আড়াইহাজারে আম নিয়ে সংঘর্ষে প্রাণ ঝরল স্কুলছাত্রের

ঢাকা, শুক্রবার   ১০ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ২৬ ১৪২৭,   ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

আড়াইহাজারে আম নিয়ে সংঘর্ষে প্রাণ ঝরল স্কুলছাত্রের

আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৪৪ ২৭ মে ২০২০  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে একটি আম বাগান থেকে আম পাড়া নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আয়ুব আলী নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।  

নিহত আয়ুব আলী কালাপাহাড়িয়া ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় ইজারকান্দী পূর্বপাড়া এলাকার জয়নালের ছেলে। সে স্থানীয় রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

বুধবার বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত দফায় দফায় চলা হামলা পাল্টা-হামলায় দুই গ্রুপের বেশ কিছু বসত বাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানার পুলিশ, খাগকান্দা নৌ-ফাঁড়ির ও কালাপাহাড়িয়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

এ সময় পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে ২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তবে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 

স্থানীয় একটি সূত্রে জানা যায়, আম বাগান মালিক ইউছূফ আলী ও স্থানীয় বাসিন্দা শাজাহান গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষে একপর্যায়ে ইউপি ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মাহাবুব দুই গ্রুপের পক্ষ নেন। 

৫ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা বলেন, ইজারকান্দি কবরস্থান এলাকায় মুছা আহমেদের মালিকানাধীন একটি লাইব্রেরি রয়েছে। এর কিছু অদূরেই ইউছূফের মালিকানাধীন একটি আম বাগান রয়েছে। শাজাহান কাউকে না বলে বাগান থেকে আম পেড়ে খায়।

পরে এ নিয়ে বাগানের কর্মচারী আয়ুব আলীর সঙ্গে প্রথমে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এ ঘটনায় বুধবার বিকেল ৩টার দিকে আয়ুব আলীকে মারধর করা হয়। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ইউপি ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন শাজাহানের পক্ষে ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মাহাবুব ইউছূফের পক্ষ নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। উভয় গ্রুপের প্রায় তিন শতাধিক লোক সংঘর্ষে অংশ নেন। সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়। 

ওই বাসিন্দা  আরো বলেন, আমি শুনেছি গুলিবিদ্ধ হয়ে আয়ুব আলী গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার সময় রাস্তায় তার মৃত্যু হয়। রাসেল নামে আরো এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। 

স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, জালাল উদ্দিন ও তার ভাইয়ের ১০টি বাড়ি লুট করা হয়েছে। এ সময় ২৬টি বসত ঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। বসত ঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়েছেন সাধু, জাকির, লিটন, সাদ্দাম হোসেন, করিম, খোকন, রউফ মিয়া ও তাজু। এ সময় রাসেল, জালাল, খোকন, আলী নুর, ছাদ্দামের ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। হামলাকারীরা খোকনের খামারে ঢুকে প্রায় ১ হাজার মুরগি লুট করে নিয়ে গেছে। 

কালাপাহাড়িয়া ইউপি ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ মিথ্যা। আমি করোর পক্ষ নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়নি। সংঘর্ষে আমার কোনো ভূমিকা নেই। আমি এর আগেও বিভিন্ন ঘটনায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু একটি মহল উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার নাম জড়ানোর চেষ্টা করছেন। 

তিনি আরো বলেন, ইউপি যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস ছাত্তার ও তার লোকজন ইউছূফের পক্ষ নিয়ে আমার বাড়ি ঘরসহ অনেকের বসত ঘর ভাঙচুর করেছেন। 

কালাপাহাড়িয়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনর্চাজ শহিদুল আলম বলেন, সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আয়ুব আলী নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি ইজারকান্দি পূর্বপাড়া এলাকার জয়নালের ছেলে। এ সময় পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে ২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়েছে।

আড়াইহাজার থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, গুলিবিদ্ধ হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কিছু বসতঘর ভাঙচুর করা হলেও কারোর বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেনি। মাহাবুব গ্রুপের সঙ্গে সাদ্দাম গ্রুপের আগে থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ