শুভ্রতায়। 

এভাবেই ভাবনারা উড়ে যায়। আমরা সামাজিক হয়ে যাই। প্রাণ ছুটে চলে প্রাণে। তার তরে আপনি সব নিয়ে বসে থাকেন। সে আসে না। ভাবনার ইচ্ছে রূপ নেয় না। বেগাগের সুর বাজে সানাইয়ে। তবুও আপনিই তার। হয়তো সেতুবন্ধন চলে, আশা-নিরাশার। দুটিই যে যুগলবন্দি।

ভাবনারা যুগল। আপনি ভাববেন। বিষয় জরুরি। যুগল হবেই। এ থেকে কথোপকথন, একান্তে। এভাবেই সৃষ্টির শুরু থেকে প্রাণ প্রত্যেকের তরে ভাবনাদের ছড়িয়ে দেয়। সব সময়ে ভাবনারা গাঁথা হয়।

গাঁথা বলে সৃষ্টির ইতিহাস। এ ইতিহাস সীমাহীন। তাতে যেমন থাকে চাকা, আগুন ও গতির আবিষ্কার- তেমনি থাকে জলের গতিরেখা। এভাবেই বিশ্বসভ্যতা নিয়ে ভাবনারা দোল খায়, ইচ্ছেদের সংসারে ভাঙাগড়া চলে। ইচ্ছেরা হিরোসিমা হয়, নাগাসাকির পুড়ে যাওয়া বৃদ্ধা-শিশু হয়। সময় ও সভ্যতা ধরে ডু মারে বেওয়ারিশ লাশে। কখনো ডোমের ছুরিতে।

তবুও প্রাণ প্রাণের তরে জ্ঞান হয়ে বয়। তাল লয় ধরে সামাজিক সুখের ভাবনারা সময়ে ছড়িয়ে যায়। সময় বলে সংগ্রামে পারস্পরিক হতে হয়। পারস্পরিক ও ভাবনার কিন্তু অর্থের বন্ধুত্ব। তাইতো দুর্যোগ আসে না। যদিও আসতে চায়; ইশারায় ভাবনারা দোল খায়। বাঁশির সুর হয়ে প্রান্তরে ছড়িয়ে পড়ে, বাঁশুরিয়ার ইচ্ছা হয়ে সুরেলা সময়ে। জাগতির দুষ্টরা বিলীন হয়। ইচ্ছেরা ঘর করে। মাঝে সাজে পরও করে। একজন উল্লাসকর বাংলার সবুজ জমিনে ফসলের আকাঙ্ক্ষা হয়ে আসে। কখনো বা কৃষকের গলার ফাঁস হয়। কখনো গৃহিনীর চুড়ির রিনিঝিনি হয়। তবুও ইচ্ছা হয়, ইচ্ছার জয়।

এসবের মাঝেই সময়ের সুর জানান দেয়- বৈরিতায় সুখের গল্প। শুরু ও শেষের আদ্যোপান্ত। এ আদ্যোপান্তে যেমন থাকেন আদিম মানুষটি- তেমনই থাকে মায়ের গর্ভের শিশুটি। যেমন থাকেন মসজিদের ইমাম- তেমনই থাকেন মন্দিরের পুরোহিত। তারা মিলেমিশে ইচ্ছের সুর হয়। যুগল বাদ্যে ঝংকার উঠে। ভাবনাদের লেনদেনে তারা মানুষ হয়। 

এমন লেনদেনে মাটির ঝাঁপি মাথা ছোঁয় পারস্পরিক। গ্রামের পড়শি কবর খুঁড়ে মৃত্যুর। একজন চুনু মিয়া সব দিয়ে দেন মুসাফিরকে, বৈশ্বিক মুসাফির সে নিজে, জেনেও। ইচ্ছে বলে কথা। চুনু মিয়া এখন পরপারে। ইচ্ছেরা রয়ে যায়।

ইচ্ছা বলে কবি হতে চান ইতিহাস। মেলবন্ধনে না থেকে ইচ্ছেদের মেলবন্ধন গড়েন সময়ে। ভাষার নৌকা সাজান। ইচ্ছেদের চিতায় শবনৃত্যের সঙ্গে ছল করেন। উৎসনগরে ইচ্ছেদের উৎসব করে জানান দেন- ইচ্ছেরা থেকে যায়।

থাকাথাকির বেলায় একজন বলে- তোমার জন্য আমার মনেও ভাবনা আছে। শাহবাগের পাঁচটনি ট্রাক বলে ইচ্ছেদের খাদ্য বানিয়ে ছুটছি নাগরিক রাতে। সোহরাওয়ার্দীর রাতের পড়শির ইচ্ছে ছুঁয়ে যায় সময়ে- বেশি লাগব না, মামা।

সবই যে ইচ্ছের খেলা। আপনি-তুমি-তুই। সবাই ইচ্ছেদের নিয়ে বসে থাকেন সময় যাপনে। সময়ের সুখ-অসুখ হয়ে। জল মানে না হিন্দু মুসলিম। পাকস্থলী চিনে না ধর্ম। ইচ্ছা বলে কথা।

তাই তো ক্ষমতা ছড়িয়ে যায় ইচ্ছের ভাবনা হয়ে, সুখ-অসুখের মিশ্রণের ইচ্ছা হয়ে। সূর্য খেলে যায়, সকাল আসে। ভাবনাদের সুখের সংসারে; ইচ্ছেদের কানাকানি পড়ে। এভাবেই চলে ইচ্ছেরা। থেকে যাওয়ার গল্প হয়ে। ইচ্ছা ছিল, আছে এবং থাকবে। প্রাণের ইচ্ছেরা ঘর করে সৃষ্টির সুর ধরে। অজানাকে জানার চেষ্টায়।

এভাবেই ইচ্ছেকাব্য। জীবনানন্দ হয়ে বনলতার ঘরে। ইচ্ছের ঘর করবে বলে। ঘর দুয়ার মাপে। বুঝতে চায় জীবনের ইচ্ছে কী? এভাবেই কথারা কথোপকথন হয়ে ইথারে, ইচ্ছের বারান্দায়। একদিন আমরাও- ইচ্ছেরা বলে যায়, দেখে যায়, দলে যায়। ইচ্ছেরা রয়ে যায় সব হয়ে। যেন ইচ্ছা উপাখ্যান। কবির মহাকাব্য।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। এর দায় ভার পুরোপুরি লেখকের। ডেইলি বাংলাদেশ-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

লেখক : কবি ও সাংবাদিক

সর্বাধিক পঠিত