Alexa ইউটিউবে মাছ চাষের ভিডিও দেখিয়ে প্রতারণা  

ঢাকা, শনিবার   ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২২ ১৪২৬,   ০৯ রবিউস সানি ১৪৪১

ইউটিউবে মাছ চাষের ভিডিও দেখিয়ে প্রতারণা  

পঞ্চগড় প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:১১ ১৭ নভেম্বর ২০১৯  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

মাছ চাষের ভিডিও তৈরি করে প্রচার করা হচ্ছে ইউটিউবে। তারপর প্রশিক্ষণের নামে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। অভিনব এই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা বেকার যুবকরা।

পঞ্চগড় আটোয়ারী উপজেলার সদর ইউপিতে বায়োফ্লক পদ্ধতির মাধ্যমে চৌবাচ্চায় কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করে মাছ চাষকে বেশি লাভজনক ব্যবসা দেখিয়ে ভিডিও তৈরি তা ইউটিউবে প্রচার করা হচ্ছে। 

আটোয়ারী উপজেলার ছোট দাপ এলাকার দবিরুল ইসলামের ছেলে শাহরিয়ার কবীর সজল এনি বিডি নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে এই ভিডিও প্রকাশ করেন। ফলে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বেকার যুবকরা এই বায়োফ্লক মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে প্রশিক্ষণ নিতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। 

কয়েক মাস আগে তার নিজ বাড়ির উঠানে একটি কৃষি প্রজেক্ট তৈরি করে যার কোনো অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে বড় ধরনের লোকসান পড়তে হয় তাকে। সেই লোকসানের রেশ কাটতে না কাটতে এরই মধ্যে আবার নতুন ফাঁদ তৈরি করে সজল মাছ চাষের একটি বায়োফ্লক প্রজেক্ট তৈরি করে সে। বর্তমানে বায়োফ্লক প্রজেক্টের প্রায় চার মাস হওয়ার পরও তিনি কোথাও মাছ বিক্রি করতে পারেননি। অথচ ভিডিও প্রচারের মাধ্যমে বলা হয়েছে দুই মাসে সাত লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।

এদিকে দুই মাসে সাত লাখ টাকা লাভজনক ব্যবসা দেখিয়ে বায়াফ্লক মৎস্য চাষের ভিডিও তৈরি করে ইউটিউবে প্রচার করে ব্যাপক সাড়া পায় সে। এরই ধারাবাহিকতায় ইউটিউব চ্যানেলে তার ফোন, ইমেল, ইমো ব্যবহার করে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আগ্রহী ব্যক্তিরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান তিনি ভারতের ক্যারেলায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং বর্তমানে নিজেই নিজের বাড়িতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। দেশের বিভিন্ন এলাকার থেকে আসা প্রতিজনের কাজ থেকে পাঁচ হাজার টাকা অগ্রিম প্রশিক্ষণ ফি নিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার ও শনিবার প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা করেন শাহরিয়ার কবীর সজল। তিনি নিজের পরিচয় দেন ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং ভারতের ক্যারেলা থেকে মৎস্য চাষের উপর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

শাহরিয়ার কবীর সজলের বাসায় পরিদর্শনে গিয়ে তার প্রশিক্ষণের সনদ দেখতে চাইলে তিনি এবং তার মা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন।   


এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ডা. আফতাব হোসেন বলেন, আমার উপজেলা কর্মকর্তা বিষয়টিকে খতিয়ে দেখার জন্য ঘটনাস্থলে গিয়ে অপমানিত হয়েছেন। তিনিও এ ব্যাপারে ইউএনও’র কাছে অভিযোগ করেন।

জেলা কর্মকর্তা আরো বলেন, যিনি প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন তিনি কোন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন এবং সেই প্রতিষ্ঠানের সনদ আছে কিনা সবাইকে দেখানো তার দায়িত্ব। 

বিভাগীয় কর্মকর্তা লতিফুর রহমান বলেন, প্রশিক্ষণের নামে কেউ যাতে প্রতারিত না হয় সে ব্যাপারে আমি জেলা কর্মকর্তাকে নির্দেশ করব।

ইউএনও শারমিন সুলতানা জানান, বায়োফ্লক প্রশিক্ষণের সনদ না থাকার কারণে সাংবাদিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন তিনি। বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন।  


 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ