আয় যেভাবে মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে

ঢাকা, রোববার   ২৬ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ১২ ১৪২৬,   ২০ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

আয় যেভাবে মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে

রাজ চৌধুরী

 প্রকাশিত: ১২:৪৮ ২ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১২:৪৮ ২ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

অভাবে থাকলে মানুষ নাকি ভুল সিদ্ধান্ত নেই। কখনো কি এ বিষয়ে ভেবে দেখেছেন? তবে সম্প্রতি এক গবেষণা অনুসারে, যাদের আর্থিক অবস্থা, মাসিক আয় ব্রেইনের উপর প্রভাব ফেলে।ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের গবেষকরা ২০ থেকে ৮৯ বছরের ৩০৪ জনের উপর গবেষণাটি করেন। সেজন্য তারা সকলের ব্রেইন স্ক্যান করেন।গবেষকরা দু’টি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেন; ১) যাদের উপর গবেষণাটি করা হয়েছে তাদের মস্তিষ্কে গ্রে ম্যাটারের পরিমাণ কেমন ও ২) তাদের ব্রেইনের নেটওয়ার্ক কেমনভাবে বিন্যস্ত। ব্রেইনের যেসব স্থানের কাজ একই ধরণের তাদের প্রায় সকলের ব্রেইনে সেগুলোর মিল পাওয়া গেছে, যেমন : ব্রেইনের যে অংশ কথা বলা নিয়ন্ত্রণ করে সেই অংশটি সবারই একই রকম আবার অন্যান্য কিছু অংশে ভিন্নতা পাওয়া গিয়েছে। ব্রেইনের এসব আলাদা আলাদা স্থানের কাজ হিসেবে তাদের পৃথক করতে পারাটা ভালো লক্ষণ বলে বিবেচিত।গবেষকেরা আলাদা আলাদা সব অংশগুলো তুলনা করেন। গবেষকেরা বিভিন্ন ব্রেইনের স্ক্যান করা ছবি তাদের সবার অর্জিত শিক্ষা, সামাজিক অবস্থান, তাদের আয় ইত্যাদির ভিত্তিতে আলাদা করেন।

দেখা যায় মধ্যবয়ষ্ক (যাদের বয়স ৩৫ থেকে ৬৪) মানুষদের গ্রে ম্যাটার বেশি। তাছাড়াও তাদের ব্রেইনের “segregation” তথা ব্রেইনের আলাদা অংশের নেটওয়ার্কিং ভালো।তাছাড়াও তাদের স্মৃতিশক্তিও বেশি এবং স্মৃতিভ্রংশ তার সম্ভাবনা তথা কোনো কিছু প্রায় একদম ভুলে যাওয়ার প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো। সবচেয়ে তাজ্জব ঘটনা হচ্ছে, এই বয়সসীমার মানুষরা ছোটবেলায় কী রকম আর্থিক অবস্থার মধ্য দিয়ে বড় হয়েছে তা কোনো ব্যাপার না। অর্থাৎ,শৈশবকালে কারো পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো বা খারাপ যাই হোক, এই বয়সসীমার সকলেরই একই ধরণের মানসিক অবস্থা দেখা যায়।সকলেরই আর্থিক দিক বিবেচনা করলে মানসিক অবস্থা ভালোই দেখা যায়।শৈশবকালের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ব্রেইনের কোনো পরিবর্তন না করতে পারলেও যৌবনকালের আর্থিক অবস্থা তাদের ব্রেইনের পরিবর্তন করতে সক্ষম।

অন্যদিকে, যাদের মাসিক আয় খুব বেশি না অর্থাৎ যারা কম বেতনে কাজ করেন তারা ভালো মানের খাবার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাদের অল্প উপার্জনের জন্য হয়তো তারা খুব ভালো মানের জায়গায় বসবাস করতে পারতেন না। আর্থসামাজিক অবস্থা খুব ভালো না হওয়ায় তাদের মানসিক চাপও ছিলো বেশি। অতিরিক্ত চাপে থাকায় তাদের হরমোনাল ক্রিয়াও অস্বাভাবিক হয়েছে।এতে তাদের শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক ক্ষতিও হয়েছে। ইউটিডি-র এক নিউরোবিজ্ঞানী গাগান উইগ বলেছেন, “আমরা এসব মানুষদের ব্রেইনের চাপের বিষয়ে জানতে পেরেছি।”এই গবেষণার বিশেষ গবেষক উইগ আরো জানান,“ধারণা করতে পেরেছি সবার জীবনব্যাপী অভিজ্ঞতা তাদের ব্রেইনের কিছু পরিবর্তন ঘটিয়েছে। পূর্বের আরো কয়েকটি গবেষণার ফল থেকে পাওয়া যায়, আর্থসামাজিক অবস্থা খারাপ হলে সেটা আমাদের চিন্তার ধরণে প্রভাব ফেলে।

“সায়েন্স ইন টু থাউস্যান্ড এন্ড থার্টিন” থেকে জানা গেছে, একজন ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তিক ফাংশন সেই ব্যক্তির আর্থিক সমস্যার জন্য মানসিক চাপে থাকার ফলে অনেকটা হ্রাস পায়। অনেকক্ষেত্রে এটি সারারাত না ঘুমানোর মতোই। আরেকটা গবেষণায় পাওয়া গেছে, যেসকল মানুষজন বাজে আর্থিক অবস্থার মধ্য দিয়ে তাদের দিন পার করেছেন তাদের স্মৃতিশক্তি যেসব মানুষ পার করেননি তাদের চেয়ে খারাপ।বাকি দুই গ্রুপ অর্থাৎ যাদের বয়স ২০ থেকে ৩৪ এবং ৬৪ এর উপরে তাদের ব্রেইনে আর্থসামাজিক প্রভাবে কোনো পরিবর্তন দেখা যায় নি। হতে পারে যাদের আর্থসামাজিক দিক ভালো ছিলো তারাই ৬৪ বছরের বেশি বেঁচেছেন অথবা এমনো হতে পারে যে যাদের বয়স বেশি তারা ব্রেইন থেকে সে চিন্তা বাদই দিয়েছেন। বিতর্কের বিষয় এই যে, যাদের উপার্জন কম তারা বিভিন্ন খরচের ক্ষেত্রে বেশি হিসাবী হন। তাছাড়াও নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের চিন্তা বেশি থাকে। এত মানসিক দুঃশ্চিন্তার পর কারো ব্রেইনের স্বাস্থ্য আর ঠিক থাকা সম্ভব না। আর এই “পরিপূর্ণ না থাকা” এর চিন্তার জন্যেও আর্থসামাজিক অবনতি হতে পারে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস

Best Electronics