Alexa ইউনিয়নের সব তথ্য জানা যাবে ‘আমার ইউপি’ অ্যাপে

ঢাকা, শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৬ ১৪২৬,   ২১ মুহররম ১৪৪১

Akash

ইউনিয়নের সব তথ্য জানা যাবে ‘আমার ইউপি’ অ্যাপে

মনদীপ ঘরাই ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:২৩ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

মনদীপ ঘরাই

মনদীপ ঘরাই

কর্ম-পরিচয়ে মনদীপ ঘরাই একজন সরকারি কর্মকর্তা। লেখালেখিও করেন। করেন আরো অনেক কিছু। যার অধিকাংশই উল্লেখযোগ্য। এবার কোনো প্রকারের সরকারি অনুদান ছাড়াই তৈরি করলেন ‘আমার ইউপি’ অ্যাপ। যার মাধ্যমে যে কোনো নাগরিক জানতে পারবেন ইউনিয়ন পরিষদের সব তথ্য। এরই মধ্যে বিষটি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে মনদীপ ঘরাই কথা বলেছেন ডেইলি বাংলাদেশ’র সঙ্গে। সাক্ষাৎকার গ্রহণ: রনি রেজা

ডেইলি বাংলাদেশ: কেমন আছেন? 

মনদীপ ঘরাই: সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় ভালো আছি। আমি বর্তমানে বাঁচা মানুষ। বর্তমান কাউকে খারাপ রাখে না। 
ডেইলি বাংলাদেশ: সম্প্রতি ‘আমার ইউপি’ নামে যে অ্যাপ তৈরি করেছেন এটি সম্পর্কে জানতে চাই।

মনদীপ ঘরাই: ‘আমার ইউপি’ অ্যাপটা দেশের প্রথম ইউনিয়ন পর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ ডিরেক্টরি অ্যাপ। এখানে সকল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার, সচিব, উদ্যোক্তাদের যোগাযোগের নাম্বার আছে। সেই সঙ্গে ইউপির জিওলোকেশন অন্তর্ভুক্ত করা আছে অ্যাপে। যে কেউ তার বর্তমান অবস্থান থেকে ইউনিয়ন পরিষদের লোকেশন নেভিগেট করতে পারবেন। অ্যাপে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সন্নিবেশ করা আছে। সেটা হলো- ইউনিয়ন পর্যায়ে ভার্চ্যুয়াল ব্লাড ডোনার ডাটাবেইজ। ইউনিয়নে বসবাসরত যে কেউ নিবন্ধন করতে পারবেন রক্তদাতা হিসেবে। সেই সঙ্গে প্রয়োজনের সময় খুঁজে নিতে পারবেন রক্তদাতার তথ্য ও যোগাযোগের নাম্বার।
ডেইলি বাংলাদেশ: আমরা জানি- সরকারের কোনো বরাদ্দ না নিয়ে অ্যাপটি তৈরি করেছেন। কিভাবে সম্ভব হলো?

মনদীপ ঘরাই: অ্যাপ বানাতে খরচ কিন্তু বেশি না। দরকার শুধু টিমওয়ার্ক আর ডেডিকেশন। আমি ভাগ্যবান যে, সরাফত (সরদার সরাফত আলী) স্যারের মতো একজনকে অভিভাবক হিসেবে পেয়েছি।তিনি আমাদের উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন। সেই সঙ্গে মাহবুব হাসান রনি, সামি, নাহিদ, মাসুদ ও মাহবুবুরের মতো টিম মেম্বার ছিল বলেই পাগলামি করে দেখা বড় স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করতে পেরেছি। সবার নির্ঘুম রাত, ইউপির সঙ্গে একটানা যোগাযোগ আর অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের কাজ মিলেই ‘আমার ইউপি’। সরকারের বাজেট যেহেতু নেইনি, চেষ্টা করেছি দৈনন্দিন কর্মঘণ্টার বাইরে কাজ করে আগানোর জন্য।

ডেইলি বাংলাদেশ: চিন্তাটা প্রথম কিভাবে এলো? 

মনদীপ ঘরাই: দুইটি ভিন্ন ঘটনা মিলে চিন্তাটা এসেছে। প্রথমত, অনেক সময় অফিসিয়াল দরকারে বিভিন্ন ইউপির সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজন হতো। সে সময় দেখলাম, তাৎক্ষণিক নাম্বার জোগাড় করা কষ্টসাধ্য। এরপর ভাবলাম, আমাদেরই যদি এগুলো জোগাড় করতে সমস্যা হয়, তাহলে সব মানুষের তো একই সমস্যা হওয়ার কথা। সে ভাবনা থেকেই ডিরেক্টরি বা ফোনবুকের ধারণা। আর বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতির কথা ভেবে ইউনিয়ন পর্যায়ে ভার্চ্যুয়াল ব্লাড ডোনার ডাটাবেইজ তৈরি করেছি। শহরের ডোনারদের সঙ্গে গ্রামাঞ্চলের ডোনারদের অন্তর্ভুক্ত করাই ছিল লক্ষ্য।

ডেইলি বাংলাদেশ: এটির সেবা সর্বস্তরে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে বিশেষ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন কি না?

মনদীপ ঘরাই: সেবা সর্বস্তরে পৌঁছে দেয়ার জন্য এখন শুধু দরকার মানুষকে জানানো। মিডিয়া, ফেসবুক, অফিসিয়াল চিঠি সব ফর্মেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আর, স্বপ্নের উদ্যোগ তো, তাই যার সঙ্গেই দেখা হয়, ইনস্টল করে সেবা নিতে বলি।

ডেইলি বাংলাদেশ: মাঝে-মধ্যেই দেশের কল্যাণে, মানুষের কল্যাণে আপনার গৃহীত উদ্যোগের কথা খবরে আসে। এতসব ভালো কাজের উৎসাহ কিভাবে পান? উল্লেখযোগ্য কোনো ঘটনা আছে কি?

মনদীপ ঘরাই: বাবা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। দেশকে ভালোবাসাটা তার কাছেই শেখা। শুরুর উৎসাহটা তার থেকেই। আর মানুষের জন্য ভালোবাসাটা আমার মনে হয় সবারই আছে। প্রকাশটা শুধু ভিন্ন। মা এবং স্ত্রী সবসময় সাহস যোগান। এটা না হলে ব্যস্ত সময়ের বাইরে এসব কাজের জন্য সময় বের করা কঠিন হতো।
ডেইলি বাংলাদেশ: কখনো কোনো প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখী হয়েছেন কি? কিভাবে তা কাটিয়েছেন?

মনদীপ ঘরাই: এখন পর্যন্ত তেমন কোনো প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হইনি। তবে, পথে চলতে চলতে শেখা, মানুষ ভালো কাজ পছন্দ করে, কিন্তু তার স্বার্থের সঙ্গে সংঘাত হলে সেটা মেনে নিতে পারেন না। তখন অবলীলায় সেই শুভ উদ্যোগের বিপক্ষে চলে যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ: বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে বলুন...

মনদীপ ঘরাই: রুটিন কাজ তো আছেই। সেই সঙ্গে আমার ইউপিকে সমৃদ্ধ করার জন্য কাজ করছি। আর একটু-আধটু লেখালিখি করি। নিজের প্রথম উপন্যাস ‘বিন্দু’ লেখার কাজে হাত দিয়েছি।

ডেইলি বাংলাদেশ: পরবর্তী উদ্যোগ কী? 

মনদীপ ঘরাই: এখন বলা কঠিন। ভেবে-চিন্তে কাজ করার মানুষ আমি না। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাটা আমার কেন যেন হয়ে ওঠে না। জীবন, পড়াশোনা, ক্যারিয়ার কোনো ক্ষেত্রেই রুটিন মতো গুছিয়ে ভবিষ্যতের ভাবনা ভাবা হয় না। তবে, হ্যাঁ। আমি অতি মাত্রায় প্রতিক্রিয়াশীল। কোনো একটা কিছু করার তাগিদ ভেতর থেকে অনুভব করলে সব চিন্তা ভুলে সেটার পেছনে লেগে যাই। অভয়নগর উপজেলায় সব সামাজিক উদ্যোগ থেকে শুরু করে আমার ইউপি সবকিছুই মনের তাগিদ থেকে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়ে করা।

ডেইলি বাংলাদেশ: নতুন প্রজন্মের কাছে কী বার্তা পৌঁছাতে চান? 

মনদীপ ঘরাই: বার্তা একটাই। সবকিছুর আগে দেশকে ভালোবাসো। দেশকে ভালোবাসতে কোনো সম্পদ বা যোগ্যতা লাগে না। লাগে নির্মল মন আর সুস্থ্য মানসিকতা। সব শিক্ষার আগে প্রয়োজন দেশকে ভালোবাসা, মানুষকে ভালোবাসার শিক্ষা। তাহলে, অনেক নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারতাম আমরা।

ডেইলি বাংলাদেশ: ডেইলি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

মনদীপ ঘরাই: আপনাকে এবং ডেইলি বাংলাদেশকেও ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর