Exim Bank
ঢাকা, বুধবার ২৫ এপ্রিল, ২০১৮
Advertisement
বিজ্ঞাপন দিন      

ইউনিয়নে নেয়া হচ্ছে ভোক্তা অধিকার কার্যক্রম

 মীর সাখাওয়াত হোসেন সোহেল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৩১, ১৬ এপ্রিল ২০১৮

আপডেট: ১৯:০৩, ১৬ এপ্রিল ২০১৮

৪৮০ বার পঠিত

শফিকুল ইসলাম লস্কর

শফিকুল ইসলাম লস্কর

দেশে ভোক্তাদের অধিকার আদায়ে কাজ করে যাচ্ছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান এটি। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।২০০৯ সালে ভোক্তা অধিকার আইনে প্রতিষ্ঠা করা হয় এটি। ২০১০ সালে আনুষ্ঠানিভাবে যাত্রা করে তারা। প্রথম দিকে খুব একটা সাড়াও পাওয়া যায়নি। তবে এখন যত দিন যাচ্ছে ততই সাড়া মিলছে ভোক্তাদের।

অনেকেই অভিযোগ জমা দিচ্ছেন জাতীয় ভোক্তা অভিযোগ কেন্দ্রে। সুফল  পাচ্ছেন ভোক্তারা। অস্পষ্টতা না থাকলে দ্রুতই নিষ্পত্তি হচ্ছে অভিযোগ। ২০১০-১৩ সালে অভিযোগের সংখ্যা ছিল ১৭৯টি। ২০১৪-২০১৫ সালে ২৬৪টি, ২০১৫-২০১৬ সালে ৬৬২টি, ২০১৬-২০১৭ সালে ৬১৪০টি, ২০১৭-২০১৮ সালের ১১ এপ্রিল পর্যন্ত অভিযোগ জমা পড়েছে ৭০৯৮টি। এর মধ্যে বেশির ভাগ অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে। অনিষ্পন্ন অভিযোগের সংখ্যা ৭৯৭টি। অভিযোগ বাড়ার হারই প্রমাণ করে, ভোক্তারা আগের চেয়ে অনেক সচেতন। তবে বিশাল জনগোষ্ঠীর তুলনায় তা একেবারেই কম।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সাফল্য-ব্যর্থতা আর রমজান মাসের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ডেইলি বাংলাদেশের কথা বলেছেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক মো.শফিকুল ইসলাম লস্কর। যিনি ইউনিয়ন পর্যায়েও ভোক্তাদের সচেতন করতে বদ্ধ পরিকর। কর্মনিষ্ঠ হিসেবে সুনাম রয়েছে তাঁর। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে রাখতে চান অগ্রণী ভূমিকা। কোনো রকম ছাড় দিতে রাজি নন তিনি। কথায় কথায় জানান অনেক কিছু।

প্রশ্ন: প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভোক্তাদের কতটুকু আস্থা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে?

শফিকুল ইসলাম লস্কর: আমরা যখন ২০১০সালে কার্যক্রম শুরু করি, তখন মানুষ ভোক্তা অধিকারের বিষয়ে তেমন জানতেন না। কিন্তু আমরা নিয়মিত গণশুনানী, মত বিনিময় সভা, বাজার অভিযান পরিচালনা করছি। এর সুফল আমরা পাচ্ছি। এ পর্যন্ত  ১৪ হাজারের মতো অভিযোগ জমা পড়েছে। বেশিরভাগই নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

একটা বিষয় লক্ষ্য করবেন, আমরা যখন কোন অসাধু ব্যবসায়ীকে জরিমানা করছি, তখন কিন্তু আশেপাশের সবাই বিষয়টা জানতে পারছেন। এটাও তাদের সচেতন হতে সাহায্য করছে।

অভিযোগ কেন্দ্রে সহজেই ভোক্তারা সশরীরে অথবা ই-মেইলে অভিযোগ জানাতে পারছেন। অভিযোগ পত্রে অস্পষ্টতা না থাকলে দু সপ্তাহের মধ্যেই নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।

রাজধানী বা বিভাগীয় শহরগুলোতে মানুষ সচেতন হচ্ছে। আমরা চাই ভোক্তা অধিকারের কার্যক্রম জেলা/উপজেলা পর্যায় থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে। ভোক্তা অধিকার সচেতনতায় ২০১৮ সালে জেলা শহরগুলোতে ১০০টি বিলবোর্ড লাগানো হবে।

প্রশ্ন: ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে প্রতিবন্ধকতাগুলো কি?

শফিকুল ইসলাম লস্কর: ভোক্তাদের সচেতনতা বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন ও মিডিয়াকে এগিয়ে আসতে হবে বলে আমি মনে করি। জেলা শহরগুলোতে সীমিত লোক দিয়ে বাজার অভিযান পরিচালনা করা কষ্টকর। উপজেলা পর্যায়ে এখনো কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। তবে ধীরে ধীরে সমস্যাগুলো দূর হবে।

আর দেখেন অসাধু ব্যবসায়ীরা লাভের জন্য অনেক কিছু করতে পারে।

প্রশ্ন: মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজের নাম হয়রানি ও অর্থ লোপটের অভিযোগ আসছে, এসব বিষয়ে আপনারা কি ব্যবস্থা নিচ্ছে?

শফিকুল ইসলাম লস্কর: কয়েকটি মোবাইল অপারেটর কোম্পানির বিরুদ্ধে  এ পর্যন্ত আমাদের কাছে ৯০০টির মতো অভিযোগ এসেছে। তবে একটি মোবাইল কোম্পানি এ জরিমানার বিষয়ে রিট করে। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ রয়েছে। তাই এ অভিযোগের নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না।

প্রশ্ন: ভেজাল  ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের বিষয়ে আপনাদের অবস্থান কি?

শফিকুল ইসলাম লস্কর: আমরা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধরছি। জরিমানাও করছি। ল্যাব  টেস্টের ব্যবস্থা না থাকায় ভেজাল ওষুধের বিষয়ে আমরা অভিযান চালাই না। ওটা ওষুধ প্রশাসন দেখভাল করে।

প্রশ্ন: কৃষি বীজ /সারে ওজন কম দেয়া বা ভেজাল দেয়ারও অভিযোগ পাওয়া যায়। সে ক্ষেত্রে আপনারা কি ভূমিকা রাখছেন?

শফিকুল ইসলাম লস্কর: এ অভিযোগগুলো গ্রাম বা ইউনিয়ন পর্যায় থেকে আসে। এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করা নেই। স্থানীয় ইউএনও বা এসি ল্যান্ডের কাছে অভিযোগ করলে তারা (কৃষকরা) প্রতিকার পেতে পারেন।

প্রশ্ন: নির্মাণ সামগ্রী নিয়েও ভোক্তাদের অনেক অভিযোগ আছে, এসব বিষয়ে আপনার অধিদপ্তর কি কোন ভূমিকা রাখছে?

শফিকুল ইসলাম লস্কর: সম্প্রতি কয়েকটি ইট ভাটায় অভিযান চালানো হয়েছে। ইটের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ আর উচ্চতা কমানোর অভিযোগে জরিমানা করা হয়েছে। তেমনি রডের  ইঞ্চিতেও কম দেয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অভিযানও চলছে। তবে মূল কথা ভোক্তাদের সচেতন হয়ে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করতে হবে।

প্রশ্ন: রমজান এলেই  ক্রেতারা দাম বৃদ্ধির আতঙ্কে থাকেন। নকল বা ভেজালের পরিমাণ এ সময় বেড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কি পদক্ষেপ নিচ্ছে?

শফিকুল ইসলাম লস্কর: আমরা সারা বছরই বাজার মনিটরিং করে থাকি। এবার রমজানেও ব্যতিক্রম হবে না। ঢাকায় নিয়মিত বাজার নজরদারি ছাড়া শনিবারও আমরা বাজার মনিটর করবো। প্রয়োজনে শুক্রবারও কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা আছে।

প্রশ্ন: ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি? আর ভোক্তা অধিকার নিশ্চিতে আপনাদের পরামর্শ কি?

শফিকুল ইসলাম লস্কর: প্রতি সপ্তাহের বুধবার অধিদপ্তরে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাজার অভিযানের মাত্রা আরো বাড়ানো হবে। আগামী বছর ৭ হাজার বাজার অভিযান চলবে। জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুন করতে আইনের সংশোধনী খসড়া প্রস্তুত হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে জরিমানা আদায়ের পরিমাণ বাড়বে।

আর ভোক্তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ভোক্তারা অভিযোগ দেয়াকে ঝামেলা মনে না করে, অভিযোগ কেন্দ্রে বা ই-মেইলে অভিযোগ করতে পারেন। অভিযোগ পেলে দুই সপ্তাহের মধ্যে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। মূল কথা হল– ভোক্তাদের আরো বেশি সচেতন হতে হবে। তারা কি খাচ্ছেন, কি পণ্য ক্রয় করছেন- এ বিষয়ে সচেতন ও সর্তক হতে হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএস/এলকে

সর্বাধিক পঠিত