Alexa ইংলিশদের নিমন্ত্রণে অজিদের দাপট

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৬ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ২ ১৪২৬,   ১৩ জ্বিলকদ ১৪৪০

ইংলিশদের নিমন্ত্রণে অজিদের দাপট

আসাদুজ্জামান লিটন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:৩৫ ১১ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১৭:৫৪ ১১ জুলাই ২০১৯

ছবি: আইসিসি

ছবি: আইসিসি

ভারত-নিউজিল্যান্ড ম্যাচের মধ্য দিয়ে শেষ এবারের বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনাল। এখন অপেক্ষা দ্বিতীয় তথা শেষ সেমিফাইনালের। গ্রুপ পর্ব শেষে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় দল অস্ট্রেলিয়া বৃহঃবার এজবাস্টনে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে খেলবে তিনে থাকা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। 

যে কয়টি দলকে টুর্নামেন্টের হট ফেভারিট ধরা হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া তার ভেতর একটি। বিশ্বকাপের আগের বছরটা বাজে কাটানোর কারণে অবশ্য অনেকেই তাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তবে বিশ্বকাপের গন্ধ পেতেই যেনো আমূল বদলে যায় সর্বশেষ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা। 

বিশ্বকাপের চতুর্থ ম্যাচ থেকে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। আফগানস্তানকে অনেকটাই উড়িয়ে দিয়ে আসরে শুভ সূচনা করে তারা। অবশ্য উইন্ডিজের বিপক্ষে ১৫ রানের কষ্টার্জিত জয় পেতে বেশ বেগ পেতে হয় তাদের। 

তৃতীয় ম্যাচে এসে হারের মুখ দেখে অস্ট্রেলিয়া। ভারতের কাছে পরাজিত হয় ৩৬ রানে। তবে এরপর একটানা ৫ ম্যাচে ছুটে চলে তাদের জয়রথ। পাকিস্তান, শ্রীলংকা, বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের কেউই বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারেনি অজিদের সামনে। ফলে প্রথম দল হিসেবে নিশ্চিত করে সেমিফাইনাল।    

গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে এসে অবশ্য হারের মুখ দেখে অস্ট্রেলিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ১০ রানের পরাজয়ে গ্রুপপর্ব দ্বিতীয় স্থান নিয়ে শেষ করে অ্যারন ফিঞ্চের দল। ৯ ম্যাচে ৭ জয় ও ২ হার নিয়ে ১৪ পয়েন্ট অর্জন করে তারা।  

অন্যদিকে এবারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডও ছিল হট ফেভারিট দলগুলোর ভেতর একটি। ২০১৫ বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বে বিদায়ের পর নিজেদের আমূল বদলে ফেলা ইংল্যান্ড দল নিয়ে যে কেউই বাজি ধরলে অবাক হওয়ার কিছু ছিলোনা। ব্যাট বল এমনকি অলরাউন্ডার সবদিক দিয়েই অসাধারণ দল ছিল ইংল্যান্ড। এছাড়া নিজেদের মাঠে খেলা হওয়াও তাদের ফেভারিট ধরার অন্যতম কারণ ছিল।

উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়েই বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১০৪ রানের বড় জয়ে মিশন শুরু করে তারা। তবে ধাক্কা খায় পরের ম্যাচেই। পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচটি হেরে যায় ১৪ রানে। 

বাংলাদেশকে ১০৬ রানে হারিয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় থ্রি লায়ন্সরা। উইন্ডিজকে ৮ উইকেটে হারানোর পর আফগানদেরও উড়িয়ে দেয় ১৫০ রানের ব্যবধানে। 

উড়তে থাকা ইংল্যান্ডকে মাটিতে নামিয়ে আনে শ্রীলংকা। ২০ রানে লংকানদের সঙ্গে হারার পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও তারা হেরে বসে ৬৪ রানে। এ অবস্থায় সেমিফাইনাল কঠিন হয়ে পড়ে তাদের জন্য। 

তবে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ে ইয়ন মরগানের দল সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলে। গ্রুপ পর্বের ৯ ম্যাচে ৬ জয় ও ৩ হারের মুখ দেখে থ্রি লায়ন্স। ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে থেকে শেষ করে গ্রুপ পর্ব।

অস্ট্রেলিয়ার সাফল্যের পেছনে মূল কারিগর ছিল দলীয় পারফরমেন্স। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং সবদিকেই দুর্দান্ত ছিল অজিরা। ব্যাট হাতে ফিঞ্চ, স্মিথ, ওয়ার্নার, খাজা প্রত্যেকেই পেয়েছেন সেঞ্চুরি। বোলিংয়ে স্টার্ক নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনে থেকে। এছাড়া কামিন্স, জাম্পা, কোল্টারনাইলসহ প্রত্যেকেই প্রয়োজনের সময় এগিয়ে এসেছেন দলের জন্য।

ইংল্যান্ডের সেমিতে ওঠার পেছনে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে দলীয় পারফরমেন্স। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং ৩ বিভাগেই সমানভাবে পারফর্ম করেছে তারা। ব্যাট হাতে জেসন রয়, বেয়ারস্টো, মরগান, রুট পেয়েছেন সেঞ্চুরির দেখা। মরগান তো ১ ইনিংসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড করেছেন আফগানদের বিপক্ষে।

বোলিং দিয়েও বরাবরই প্রতিপক্ষকে কুপোকাত করেছে ইংল্যান্ড। জোফরা আর্চার, মার্ক উড, বেন স্টোকস, মঈন আলী বিভিন্নসময় জ্বলে উঠে ধ্বসিয়ে দিয়েছেন প্রতিপক্ষকে। বেন স্টোকস ও ক্রিস ওকস তো টুর্নামেন্টেরই সেরা কিছু ক্যাচ ধরে ফেলেছেন এরই মাঝে।

দু’দলের সর্বশেষ ৯ দেখায় ৭ বার জিতেছে ইংল্যান্ড। আবার গ্রুপপর্বে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরেছিল ইংলিশরা। তাই এই দ্বৈরথে পরিষ্কার ফেভারিট কেউ থাকছে না। তাই দ্বিতীয় সেমিফাইনালটি হতে পারে বিশ্বকাপের অন্যতম একটি “ক্লাসিক এনকাউন্টার”।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএল/সালি