আড়াইশ’ বছরের ঐতিহ্য, শ্রী শ্রী কান্তজিউ বিগ্রহের যাত্রা শুরু

ঢাকা, শনিবার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১১ ১৪২৭,   ০৮ সফর ১৪৪২

আড়াইশ’ বছরের ঐতিহ্য, শ্রী শ্রী কান্তজিউ বিগ্রহের যাত্রা শুরু

দিনাজপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৪৯ ৯ আগস্ট ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী কান্তনগর মন্দির হতে শ্রী শ্রী কান্তজিউ বিগ্রহ নৌপথে শহরের রাজবাটীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। আড়াইশ বছরের পুরনো ঐতিহ্য ও রাজপরিবারের প্রথা অনুযায়ী ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে হাজারো ভক্তের পূজা অর্চনায় কান্তজিউ বিগ্রহের যাত্রা শুরু হয়েছে।

রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার কান্তনগরে শ্রী শ্রী কান্তজিউ বিগ্রহ নৌপথে দিনাজপুর শহরের রাজবাড়ির উদ্দেশে যাত্রার উদ্বোধন করেন দিনাজপুর-১ আসনের এমপি ও হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট্রের সহ-সভাপতি মনোরঞ্জন শীল গোপাল। এ সময় সঙ্গে ছিলেন, রাজ দেবোত্তর এজেন্ট রনজিৎ কুমার, স্বরূপ বকসি বাচ্চু, শ্যামল কুমার ঘোষ।

তবে এবার প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে ভক্তবৃন্দের প্রতি জনসমাগম না করার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কান্তজিউ যাত্রা পথে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা।

ঐতিহ্যবাহী কান্তনগর মন্দির হতে পূজা অর্চনা শেষে কান্তজিউ বিগ্রহ ঢেপা নদীর কান্তনগর ঘাটে আনা হয়। সেখান থেকে নৌবহর নিয়ে যাত্রা শুরু হয় দিনাজপুর শহরের সাধুর ঘাটের উদ্দেশে। দীর্ঘ প্রায় ২৫ কিলোমিটার নদীপথে নৌকা যোগে দিনাজপুর আসার সময় চিরাচরিত নিয়মানুযায়ী এর আগে হিন্দু ধর্মালম্বী হাজার হাজার ভক্ত নদীর দু’কূলে কান্তজিউ বিগ্রহকে দর্শনের জন্য ভিড় জমালেও এবার তার চিত্র ছিল ভিন্ন।

সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নদীর দুই কূলে কান্তজিউ বিগ্রহকে দেখতে আসেন। বিভিন্ন স্থান থেকে আগত হিন্দু পূণ্যার্থীরা তাদের বাড়ি থেকে আনা ফল, দুধ ও অন্যান্য সরঞ্জামাদী নিয়ে শ্রী শ্রী কান্তজিউ বিগ্রহকে উৎসর্গ করেন। 

কান্তনগর ঘাট থেকে দিনাজপুর শহরের সাধুরঘাট পর্যন্ত ৫০টি ঘাটে কান্তজিউ বিগ্রহ বহনকারী নৌকা ভিড়ানো হচ্ছে। এ কারণে বিভিন্ন ঘাটে ও শহরের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি ঘাটেই পূর্ব থেকে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। 

রাত সাড়ে ৮টায় কান্তজিউ বিগ্রহ সাধুঘাটে এসে পৌঁছালে দিনাজপুর রাজদেবোত্তর এস্টেটের সভাপতি ও ডিসি মাহমুদুল আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কান্তজিউ বিগ্রহ গ্রহণ করবেন। পরে বিগ্রহটি শহরের বিভিন্ন মন্দিরের পূজা-অর্চনা শেষে রাজবাড়ির মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হবে। রোববার দিবাগত রাত ১২টায় শ্রী শ্রী কান্তজিউ বিগ্রহ দিনাজপুরের রাজবাড়ি কান্তজিউ মন্দিরে স্থাপন করা হবে। 

প্রতি বছর কান্তজিউ বিগ্রহ আসার মধ্য দিয়ে মনোবাসনা পূরণ এবং বিশ্বে যাতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক এ কামনা করে আগত ভক্ত ও পূণ্যার্থীরা।

উদ্বোধনের সময় দিনাজপুর-১ আসনের এমপি মনোরঞ্জন শীল গোপাল বলেন, রাজ পরিবারের রীতি অনুযায়ী কান্তজিউ বিগ্রহ ৯ মাস কান্তনগর মন্দিরে এবং ৩ মাস দিনাজপুরের শহরের রাজবাড়িতে অবস্থান করবে। সেই প্রথা অনুযায়ী যুগ যুগ ধরে এ নিয়ম চলে আসছে। তবে এবার প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ভক্তদের উপস্থিতি সীমিত করা হয়েছে। 

এ তিন মাসে রাজবাড়িতে প্রতিদিন প্রভাতী নামকীর্ত্তণ ও প্রতি বাংলা মাসের প্রথম শনিবার কমিটির পক্ষ থেকে ভোগের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন ভক্ত প্রতিদিন ভোগের ব্যবস্থা করে থাকেন।
 
এবার বিশেষ প্রার্থনায় প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সুস্থতা ও মৃত আত্মার শান্তি কামনা এবং জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হবে। এ সময় বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্ব যেন এই মহামারি থেকে দ্রুত রক্ষা পায় সে নিয়েও প্রার্থনা করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম